প্রশংসা কুড়িয়ে তুরস্ক থেকে ফিরল উদ্ধারকারী দল

শক্তিশালী ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় বিভিন্ন শহরে ১০ দিনের সফল উদ্ধার অভিযান শেষে দেশে ফিরেছে ৪৬ সদস্যের সম্মিলিত বাংলাদেশি উদ্ধারকারী দল। গতকাল মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছে উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা।

বিমানবন্দরে বিমানবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা তাদের বরণ করেন। বিমানবাহিনীর বিশেষ বিমান সি-১৩০-এ করে দেশে ফেরে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বাধীন উদ্ধারকারী দলটি।

এর আগে গত সোমবার স্থানীয় সময় মধ্যরাতে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর বিশেষ বিমানে দেশের পথে রওনা হন তারা। প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে তুরস্কে ভূমিকম্প বিধ্বস্ত এলাকায় নিজেদের সর্বোচ্চ দক্ষতা কাজে লাগিয়ে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করে বাংলাদেশি উদ্ধারকারী দল। দলটির ১৫ ফেব্রুয়ারি দেশে ফিরে যাওয়ার কথা থাকলেও তুরস্ক সরকারের অনুরোধে বাড়ানো হয় উদ্ধার অভিযানের মেয়াদ। পরে গত সোমবার মধ্যরাতে আদানা বিমানবন্দর থেকে বিমানবাহিনীর বিশেষ বিমানে করে বাংলাদেশের পথে রওনা হন তারা।

জানা গেছে, স্মরণকালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পরপরই তুরস্কের দুর্যোগ ও জরুরি ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে বিশে^র বিভিন্ন দেশ থেকে যাওয়া উদ্ধারকর্মীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত ও মৃতদের উদ্ধারে কাজ শুরু করে বাংলাদেশি উদ্ধারকারী দল। কাজ করতে গিয়ে স্থানীয়দের শ্রদ্ধা, সম্মান আর ভালোবাসা পেয়েছেন দলের প্রতিটি সদস্য। তুরস্কের প্রশাসনিক পর্যায়েও বাংলাদেশের উদ্ধারকারী দলের কার্যক্রম প্রশংসিত হয়েছে। সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার কোরের ২৪, মেডিকেল দলের ১০ ও ফায়ার সার্ভিসের ১২ জনের সমন্বয়ে গঠিত উদ্ধারকারী দল এবং বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর ১৪ জন ক্রু ৯ ফেব্রুয়ারি তুরস্কে পৌঁছায়। দেশটিতে ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশি উদ্ধারকারী দলের মাধ্যমে উদ্ধারের সংখ্যা ছিল ২৪। তাদের মধ্যে জীবিত উদ্ধার হন একজন। বাকি ২৩ জনই মৃত।

এর আগে গত রবিবার প্রায় দুই সপ্তাহ পর বেশির ভাগ প্রদেশে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার কথা জানিয়েছিল তুরস্কের দুর্যোগ ও জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্র্তৃপক্ষ (এএফএডি)। সেদিন সন্ধ্যা নাগাদ অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করে তুরস্ক। ৬ ফেব্রুয়ারির ভূমিকম্পে তুরস্ক এবং সিরিয়ায় এখন পর্যন্ত ৪৬ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।