আমার পাঠক মিশ্র শ্রেণির

কবি ও গল্পকার কাজল শাহনেওয়াজের দুটি বই বের হয়েছে এবারের বইমেলায়। একটি কবিতার বই ‘জলমগ্ন পাঠশালা’ দি¦তীয় সংস্করণ প্রকাশ করেছে ‘বৈতরণী প্রকাশনী’। অন্যটি ছোটগল্পের বই ‘কাছিমগালা’ দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশ করেছে ‘উড়কি’।

তার লেখার পাঠক কারা জানতে চাইলে এ কবি বলেন, ‘মনে হয় আমার পাঠক মিশ্র শ্রেণির। কবি বা গদ্য লেখকরা আমার বই পড়েন গত ৩০ বছর ধরে। এ ছাড়া আপামর সাহিত্য পাঠকরা আমার লেখা পড়েন বলে আমি জানতে পেরেছি। তবে অগ্রসর পাঠকরাই পড়ে থাকেন বলে মনে হয়।’

এবারের বইমেলা বিষয়ে কাজল শাহনেওয়াজ বলেন, ‘আমার মনে হয় বইমেলায় প্রকাশিত বইগুলোর ৮৫ শতাংশ বই শৌখিন শ্রেণির প্রকাশনা। এগুলো আবেগপ্রসূত প্রকাশনা। বইগুলোর সাহিত্য বা বিষয় মান উল্লখযোগ্য নয়, তবে বইগুলো সমাজতাত্ত্বিক গবেষণার বিষয় হতে পারে এ জন্য যে, তাতে করে বোঝা যাবে দেশে এখন কেমন বিষয়ে মানুষ চিন্তা করে বা বই প্রকাশ করার চেষ্টা করে থাকে। ১৫ ভাগ বইয়ের ক্রেতার মধ্যে ২ শতাংশ অগ্রসর পাঠক। বাকিরা বই কিনে ভবিষ্যতে পড়বেন বলে রেখে দেন।’

পাঠকের ওপর নিজের লেখার প্রভাব বিষয়ে তিনি বলেন, ‘একটা দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব তো রয়েছেই। আমার পর্যবেক্ষণ হলো, কারও সাহিত্যপ্রভাব বিষয়টা অনুধাবন করতে গেলে তার ২৫-৩০ বছরের কর্মকাণ্ড, লেখা বিশ্লেষণ করতে হয়। আমি তো টের পাচ্ছি আমার সাহিত্যকর্ম কীভাবে, কার ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বেশ টের পাই, বাংলাদেশের সাহিত্যে আমার কিছুটা অবদান আছে, সমালোচকরা তা স্পষ্ট করে বলতে পারবে।’

পাঠকের সঙ্গে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার প্রথম কবিতার বই বের হওয়ার (১৯৮৯ সাল) অনেক দিন পর বান্না নামে এক লেখক ও পাঠক বলেছিলেন, ক্লাস নাইনের টিফিনের টাকা জমিয়ে তিনি বইটা কিনেছিলেন নীলক্ষেতের বইয়ের দোকান থেকে। শুনে বেশ শিহরিত হয়েছিলাম।’

কাজল শাহনেওয়াজ আরও বলেন, ‘কাছিমগালা’ নামের গল্পটা লেখার পর অনেক উৎসাহব্যঞ্জক অভিজ্ঞতা হয়েছে। এক স্বনামধন্য লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদক (তপন বড়–য়া) তিন হাজার ছত্রিশ শব্দের গল্পটা পুরো মুখস্থ করে ছিলেন। আমাকে কয়েক পৃষ্ঠা শুনিয়েও ছিলেন। এক পাঠক (কবি মজনু শাহ) গল্পটির কথা বলতে গিয়ে আবেগে কাঁপতে কাঁপতে আমার হাত ধরে বিশ মিনিট দাঁড়িয়ে ছিলেন। এক মেয়ে (এখন বিদেশে পড়তে গেছে) স্বপ্ন দেখেছিল, একদিন সে কাছিমগালা নিয়ে একটা সিনেমা বানাবে। দরকার হলে এ জন্য সারাজীবন অপেক্ষা করবে।’

কাজল শাহনেওয়াজের প্রকাশিত বইগুলো হলো কবিতা: ছাঁট কাগজের মলাট (১৯৮৪), জলমগ্ন পাঠশালা, কবিতা (১৯৮৯), রহস্য খোলার রেঞ্চ (১৯৯২), আমার শ্বাসমূল (২০০৭), কাঠকয়লায় আঁকা তোমাকে আমার (২০০৯), তালগাছ হাতির বাচ্চা (২০১১), একটা পুরুষ পেঁপে গাছের প্রস্তাব (২০১৫), কবিতাসমগ্র (২০১৮), একটা ব্যাঙনি আমাকে পিঠে চড়িয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে (২০১৯)। ছোটগল্প: কাছিমগালা (১৯৯৩), গতকাল লাল (২০০৭), কাছিমগালা ও গতকাল লাল (২০১১),  গল্পসমগ্র (২০১৮)।