নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে স্বামী-স্ত্রীসহ পাঁচজন দগ্ধ হয়েছেন। গতকাল রবিবার বেলা দেড়টায় ফতুল্লার রামারবাগ এলাকায় শাহানাজ বেগমের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। দগ্ধ পাঁচজনকেই রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাসটিক ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আল আমিন হোসেন (৩০) নামের এক গার্মেন্টস কর্মী এবং তার স্ত্রী সুখী আক্তারের (২৫) অবস্থা সংকটজনক। তাদের প্রায় পুরো শরীর দগ্ধ হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আল আমিন স্থানীয় মোতালেব মনোয়ারা গার্মেন্টসে আর স্ত্রী সুখী মেট্রো গার্মেন্টসে চাকরি করেন। তারা ওই বাড়ির নিচতলার একটি রুমে ভাড়া থাকেন। গতকাল দুপুরে কর্মস্থল থেকে বাসায় ফিরে খাবার গরম করার জন্য রান্নাঘরে যান সুখী। সেখানে দেশলাই জ্বালাতেই বিকট বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরণে রুমের দরজা-জানালা উড়ে যায়। পাশের বাড়ির চারটি রুমের জানালা ভেঙে চূর্ণ হয়ে যায়।
এতে তাদের দুজনের প্রায় পুরো শরীর পুড়ে যায়। পাশের রুমে থাকা আলেয়া বেগম (৬০), তার ছেলে জামাল হোসেন (৪০) এবং পাশের রুমে রাজমিস্ত্রির কাজ করা রফিক মিয়াও (৪৫) দগ্ধ হন। ওই সময় বাড়ির বাইরে থাকা কয়েকজন সামান্য আহত হন। তাদের স্থানীয় ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক ফখর উদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, তাৎক্ষণিক বিস্ফোরণের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বলা যাচ্ছে না। তদন্ত করে জানানো হবে।
এদিকে আমাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রতিনিধি বার্ন ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. এস এম আইউব হোসেনের বরাতে জানান, দগ্ধদের মধ্যে সুখী ও আল আমিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের শরীরের যথাক্রমে ৯৮ ও ৯৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। বাকিরা সামান্য দগ্ধ হয়েছেন। তারা ঝুঁকিমুক্ত।
আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসা আল আমিনের চাচাতো ভাই মো. রাসেল জানান, আল আমিনের বাড়ি পটুয়াখালী সদর আলিয়াপুর গ্রামে। তার বাবার নাম মো. শহিদ। আল আমিন ও সুখীর একমাত্র ছেলে গ্রামের বাড়িতে থাকে। দগ্ধ আলেয়া বেগম জানান, রান্নাঘরটিতে বেশ কয়েক দিন ধরে গ্যাস লিকেজের শব্দ পাওয়া যাচ্ছিল। এ জন্য চুলায় গ্যাস বের হতো না। লিকেজ হওয়া গ্যাস থেকেই বিস্ফোরণ হয়েছে বলে তার ধারণা।