হঠাৎ করেই গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে গ্রামীণফোনের নেটওয়ার্ক বিপর্যয় ঘটে। এতে দেশে সচল থাকা ১৮ কোটি ৮ লাখ মোবাইল সিমের মধ্যে গ্রামীণফোনের ৭ কোটি ৯৩ লাখ গ্রাহকের অনেকের ফোনেই নেটওয়ার্ক ছিল না। ফলে বন্ধ ছিল কল ও ইন্টারনেট সেবা। এ ঘটনায় কেবল দুঃখ প্রকাশ করেই দায় সারছে কোম্পানিটি। অন্যদিকে এর ব্যাখ্যা চেয়েছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা-বিটিআরসি।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিটিআরসির তরফ থেকে ব্যাখ্যা চেয়ে একটি জরুরি চিঠি পাঠানো হয় গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে (সিইও)। বিটিআরসির পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশন্স বিভাগ) মো. গোলাম রাজ্জাক স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়, গ্রাহকের কাছ থেকে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জানা যায় যে, দেশব্যাপী মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোনের মোবাইল নেটওয়ার্ক প্রাপ্তিতে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।
দেশের শীর্ষ মোবাইল অপারেটর হিসেবে মোবাইল নেটওয়ার্ক পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধাগ্রস্ত হওয়ায় সব শ্রেণির গ্রাহক চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। এ অবস্থায়, জাতীয় জরুরি অবস্থা বিবেচনায় গ্রামীণফোনের নেটওয়ার্ক বিপর্যয়ের সঠিক কারণ ব্যাখ্যাসহ অতিদ্রুত নেটওয়ার্ক নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেওয়া হলো।
তবে গ্রামীণফোনের হেড অব কমিউনিকেশন খাইরুল বাশার সাংবাদিকদের জানান, ‘একই সময়ে উত্তরাঞ্চলের ৪টি ভিন্ন স্থানে ফাইবার কেব্ল কাটা পড়ার কারণে নেটওয়ার্কে বিঘেœর সৃষ্টি হয়। ফাইবার অপটিকস কেব্ল বিচ্ছিন্ন হয়ে সাময়িকভাবে কল করতে অসুবিধা হওয়ায় আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত। তবে দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে গ্রামীণফোনের নেটওয়ার্ক স্বাভাবিক হয়েছে।’
গ্রামীণফোনের নেটওয়ার্ক বিপর্যয়ের পর থেকেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন গ্রাহকরা। কথা বলার পাশাপাশি ইন্টারনেট সেবাও পাওয়া যাচ্ছিল না। জরুরি যোগাযোগ করতে না পেরে এই সময়ে ভোগান্তিতে পড়েন গ্রাহকরা। অনেকে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ করতে না পেরে উদ্বেগের মধ্যে পড়েন, অনেকেরই ব্যবসায়িক যোগাযোগ বা পেশাগত দায়িত্ব পালনও বিঘিœত হয়।
এদিকে গ্রামীণফোনের ফাইবার কেব্ল বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে সারা দেশে নেটওয়ার্ক বিপর্যয় হয়েছে এই বক্তব্য বা দাবি যুক্তিসংগত নয় বলে মনে করে মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘জিপির (গ্রামীণফোন) এই খোঁড়া যুক্তি মোটেও বাস্তবসম্মত নয়। প্রথমত, যদি টাঙ্গাইল এবং সিরাজগঞ্জে ফাইবার কেব্ল বিচ্ছিন্ন হয় তাহলে সারা দেশে নেটওয়ার্ক বিপর্যয় হলো কেন? দ্বিতীয়ত, ওই ফাইবার যদি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সামিট অথবা ফাইবার অ্যাট হোমের হয়ে থাকে তাহলে অন্য অপারেটরদের একইভাবে নেটওয়ার্ক সমস্যায় পড়ার কথা, কিন্তু তা হয়নি। তৃতীয়ত, জিপি ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ ফাইবার কানেকশনের মাধ্যমে গ্রাহকদের সার্ভিস দিয়ে থাকে। যদি ধরে নেই, ফাইবার কানেকশন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, তাহলে তারা মাইক্রোওয়েভ দিয়ে সার্ভিস দিতে পারত।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের ধারণা গ্রামীণফোন সত্য গোপন করেছে। হতে পারে তাদের সুইচিং অপারেশনে বড় কোনো বিপর্যয় ঘটেছে। কমিশনের উচিত দ্রুত একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রকৃত সত্য বের করা। সেইসঙ্গে গ্রাহকদের ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়া জিপির দায়িত্ব।’