আড়াই মাসেরও কম সময়ের ব্যবধানে ফ্লোর প্রাইস বা সর্বনিম্ন মূল্যস্তর বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা তাদের অবস্থান পরিবর্তন করেছে। লেনদেনের খরা কাটাতে গত ২১ ডিসেম্বর প্রাথমিকভাবে স্বল্প মূলধনী ১৬৯ কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের ফ্লোর প্রাইস তুলে দেয় পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। কিন্তু বাজার পরিস্থিতির উন্নতির পরিবর্তে উল্টো ফ্লোর প্রাইস তুলে দেওয়া কোম্পানিগুলো নিয়মিত দর হারাতে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা দিতে গতকাল এসব শেয়ারে নতুন করে ফ্লোর প্রাইস আরোপ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এসইসি।
এসইসি জানিয়েছে, নতুন এ সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে। ফলে আজ বৃহস্পতিবার থেকে এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডে আবারও সর্বনিম্ন মূল্যস্তর আরোপিত হবে। নতুন এ সিদ্ধান্তের ফলে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সব প্রতিষ্ঠানের ওপর আবারও সর্বনিম্ন মূল্যস্তর ফিরে আসছে।
নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, গত বছরের ২৮ জুলাই আরোপ করা ফ্লোর প্রাইস বা গত ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চ পর্যন্ত সময়ে ১৬৯ কোম্পানির গড় দর ফ্লোর প্রাইস হবে। তবে ওই দুই পদ্ধতির মধ্যে যেটি কম, সেটিই হবে নতুন ফ্লোর প্রাইস।
বাজার পরিস্থিতির অবনতির কারণে ১৬৯ কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের ওপর থেকে সর্বনিম্ন মূল্যস্তর তুলে দেওয়ার পর গত ২১ ডিসেম্বর থেকে এসব শেয়ার ও ফান্ডের বেশির ভাগের দাম প্রতিদিন ১ শতাংশ করে কমতে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে ফ্লোর প্রাইস নিয়ে বৈষম্যের অভিযোগ উঠে এসইসির বিরুদ্ধে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ক্ষোভও তৈরি হয়। এজন্য বিনিয়োগকারীসহ বাজার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের একটি পক্ষ এ নিয়ে আপত্তি তোলে। তাদের যুক্তি, এক বাজারে দুই ধরনের নিয়ম থাকতে পারে না। তাই তারা দাবি তোলেন, হয় সব কোম্পানির ওপর থেকে সর্বনিম্ন মূল্যস্তর তুলে নেওয়া হোক, নতুবা যেসব প্রতিষ্ঠানের ওপর থেকে এ মূল্যস্তর তুলে নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর ওপর আবার তা আরোপ করা হোক। এমন পরিস্থিতিতে গতকাল বুধবার ১৬৯ প্রতিষ্ঠানের দামের ওপর আবারও সর্বনিম্ন মূল্যস্তর আরোপের সিদ্ধান্ত নেয় এসইসি।
পুঁজিবাজারে সূচকের পতন ঠেকাতে গত বছরের ২৯ জুলাই থেকে তালিকাভুক্ত সব শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ওপর সর্বনিম্ন মূল্যস্তর আরোপ করে এসইসি। ওই সময় এসইসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, সাময়িক ব্যবস্থা হিসেবেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।