ফখরুল বললেন

আন্দোলনে ইউপি নেতাদের দায়িত্ব নিতে হবে

আওয়ামী লীগ সরকারের পতন না হলে ‘জনগণের অস্তিত্বই বিপন্ন হবে’ মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকারবিরোধী আন্দোলনে ইউনিয়নের নেতাদের দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

স্থানীয় সরকারের সাবেক ও বর্তমান জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে এ সভার প্রথম দিন রংপুর বিভাগের আড়াইশ প্রতিনিধি অংশ নেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনাদের এখানে আহ্বান করার মূল উদ্দেশ্যটা হচ্ছে, আজকে এই সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হয়েছে। যারা জোর করে ক্ষমতা দখল করে আমাদের স্বপ্নগুলো ভেঙে দিচ্ছে তাদের যদি আমরা ক্ষমতা থেকে সরাতে না পারি তাহলে বাংলাদেশের মানুষের অস্তিত্বই বিপন্ন হয়ে পড়বে।’

বর্তমানে ৩৫ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা মামলা’ রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘এ চলমান আন্দোলনে আমাদের প্রায় ১৭ জন নেতাকর্মী রাজপথে প্রাণ হারিয়েছেন। প্রতিদিন এই অত্যাচার-নির্যাতনের সীমা ছাড়িয়েছে। এটা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব দেশকে, মানুষকে, আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার জন্য, তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করতে হবে। এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা ভয়াবহ দানবীয় সরকারের পরাজয় ঘটিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করব।’

ফখরুল বলেন, আমাদের ১০ দফা দাবির মধ্যে আছে এই সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে, সংসদ বিলুপ্ত করতে হবে, নতুন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করতে হবে। যেটা আগে ছিল সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে এ বিষয়গুলো জরুরি। সেজন্য আমাদের তরফ থেকে ২৭ ‘রাষ্ট্র সংস্কারের’ কর্মসূচিও দিয়েছি। এ বিষয়গুলো জনগণের কাছে ছড়িয়ে দিতে হবে, জনগণকে আরও সম্পৃক্ত করতে হবে। যেহেতু আপনারা জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন অথবা এখন নির্বাচিত আছেন। সেজন্য আপনারদের একটা দায়িত্ব রয়েছে। সেই দায়িত্বটা আপনাদের পালন করার আহ্বান আমি জানাচ্ছি।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ক্ষমতাসীনদের ভোট কারচুপির অভিযোগ করে দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির পরিস্থিতিতে জনগণের দুর্বিষহ অবস্থার বিষয়গুলো তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব। সভায় ভার্চুয়াল মাধ্যমে যুক্ত হয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্থানীয় পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন।

এতে অন্যদের মধ্যে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, কেন্দ্রীয় নেতা এজেডএম জাহিদ হোসেন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, আসাদুল হাবিব দুলু, ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স, সহদপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

২৭ ফেব্রুয়ারি খুলনা বিভাগ, ২৮ ফেব্রুয়ারি সিলেট ও খুলনা বিভাগ, ১ মার্চ বরিশাল বিভাগ, ২ মার্চ ঢাকা বিভাগ, ৫ মার্চ ফরিদপুর ও কুমিল্ল বিভাগ, ১৩ মার্চ চট্টগ্রাম বিভাগ, ১৪ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিভাগ, ১৫ মার্চ রাজশাহী বিভাগ এবং ১৬ মার্চ ময়মনসিংহ বিভাগের সঙ্গে হবে এ মতবিনিময় সভা।