প্রতিবন্ধীদের ভাতার টাকা সমাজকর্মী ও তার স্ত্রীর মোবাইলে

ফেনীর ফুলগাজীর আনন্দপুর ও জিএম হাট ইউনিয়ন সমাজকর্মী শামসুল আলমের বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধীদের শিক্ষা উপবৃত্তির ভাতার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভাতাভোগী প্রতিবন্ধীদের তথ্য অনলাইনে অন্তর্ভুক্ত করার সময় ১১ জনের মোবাইল ফোন নম্বর পরিবর্তন করে তার নিজের ও স্ত্রী জুলেখা আক্তারের নামে নিবন্ধন করা সিমকার্ড ব্যবহার করে ভাতার টাকা আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে ফুলগাজীর জিএম হাট ইউনিয়নের পূর্ব বসিকপুর গ্রামের বাসিন্দা ভাতাভোগী মো. হোসেন ও আবুল হাসেম ইউনিয়ন সমাজকর্মী শামসুল আলমের বিরুদ্ধে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দেন। অভিযোগের অনুলিপি বিভিন্ন দপ্তরে দেন তারা।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে গত মঙ্গলবার ফুলগাজী থেকে সোনাগাজী উপজেলায় বদলি করা হয়েছে। এ ঘটনায় গতকাল  বুধবার তিন সদস্যের  একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি আগামী ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দখিল করবে।

নিয়ম অনুযায়ী সুবিধাভোগী প্রত্যেক প্রতিবন্ধী মাসে ৮৫০ টাকা করে পান।

আবুল হাসেম বলেন, অনলাইন করার পর গত দুই বছর ধরে তিনি প্রতিবন্ধী শিক্ষা উপবৃত্তি ভাতা পাচ্ছেন না।

আবুল হোসেন বলেন, প্রতিবন্ধী কার্ড পাওয়ার পর থেকেই তিনি তার ভাতা এখনো পাননি। পরে অফিসে খবর নিয়ে জানতে পেরেছেন তার ভাতা চালু আছে এবং তা ইউনিয়ন সমাজকর্মী শামসুল আলমের আত্মীয়ের মোবাইল ফোন নম্বরে চলে যাচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি ফেনী জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দিয়েছেন। 

আনন্দপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রতন চৌধুরী বলেন, তার ওয়ার্ডের অনেক ভাতাভোগীর টাকা অন্যের মোবাইল ফোন নম্বরে চলে গেছে। নম্বরগুলো কার তা জানার জন্য উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে অনেকবার গিয়েও কোনো সদুত্তর পাননি।

জিএম হাট ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নুরুল আমিন বলেন, ইউনিয়ন সমাজকর্মী শামসুল আলম তার ওয়ার্ডের অনেক প্রতিবন্ধীর টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তিনি এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান।

উপজেলা সমাজসেবা অফিসের কর্মচারী সমাজকর্মী আল আমিন বলেন, উপজেলা সমাজসেবা অফিস এ পর্যন্ত ১০ জনের ভাতার টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পেয়েছে। তবে অভিযুক্ত শামসুল আলম কর্মকর্তাদের কাছে পাঁচজনের ভাতার টাকা আত্মসাতের কথা স্বীকার করেছেন।

আল আমিন আরও বলেন, যে মোবাইল ফোন নম্বরগুলোতে টাকা গেছে সেগুলো শামসুল আলম ও তার স্ত্রীর নামে নিবন্ধন করা। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান অভিযুক্ত শামসুল আলমকে দিয়েই অফিসের বেশিরভাগ কাজ করাতেন এবং পাসওয়ার্ডও তার কাছে থাকত।

অভিযুক্ত শামসুল আলম মোবাইল ফোনে বলেন, অনলাইন করার সময় কিছুটা সমস্যা হয়েছিল। পরে ভাতাভোগীদের টাকাগুলো ফেরত দেওয়া হয়েছে। ভাতাভোগীদের মোবাইল ফোন নম্বর পরিবর্তন করে স্ত্রী ও নিজের মোবাইল ফোন নম্বরে টাকা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি উত্তর না দিলে সংযোগ কেটে দেন।

ফুলগাজী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আবদুল মান্নান বলেন, ইউনিয়ন সমাজকর্মী শামসুল আলমের ব্যাপারে অভিযোগ পাওয়ার পর তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। শামসুল আলমের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না তদন্ত করে জানার পর বিস্তারিত জানানো হবে। তিনি বলেন, অফিসের কাজগুলো তাকে দিয়ে করা হয়েছে তা ঠিক। তবে নম্বরগুলো কীভাবে পরিবর্তন করেছেন তা তিনি জানেন না।

এ ব্যাপারে সমাজসেবা অধিদপ্তর ফেনীর উপপরিচালক সাইফুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ভাতাভোগীদের অভিযোগের আলোকে শামসুল আলমকে সোনাগাজী উপজেলায় বদলি করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।