ইবিতে ছাত্রী নির্যাতন: গভীর রাতে প্রতিবেদন জমা ছাত্রলীগের

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শেখ হাসিনা হলে নবীন ছাত্রীকে নির্যাতনের ঘটনায় গতকাল রাত সাড়ে এগারোটার দিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে শাখা ছাত্রলীগ কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটি। সোমবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি কামরুল হাসান অনিক।

তিনি জানান, আমরা সুষ্ঠুভাবে তদন্ত কার্যক্রম শেষ করে গতরাতে কেন্দ্রে প্রতিবেদন পাঠিয়েছি। প্রতিবেদন অনুযায়ী তারা যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে তা অবশ্যই শাখা ছাত্রলীগ মেনে নিবে।

এদিকে তদন্তের স্বার্থে সোমবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ভুক্তভোগী ছাত্রী ফুলপরী খাতুনকে ক্যাম্পাসে ডেকেছিলো শাখা ছাত্রলীগ গঠিত তদন্ত কমিটি। এতে পুরো রাস্তায় নিরাপত্তা চেয়েছিলো ভুক্তভোগী। কিন্তু নিরাপত্তা নিশ্চিত না হাওয়ায় ক্যাম্পাসে আসেননি তিনি। পরে মুঠোফোনে তার সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে শাখা ছাত্রলীগের গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভুক্তভোগী ফুলপরী বলেন, ‘নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়ায় আমি ক্যাম্পাসে যাইনি। তারা গতকাল দুপুর ১২টা পনেরো মিনিটের দিকে ফোনকলে আমার ১ ঘন্টা ৫ মিনিটের মতো সাক্ষাৎকার নিয়েছে।’

ভুক্তভোগীর সাথে কথা বলেছে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাদ্দাম হোসেন। ভুক্তভোগী ছাত্রী নিজেই বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন। ফুলপরী বলেন, ‘ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম ভাই আমাকে কল দিয়ে বলেছেন, তোমার সাহসিকতার জন্য অভিনন্দন। তোমার ন্যায় বিচার হবে। তখন আমি বলেছি, ভাই আমার কারো প্রতি কোন রাগ নেই। আমার সঙ্গে যা হয়েছে আমিও ন্যায় বিচার চাই। ভাই আমার সঙ্গে অনেক ভাল ভাবে কথা বলেছেন।’

প্রসঙ্গত, দেশরত্ন শেখ হাসিনা হলে গত ১১ ও ১২ই ফেব্রুয়ারি দুই দফায় ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী ফুলপরীকে রাতভর র‌্যাগিং, শারীরিকভাবে নির্যাতন ও বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করার অভিযোগ উঠে। এতে শাখা ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি সানজিদা চৌধুরী অন্তরা, ছাত্রলীগ কর্মী তাবাসসুম ইসলাম, মোয়াবিয়া জাহান, ইসরাত জাহান মিমি ও হালিমা খাতুন উর্মীসহ কয়েকজন জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর। পরে ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে ১৫ই ফেব্রুয়ারি একটি তদন্ত কমিটি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরে ১৫ই ফেব্রুয়ারি পৃথকভাবে দেশরত্ন শেখ হাসিনা হল ও শাখা ছাত্রলীগ তদন্ত কমিটি গঠন করে। এছাড়া হাইকোর্টের নির্দেশেও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন।