চলে গেলেন রউফ চৌধুরী

র‌্যাংগস গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আবদুর রউফ চৌধুরী (৮৬) গতকাল শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গুলশানের নিজ বাসায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি ১ ছেলে ও ২ মেয়ে রেখে গেছেন। গতকাল শনিবার বাদ আসর গুলশানের আজাদ মসজিদে তার জানাজা হয়। সেখানে রাজনীতিবিদ, শিল্পপতিসহ সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা অংশ নেন। জানাজা শেষে তার মরদেহ নেওয়া হয় বিক্রমপুরের পৈতৃক বাড়িতে। সেখানে বাদ এশা পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়। তারা ছেলে রোমো রউফ চৌধুরী বর্তমানে ব্যাংক এশিয়ার চেয়ারম্যান। এ ছাড়া দুই মেয়ে হলেন রোমানা রউফ চৌধুরী ও সোহানা রউফ চৌধুরী।

এদিকে রউফ চৌধুরীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান, রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. লিয়াকত আলী খাঁন মুকুলসহ বিভিন্ন শিল্প গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা। এ ছাড়া বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গণমাধ্যমে শোকবাণী পাঠিয়েছেন।

রউফ চৌধুরী ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারের মূল কোম্পানি মিডিয়া ওয়ার্ল্ড লিমিটেডেরও একজন পরিচালক ছিলেন। ‘সকালের খবর’ নামে একটি বাংলা দৈনিক বের করেছিলেন। তিনি ব্যাংক এশিয়ার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক চেয়ারম্যান। তার হাত ধরে দেশে গড়ে উঠেছে ৫০টির মতো প্রতিষ্ঠান। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে বিজনেস ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে স্নাতক করেছেন। অটোমোবাইল, টেলিকম, ফার্মাসিউটিক্যালস এবং পেট্রোলিয়ামসহ বিভিন্ন শিল্পে বিস্তৃত অভিজ্ঞতা ছিল তার। বাংলাদেশে তিনি দুটি আমেরিকান ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির রেসিডেন্ট ম্যানেজার ছিলেন। যমুনা অয়েল কোম্পানির সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট পদেও দায়িত্ব পালন করেছেন রউফ চৌধুরী। এর মাধ্যমে দেশে পেট্রোলিয়াম পণ্যের বাজার উন্নয়নে দীর্ঘ ১৫ বছর অবদান রাখার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি।

এ ছাড়া, ৩৫ কোম্পানির সমন্বয়ে গঠিত র‌্যাংগস এবং সি রিসোর্সেস গ্রুপ- কোম্পানি দুটি তার গতিশীল নেতৃত্বেই গড়ে উঠেছে। তার নেতৃত্বে অল্প সময়ের মধ্যেই কোম্পানি দুটি বিরাট সাফল্য অর্জনে সক্ষম হয়।

রউফ চৌধুরীর মৃত্যুতে শোক জানিয়ে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান বলেছেন, ‘তার জীবন, আদর্শ এবং কর্ম আমাদের নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। আমি রউফ চৌধুরীর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। আল্লাহপাক তাকে জান্নাতুল ফিরদাউস নসিব করুন। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি মরহুমের পরিবার যেন এই অপূরণীয় ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারে।’