গুলশানে ভবনে আগুন

ফায়ার অ্যালার্মকে গুরুত্ব দেয়নি বাসিন্দারা

রাজধানীর গুলশানে ১২তলা আবাসিক ভবনটির লিফটে যখন আগুনের সূত্রপাত হয় তখনই ফায়ার অ্যালার্ম (অগ্নি বিপদশঙ্কা) বেজেছে। অ্যালার্ম শুনে তাৎক্ষণিক ভবনের বেশির ভাগ বাসিন্দা বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। তবে অনেকে ফায়ার অ্যালার্মকে গুরুত্ব দেন নাই। পরবর্তী সময়ে আগুনের তীব্রতা যখন বেড়ে যায় তখন ভবনের বাসিন্দাদের দ্রুত বের হওয়ার জন্য মাইকিং করা হয়। শেষ মুহূর্তে তাদের অনেকেই আটকা পরে। প্রাণ বাঁচাতে কয়েকজন ভবনের ওপর থেকে সুইমিংপুলে লাফ দেয়। অগ্নিকাণ্ডের সময় ভবনে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে এ সব তথ্য জানা গেছে। এদিকে গতকাল আগুনের ঘটনায় গুলশান থানায় অপমৃত্যুর মামরা হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মোহাম্মদ রাজু (৩৫) নামে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। আগুন লাগার পর আতঙ্কে ১২তলা থেকে লাফ দিয়েছিলেন তিনি। এ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল দুজনে। এছাড়া আহত তিনজন শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাসটিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি হওয়ার পর দুজনকে গতকাল বিকেলে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। তবে অপর জন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন আছেন। এ ছাড়া অন্তত ১০ জন রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি আছেন।  

অগ্নিকাণ্ডের পর প্রাথমিক তদন্তে ভবনটির ফায়ার সেফটি প্ল্যান না থাকার তথ্য পেয়েছে ফায়ার সার্ভিস। ঘটনা তদন্তে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি রাজধানী উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষ (রাজউক) তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

গত রবিবার সন্ধ্যায় গুলশান দুই নম্বরের ১০৪ নম্বর রোডের ২ নম্বর হোল্ডিংয়ের আবাসিক ভবনটির সপ্তম তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে ভবনের ওপরের তলাগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে আগুন। ফায়ার সার্ভিসের ১৯টি ইউনিট ও বিমানবাহিনীর একটি টিমের চার ঘণ্টার চেষ্টায় রাত ১১টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ভবনে আটকে পড়া ২২ জনকে জীবিত উদ্ধার করেন ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। ভবনটিতে ২৬ ফ্ল্যাটে ২৩ পরিবার বসবাস করতেন বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

ফায়ার সার্ভিসের বরাত দিয়ে ডিএমপির গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার মো. আ. আহাদ বলেন, আগুনের কারণসহ ভবনের অন্য কোনো ত্রুটি ছিল কি না তা খতিয়ে দেখবে ফায়ার সার্ভিস ও রাজউক। আমরা প্রাথমিকভাবে ফায়ার সার্ভিসের মাধ্যমে জানতে পেরেছি আগুনের সূত্রপাত ঘটেছিল বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের কারণে।