ছাত্ররাজনীতির ঐতিহ্য ধ্বংস করছে কিছু শিক্ষার্থী : হাইকোর্ট

কিছু উচ্ছৃঙ্খল শিক্ষার্থী রাজনৈতিক পরিচয়ের অপব্যবহার করে দলের ভাবমূর্তি ও ছাত্ররাজনীতির গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস-ঐতিহ্য ধ্বংস করছে বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছে হাইকোর্ট। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) নবীন ছাত্রী ফুলপরী খাতুনকে নির্যাতনের ঘটনায় পাঁচ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার ও প্রভোস্ট সরানোর আদেশের সময় গতকাল বুধবার বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই পর্যবেক্ষণ দেয়।

আদেশের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট বলে, ‘কিছু উচ্ছৃঙ্খল শিক্ষার্থী ছাত্ররাজনীতির গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ভূলুণ্ঠিত করছে। অনেকে বুঝে কিংবা না বুঝে এসব করে। এ বিষয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।’

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে র‌্যাগিংয়ের নামে শিক্ষার্থীদের, বিশেষ করে নবীনদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে হাইকোর্ট। গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাতে আদালত বলে, ‘দেখা যাচ্ছে, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট করে আবাসিক হল ও হোস্টেলগুলোতে কিছু উচ্ছৃঙ্খল শিক্ষার্থী তাদের রাজনৈতিক পরিচয়ের অপব্যবহার করে অপ্রত্যাশিত ঘটনায় জড়িয়ে যায়। তারা নিষ্পাপ শিক্ষার্থী, বিশেষ করে নবীনদের নির্যাতন করে। ছাত্ররাজনীতির গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছে। কিন্তু এ ধরনের অবাধ্য শিক্ষার্থীরা শিক্ষার মানসম্মত পরিবেশ নষ্ট করে। অনেক সময় রাজনৈতিক আশ্রয়ের অপব্যবহার করে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে তারা দলের ভাবমূর্তি ও ছাত্ররাজনীতির গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ভূলুণ্ঠিত করছে।’

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুলপরীকে নির্যাতনের বিষয়টি উল্লেখ করে হাইকোর্ট বলে, ‘আমরা এ ঘটনার বিচার করছি না, বিচার করবে বিশ্ববিদ্যালয়। এ ধরনের ঘটনায় অন্য সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।’

হাইকোর্ট আরও বলে, ‘ছাত্ররাজনীতির প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি আমরা ইতিহাসে দেখেছি। কিন্তু এটিকে ক্ষুণœ করতে অনেকে না বুঝে, অনেকে বুঝে এসব করে। এ ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।’