জাতীয় প্রেস ক্লাবে কাদের

যত চেষ্টাই করুক সংবিধানে সরকার অনড় থাকবে

দেশে আর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরবে না জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘যে যত চেষ্টাই করুক, সংবিধানে অনড় থাকবে সরকার। নির্বাচন ছাড়া ক্ষমতার পরিবর্তনের সুযোগ নেই। ক্ষমতার পরিবর্তন চাইলে নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিকল্প নেই।’

গতকাল রবিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ‘দেশরতœ শেখ হাসিনার স্বর্ণযুগ’ শীর্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।

গ্রন্থটি রচনা করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ রওশন আরা মান্নান। বই রচিত হয়েছে পদ্মা সেতু, মেট্রোরেলসহ শেখ হাসিনা সরকারের তিন মেয়াদের উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন কর্মকা- নিয়ে। খবর বাসস।

অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‘সংবিধান পরিবর্তন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফেরানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়। নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ীই হবে।’ বিএনপির ৫০ লাখ নেতাকর্মীর নামে মামলার দাবিকে অযৌক্তিক, বানোয়াট ও মিথ্যা মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘এগুলো বিএনপির মিথ্যাচারের গল্প। মামলা পরের কথা তাদের তো এত নেতাকর্মীই নেই।’ তিনি বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে নির্যাতন করেছে, মামলা দিয়েছে। মায়ের জানাজা এমনকি ঈদের নামাজে অংশ নিতে পারেনি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। নির্বাচনের আগে ৫০০ স্কুল পুড়িয়েছে, ভূমি অফিসে আগুন দিয়েছে, মানুষ পুড়িয়েছে। কী বীভৎস দিন! কত নিষ্ঠুর বিএনপি!’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি গণতন্ত্রের নবজাতককে গলাটিপে মেরে ফেলেছে। এ দেশে ভোট জালিয়াতি, রাষ্ট্রপতি নিয়ে হ্যাঁ-না ভোট, দলীয় লোক আজিজকে নির্বাচন কমিশনের প্রধান বানানো, মাগুরা মার্কা নির্বাচন, ১ কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোটার বানিয়েছিল বিএনপি যার জন্য ওয়ান ইলেভেন সৃষ্টি হয়েছিল।

বইয়ের লেখক অধ্যক্ষ রওশন আরা মান্নানের সভাপতিত্বে মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য মেরিনা জাহান, গাজী মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ ও জাকিয়া তাবাসসুম, গ্রন্থের সম্পাদক সাংবাদিক ফিরোজ আলম খান প্রমুখ।

ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ : সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ড. বিনয় জর্জ। গতকাল সচিবালয়ে এ সাক্ষাৎকালে দুই দেশের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়।

এ ছাড়া ভারতীয় ঋণ সহায়তা চুক্তির (্এলওসি) আওতায় বিআরটিসির জন্য ৩০০টি ইলেকট্রিক ডবল-ডেকার এসি বাস সংগ্রহের বিষয়ে আলোচনা হয় এবং এ বছরের মধ্যেই ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীর জন্য প্রাথমিকভাবে ১০০টি ইলেকট্রিক বাস সরবরাহ করার জন্য তাদের অনুরোধ করা হয়েছে বলে মন্ত্রী জানান।

২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের লক্ষ্যে সরকার ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল নীতিমালা প্রণয়নের কাজ করছে। এ মাসের মধ্যেই নীতিমালাটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হবে।

পরে সচিবালয়ে সড়ক পরিবহনমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত হেরু হারতান্তো সুবোলো। সাক্ষাৎকালে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়ন ও সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়।