শুধুই সিরিজ জয়ের লক্ষ্য

কোচ চান্দিকা হাথুরুসিংহের অধীনে নিস্তার নেই কারও। ১০-১০ ঘণ্টা অনুশীলন করতে হচ্ছে ক্রিকেটারদের। কাল থেকে সেই পুরো দিনের অনুশীলন পর্ব শেষ হয়ে তা আড়াই-তিন ঘণ্টায় নেমেছে। তবুও ওই সময়ে দল সংশ্লিষ্ট একটি লোকও বসে নেই। সবাই নিজ নিজ দায়িত্বে দাঁড়িয়ে। বার্তা একটাই সবাইকে দলের জন্যই এক হতে হবে। কারোরই ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের সুযোগ বাংলাদেশ দলে নেই। কোচের চাহিদার সঙ্গে সুর মিলিয়ে কাল ইংল্যান্ড সিরিজের সংবাদ সম্মেলনে তামিম ইকবালও জানালেন লক্ষ্য একটাই সিরিজ জয়। মানে দলের জয়। এর বাইরে সাকিব আল হাসানের সঙ্গে ব্যক্তিগত বিষয় উঠে এলেও তা এখনো গৌন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একটি ওয়ানডে শেষ হওয়ার নির্দিষ্ট সময় ৮ ঘণ্টা। গতকালের আগের দুই দিন নির্দিষ্ট আট ঘণ্টা ও আরও দুই ঘণ্টা বেশি অনুশীলন করতে হয়েছে ক্রিকেটারদের। ম্যাচ অনুশীলনে কোনো ব্যাটার আউট হয়ে বৃহস্পতি ও শুক্রবার ড্রেসিংরুমের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রুমে গা এলিয়ে বসতে পারেননি। আউট হয়েই যেতে হয়েছে নেট ব্যাটিংয়ে। সেখানে জনপ্রতি প্রায় ৩০-৪৫ মিনিট করে তাদের নিয়ে কাজ করেছেন ব্যাটিং কোচ জেমি সিডন্স। ক্রিকেটারদের মতো কোচদেরও নিস্তার নেই। কাল যেমন প্রথম আনুষ্ঠানিক অনুশীলনে মাঠে তিন স্ট্যাম্প খাটিয়ে তিন সহকারী কোচ লেগে গেলেন ক্রিকেটারদের ফিল্ডিং অনুশীলনের কাজে। এমনিতে ক্রিকেটারদের ফিল্ডিং শেখানোর দায়িত্ব শুধু ফিল্ডিং কোচ ম্যাকডরমটের। কিন্তু কাল ক্রিকেটাররা ছোট গ্রুপে ভাগ হয়ে সিডন্স, ডোনাল্ড ও হেরাথের কাছেও থ্রো-ইন করেছেন। আর ক্যাচিং অনুশীলন করিয়েছেন ম্যাকডরমট। এরপর দলবল মিলে ইনডোরে গিয়েছে পুরো দল ব্যাটিং-বোলিং অনুশীলন করতে।

অনুশীলন শুরু থেকে হাথুরু যে বসে ছিলেন তা নয়। দল যখন ফিল্ডিং অনুশীলনে ব্যস্ত হেড কোচ মিরপুরের পিচ কিউরেটর গামিনি ডি সিলভাকে নিয়ে ব্যস্ত। মূল পিচের কাছে দাঁড়িয়ে স্বদেশির সঙ্গে প্রায় ১৫-২০ মিনিটের আলাপ তাদের। ইংল্যান্ড বধে পিচকে সেরা অবস্থায় পেতে চান কোচ। সেই অবস্থাটা অবশ্যই স্পিনিং উইকেট। কাল অধিনায়ক তামিম ইকবালের কথায়ও তা স্পষ্ট, ‘যখনই বিশেষ কিছু সিরিজ থাকে যেগুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ, যেমন এ সিরিজটা। বিশ্বের যেকোনো দলই চাইবে জেতার জন্য। এটা ঠিক আমাদের স্পোর্টিং উইকেটে আরও ভালো ক্রিকেট খেলা উচিত। আমি নিশ্চিত ইংল্যান্ডের ধারণা আছে এখানে কী হবে।’ তামিমের সহজ স্বীকারোক্তিতে উইকেটের স্পিন সহায়ক হওয়ার একটাই কারণ, ‘সিরিজ জয় নাম্বার ওয়ান মোটিভ... এছাড়া আর কিছু নেই। অবশ্যই আমরা যখন প্রথম ওয়ানডে খেলব জেতার জন্যই খেলব।’

ভারতের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিপক্ষের সঙ্গে খেলাটা মিস করেছেন তামিম। ওই সময় গুঞ্জন ওঠে বড় সিরিজে এড়িয়ে যাওয়ার অভ্যাস থেকেই ছিলেন না! এমন কিছু বাংলাদেশ ব্যাটারের মোটেও ভালো লাগেনি। ‘১৫ হাজার রান করার পরও এসব শুনতে হলে ভেরি স্যাড...। আমি ১৭ বছর বছরে খেলছি, ৯০ শতাংশ ম্যাচে ছিলাম। ১০% ম্যাচ মিস করেছি...কারণ চোট। তবু এসব শোনা খুব আনফরচুনেট... কোনো ক্রিকেটারই ম্যাচ মিস করতে চায় না। ইংল্যান্ড সিরিজও বড় সিরিজ। তাহলে কেন আমি খেলছি?’

বিসিবি প্রধান এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন ওয়ানডে দলে তামিমের পছন্দের কারণে আছেন তাইজুল ইসলাম। অধিনায়কের একার পছন্দের কারণে কোনো ক্রিকেটারের দলে থাকা দল নির্বাচনে সুস্থ প্রতিযোগিতা রাখে না। এ নিয়ে সমালোচনা হবেই। কিন্তু এই বাঁহাতি স্পিনারের পাশে দাঁড়িয়ে তামিম জানালেন তার পছন্দেরটা ভিন্ন কারণে, ‘নির্বাচক মিটিংয়ে অনেক আলোচনা হয়, বদ্ধঘরে। ওখান থেকে (খবর) বের হয়ে আসা এটা খুব স্বাস্থ্যকর নয়। তাইজুল শেষ তিন ম্যাচে ৮ উইকেট পেয়েছে। অধিনায়ক হিসেবে আমি সবসময় পারফরম্যান্সকে গুরুত্ব দিয়েছি। আমরা মনে করেছি তাইজুল বেশি স্যুট করবে। আমি তামিম একাদশের অধিনায়ক হলে পছন্দ-অপছন্দ আসত... কিন্তু আমি বাংলাদেশ দলের ক্যাপ্টেন।’