আজ এ কে এম শামসুজ্জোহার ৩৬তম মৃত্যুবার্ষিকী

ভাষাসৈনিক ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং প্রাক্তন গণপরিষদ ও সংসদ সদস্য এ কে এম শামসুজ্জোহার ৩৬তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৮৭ সালের এই দিনে বর্ষীয়ান এই জননেতা ইন্তেকাল করেন। তাকে ২০১২ সালে মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক দেওয়া হয়।

এ কে এম শামসুজ্জোহার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ মরহুমের পরিবার ও নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন দিনব্যাপী কর্মসূচি পালন করবে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে দিনব্যাপী পবিত্র কোরআন তেলায়াত, শোক র‌্যালি, কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও জিয়ারতের পাশাপাশি পরিবারের পক্ষ থেকে চাষাঢ়া হীরা মহলে বাদ আসর শামসুজ্জোহা ও বেগম নাগিনা জোহার রুহের মাগফিরাত কামনায় মিলাদ ও দোয়ার মাহফিল। মরহুমের মেজো ছেলে সেলিম ওসমান এমপি ও ছোট ছেলে আওয়ামী লীগ নেতা এ কে এম শামীম ওসমান এমপি সবাইকে হীরা মহল ও পাশর্^বর্তী মসজিদে বাদ আসর আয়োজিত মিলাদ ও দোয়ায় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। এ ছাড়া গতকাল রবিবার বেলা ১১টায় বন্দরের মুছাপুর ইউনিয়নে শামসুজ্জোহা এমবি ইউনিয়ন উচ্চবিদ্যালয়ে দোয়া মাহফিল হয়।

এ কে এম শামসুজ্জোহা ঐহিত্যবাহী ওসমান পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তার বাবা মরহুম খান সাহেব ওসমান আলীও ছিলেন একজন ভাষাসৈনিক, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং সাবেক এমএলএ। ঐতিহ্যবাহী এ পরিবারের আদিনিবাস নারায়ণগঞ্জের ‘বায়তুল আমান ভবন’; যা আজও কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার বীজ বপন করা হয়েছিল।

মহান ভাষা আন্দোলনের সময় এ বায়তুল আমান ভবনে তৎকালীন পাকিস্তানি পুলিশ প্রবেশ করে ওসমান পরিবারের সদস্যদের ওপর অকথ্য নির্যাতন চালিয়েছিল। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত আত্মজীবনীতেও উঠে এসেছে ভাষা আন্দোলনে বায়তুল আমান ভবন ও ওসমান পরিবারের ত্যাগের কথা। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের শরণার্থী শিবিরে শামসুজ্জোহা ‘ত্রাণবন্ধু’ নামে পরিচিত ছিলেন। প্রয়াত এ জননেতা প্রথম ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর হাইকোর্টে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন এবং বাংলাদেশ বেতারের মাধ্যমে বিজয়ের বার্তা প্রচার করে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। ওই দিন অপরাহ্ণে বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা, বঙ্গবন্ধুকন্যা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ পাকিস্তানের সেনাদের হাতে আটক বঙ্গবন্ধু পরিবারকে মুক্ত করতে গিয়ে পাকিস্তানের সেনা কর্র্তৃক গুলিবিদ্ধ হন এ কে এম শামসুজ্জোহা।

শামসুজ্জোহার সহধর্মিণী নাগিনা জোহাও ছিলেন ভাষাসৈনিক। তার বড় ছেলে প্রয়াত জননেতা ও সাবেক এমপি নাসিম ওসমান বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিশোধ নিতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নবপরিণীতা বধূকে রেখেই প্রতিরোধ যুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন। এরপর শামসুজ্জোহাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর জাতীয়  চার নেতার হত্যাযজ্ঞের সময় তিনি ও শহীদ জাতীয় নেতা ক্যাপ্টেন মনসুর আলী একই সেলে বন্দি ছিলেন। শামসুজ্জোহা ছিলেন ওই কলঙ্কিত ইতিহাসের অন্যতম সাক্ষী। শামসুজ্জোহার মেজো ছেলে বিকেএমইএর সভাপতি ও সংসদ সদস্য এ কে এম সেলিম ওসমান ও ছোট ছেলে এ কে এম শামীম ওসমান একাধিকবার জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।