যদি ভুল না করি তাহলে সময়টা হয়তো ২০০৪/৫। চলচ্চিত্র নির্মাতা, জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত এডিটর সামির আহমেদের বাসায় আড্ডা, ব্যস্ত সময়। সামিরই প্রথম বলল অর্নব আসবে একটু পর। কী যেন মিউজিক ভিডিও নিয়ে আলাপ করবে।
যেহেতু শোবিজ ইন্ডাস্ট্রিজে আমিও কাজ করি ফলত স্টার, সেলিব্রেটি সবাই কোনো না কোনো ভাবে আমার কলিগ বা বন্ধু। ফলে সেলিব্রেটি নিয়ে সাধারণ মানুষের মতো উত্তেজনা আমার মধ্যে কাজ করার কথা না। কিন্তু অর্নব আরও ভালো করে বলতে গেলে সায়ান চৌধুরী অর্নবের বিষয়টি পুরো আলাদা। কারণ ততদিনে আমি অর্নবের প্রথম সলো ‘চাই না ভাবিস’ নিয়ে এত কিছু ভেবে বসে আছি, তক্ষক ডাকা নিশুতি খুঁজে পেয়ে জীবনের বিপন্ন বিষয়ে বিস্মিত, আমার হারিয়ে যাওয়া তুমুল কালো মেঘ হাতে নিয়ে বৃষ্টি দিয়ে ছাদ বানিয়ে শুয়ে থাকার হাজার রাত পার হয়ে গেছে কবে আর এই তুমুল কথা-সুরের পাগলামির পুরোটাই অর্নব মানে ওর গান।
যাইহোক পরিচয়ের দিন আমি মন্ত্রমুগ্ধের মতো অর্নবের কথা শুনেছি কিন্তু মনে মনে পণ করলাম এই বিমুগ্ধতার পুরোটুকুই আদায় করেস নেব। তাই কোনো একটা কাজে অর্নবের গুলশানের বাসায় গেলাম। জিন্সের ব্যাক পকেটে এ ফোর সাইজের কাগজে স্বহস্তে লিখিত একখানা তরতাজা কাব্য। তখনকার দিনে ল্যাপটপ, ফেসবুক, অভ্র এত অ্যাভেইলেবল ছিল না। হাতে লেখাই একমাত্র ভরসা।
ডকুমেন্টারি ফিল্ম নিয়ে অর্নবের টিমে অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেকটর হিসেবে কাজ করার ফাঁকে বলেই ফেললাম।
- অর্নব ভাইয়া তোমাকে একটা কথা বলব?
- হুঁ বলো
- আমিও কিন্তু লিখি, মানে কবিতা
- তাই নাকি? আমাকে পড়তে দাও
আমিতো এই আশাতেই বসে ছিলাম। কালবিলম্ব না করে পকেট থেকে লেখাটা বের করে অর্নবের হাতে দিলাম। অর্নব বেশ জোরে শব্দ করেই কবিতাটি পড়ল। একবার না পর পর দুবার। খুব মিলিয়ে সময় নিয়েছিল ৩/৪ মিনিট, আমার কাছে যেটা ছিল ৩/৪ যুগেরও বেশি সময়।
পড়া শেষ করে অর্নব যেটা বলল, মিথ্যা বলব না আমি এটা শোনার জন্যই প্রস্তুত হয়ে গিয়েছিলাম ওর কাছে। অর্নব বলল-
- বাহ তুমি তো দারুণ লিখো। এই লেখাটা আমাকে দিবা? আমি গান করি?
আমি এতটাই উত্তেজিত ছিলাম যে এর উত্তরে আমি কী বলেছিলাম তা আজ মনে নেই বা মনে থাকলেও লেখার দরকার নেই। কারণ পাঠককুল অলরেডি ধরেই ফেলেছেন আমি কী বলতে পারি!
তবে সেই কবিতাটার নামটা বলি, কারণ প্রকৃতপক্ষে এটাই ছিল আমার লেখায় অর্নবের প্রথম সুর। কবিতার নাম ছিল ‘প্রকৃতজল’।
প্রকৃতজল থেকে হোক কলরবের দূরত্ব ছিল মাস ছয়েকের মতো। হ্যাঁ সেই হোক কলরব যা এপার বাংলা ওপার বাংলার মানুষের হৃদয়ে একটা আলাদা জায়গা করে নিয়েছে।