গুলশানে ভবনে আগুন

বসবাসের অনুমতি মেলেনি, মালামাল সরাচ্ছেন বাসিন্দারা

রাজধানীর গুলশানে আগুনলাগা বহুতল আবাসিক ভবনটি এখনো ঝুঁকিমুক্ত ঘোষণা না করায় প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে নিচ্ছেন বাসিন্দারা। সংশ্লিষ্ট সংস্থা ভবনটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিরাপদ কি না তা নিশ্চিত করবে। নিরাপদ ঘোষণার পরই বাসিন্দারা ফিরবেন সেখানে। এখনো বিদ্যুৎ, গ্যাস এবং পানি সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

এদিকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন সামা রহমান সিনহার শারীরিক অবস্থা এখনো শঙ্কামুক্ত নয় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে গুলশানের ওই ভবনের সামনে গিয়ে দেখা যায় বাড়িটির নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে পুলিশ। কয়েকজন বাসিন্দা তাদের কর্মচারীদের দিয়ে বাসা থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বের করে নিয়ে যাচ্ছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুই ব্যক্তি জানান, অগ্নিকাণ্ডের পর তাদের গৃহকর্তা পরিবারসহ অন্য বাসায় রয়েছেন। নির্দেশ অনুযায়ী জিনিসপত্র নিয়ে যাচ্ছেন সেখানে। আরেক নারী বাসিন্দা নাম না জানিয়ে বলেন, তাদের আরও একটি বাসা রয়েছে গুলশানে। দুই বাসাতেই বসবাস করেন তারা। তবে অগ্নিকাণ্ডের পর ক্ষতিগ্রস্ত বাসায় আর থাকছেন না। তাই মালপত্র নিয়ে যাচ্ছেন। বাসা ঠিকঠাক হওয়ার পর মালপত্র আবার আনবেন।

ভবনটির নিরাপত্তা সুপারভাইজার আশরাফুজ্জামান বলেন, ঘটনার পর থেকেই ভবনটিতে গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। বিভিন্ন তদন্ত কমিটি ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার লোকজন ক্ষতিগ্রস্ত ভবন পরিদর্শন করতে আসছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপকমিশনার আব্দুল আহাদ বলেন, বাইরে থেকে ভবনের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছে পুলিশ। ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটি বিভিন্ন সংস্থা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। এখনো সংশ্লিষ্টরা বাড়িটি ঝুঁকিমুক্ত ঘোষণা করেনি। ঝুঁকিমুক্ত ঘোষণার পর বাসিন্দারা সেখানে বসবাস করতে পারবেন।

গত রবিবার সন্ধায় গুলশান-২-এর ১০৪ নম্বর সড়কে ১৩ তলা আবাসিক ভবনে আগুন লাগে। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে ভবনে থাকা ফায়ার অ্যালার্ম বেজে ওঠে। তবে সেটি এমনিতেই বেজেছে ভেবে বেশিরভাগ বাসিন্দা গুরুত্ব দেননি। পরে নিরাপত্তাকর্মীদের চিৎকারে সবাই আগুনের বিষয়টি নিশ্চিত হন। এরপরই নামার জন্য চেষ্টা করেন। প্রথমে ছয়তলার লিফটের সামনে আগুন লাগলেও পরবর্তী সময়ে অন্যান্য তলায় ছড়িয়ে পড়ে। ছয়তলার নিচের বাসিন্দারা নিরাপদে দ্রুত নেমে পড়েন। তবে ছয়তলার ওপরের অন্তত ২৬ জন আটকা পড়েন। তাদের মধ্যে ২২ জনকে ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার করে। বাকি চারজন আগেই লাফ দিয়ে নিচে পড়েন। তাদের মধ্যে আনোয়ার হোসেন ও রাজিক পাইরিস রাজু মারা গেছেন। অগ্নিকা-ের সময় দুজন প্রাণ হারানোর ঘটনায় গুলশান থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। একমি গ্রুপের প্রতিষ্ঠান একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেডের এরিয়া ম্যানেজার রাকিব হাসান বাদী হয়ে সোমবার এই মামলা করেন।