আলোচনা সভায় ফখরুল

তত্ত্বাবধায়ক ছাড়া নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার না হলে কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে গণতান্ত্রিক পন্থায় এগোচ্ছি। এতে বাধা দিয়ে সরকার মনে করছে ভালো কিছু করছে। কিন্তু পারবে না। শিগগির জনপ্রতিরোধ গড়ে উঠবে। আর দ্বিগুণ গতিতে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাব।’

গতকাল রবিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ের নসরুল হামিদ মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগে পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ নিহতদের স্মরণে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘একজন মন্ত্রী বললেন, ওই হত্যাকা-ের সঙ্গে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান জড়িত। তিনি এতটুকু দ্বিধা করলেন না এ উক্তি করতে। পরিষ্কার করে বলতে চাই, বিডিআর হত্যাকান্ডের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও তার সরকার জড়িত। তাদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায়, চক্রান্তে ও পরিকল্পনায় বাংলাদেশকে দুর্বল নতজানু রাষ্ট্রে পরিণত করতে এবং সেনাবাহিনীর মনোবল ভেঙে দিতে বিডিআর হত্যাকান্ড ঘটেছে।’

তিনি বলেন, ‘যারা চৌকস কর্মকর্তাদের হত্যা করেছে, আপনারা তাদের সঙ্গে আপসরফা করেছেন। সেনাআইনে পরিষ্কার লেখা আছে, বিদ্রোহ হলে দমন করতে হবে। অন্য কোনো ভাবনার অবকাশ নেই। তখন সেনাপ্রধান ছিলেন মইন উ আহমেদ, যিনি বাংলাদেশের গণতন্ত্র-ধ্বংসের প্রধান ব্যক্তি। তিনি ১/১১-এর মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতাকে বিকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন; সেনাবাহিনীকে ধ্বংসের চেষ্টা করেছিলেন। ২৫ ফেব্রুয়ারি এ হত্যাকান্ড সম্পর্কে পত্রিকাগুলো এক কলাম সংবাদ প্রকাশ না করায় জাতি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।’

পুলিশ ১৭ জন নেতাকর্মীকে প্রকাশ্যে রাজপথে গুলি করে হত্যা করেছে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘রুহুল কবির রিজভী, মীর সরাফত আলী সপু থেকে শুরু করে কয়েক হাজার নেতাকর্মী জেলে। প্রতি বছর শুধু শোক দিবস পালন করব, রোধন করব, তাতে কোনো লাভ হবে না। এর থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। মানুষের চোখের ভাষা দেখুন, সরকারের প্রতি ঘৃণা আর ঘৃণা।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘সবকিছুর জবাব এই সরকারকে একদিন জনগণের কাছে দিতে হবে। এদের বিদায় না হওয়া পর্যন্ত জনগণকে নিয়ে রাজপথে থাকব।’

বিএনপি মহাসচিবের সভাপতিত্বে ও প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির সঞ্চালনায় আলোচনায় সভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, আমানউল্লাহ আমান, জহির উদ্দিন স্বপন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

বিকেলে ঢাকা জেলা বিএনপির উদ্যোগে নবাবগঞ্জে পদযাত্রার আগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘নির্বাচন তারা (সরকার) করতে চায় আগেরবারের মতো। ভোট লুট করে, চুরি করে নিয়ে যাবে। আমরা কি সেই নির্বাচন করতে দেব? রুখে দাঁড়াব। আমাদের অস্তিত্বের জন্য, বাংলাদেশ রক্ষার জন্য রুখে দাঁড়াতে হবে। এখন মানুষ বলতে শুরু করেছে, আগে যদি জানতাম তোর ভাঙা নৌকায় উঠতাম না।’  তিনি বলেন, ‘উন্নয়নের নদী বয়ে যাচ্ছে কিন্তু মানুষের উপকার হচ্ছে না। এ সরকার যদি আবার আসে তাহলে জাতির অস্তিত্ব থাকবে না।’

নবাবগঞ্জ শহীদ মিনারে সমাবেশ করে দুপুর আড়াইটায় শুরু হয়ে দুই কিলোমিটার পদযাত্রা বকশনগর বাজার মোড়ে এসে শেষ হয়। ঢাকা জেলা আহ্বায়ক খন্দকার আবু আশফাকের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব নিপুণ রায় চৌধুরীর সঞ্চালনায় সমাবেশে বিএনপির শিরিন সুলতানা, দেওয়ান মো. সালাহউদ্দিন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

গতকাল সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা-জাসাসের উদ্যোগে খালেদা জিয়া, রুহুল কবির রিজভীসহ বন্দি নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ^র চন্দ্র রায় বলেন, ‘১৯৭১ সালে একটা পিস কমিটি ছিল, কমিটির চেয়ারম্যানও ছিল। একাত্তরের যুদ্ধের শেষে যদিও কমিটির চেয়ারম্যানদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। সরকার ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে একটা পিস কমিটি করেছে। আমরা যখনই কর্মসূচি দিই এই পিস কমিটি শান্তির নামে অশান্তি সৃষ্টি করে। সেদিনের পিস কমিটি ছিল পাকিস্তানের পক্ষে। আজকের পিস কমিটি সরকারের হলেও গণতন্ত্রের বিপক্ষে। ভবিষ্যতে এ কমিটির অবস্থাও একাত্তরের কমিটির মতো হবে।’

জাসাসের সভাপতি হেলাল খানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন জাকিরের সঞ্চালনায় মানবন্ধনে বিএনপির আবদুস সালাম আজাদ, জাসাসের লিয়াকত আলী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।