কুড়িগ্রামে প্রতারণার মাধ্যমে সনাতন ধর্মাবলম্বী এক যুবককে মুসলিম বানিয়ে কোর্টের মাধ্যমে এফিডেভিট করে কাবিনামায় লাখ টাকা দেনমোহর ধরে বিয়ে করার অভিনব প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে ফেরদৌসী আক্তার নামে এক বিউটিশিয়ানের বিরুদ্ধে। তিনি নাগেশ্বরী উপজেলার সুখ্যাতি গ্রামের বালাটারি এলাকার মো. কুদ্দুস আলীর মেয়ে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী বাদল চন্দ্র রায় কুড়িগ্রাম পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন। তিনি ফুলবাড়ী উপজেলার বালারহাট গ্রামের হরিকান্ত রায়ের ছেলে। তার স্ত্রী ও এক ছেলে সন্তান রয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাদল চন্দ্র রায় এভারেস্ট ফার্মাসিটিক্যাল নামের একটি ওষুধ কোম্পানির রিপ্রেজেনটিভ হিসেবে নাগেশ্বরী উপজেলায় কর্মরত ছিলেন। সে সময় বিভিন্ন ক্লিনিক হাসপাতালে ডাক্তার ভিজিট ও কোম্পানির কাজে সিটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রিসিপশনিস্ট ফেরদৌসী আক্তারের সাথে পরিচয় হয় তার। এর পর ফোনে তাদের কথা হতো। তাদের মধ্যে ভাই-বোনের সম্পর্ক গড়ে ওঠায় বিভিন্ন সময় অর্থনৈতিক সমস্যা দেখিয়ে ৫/১০ হাজার টাকা ধার নিতেন। পরবর্তীতে সে টাকা ফেরতও দিতেন।
এর মধ্যে, ফেরদৌসী সিটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অন্য আরেক ব্যক্তির সাথে অন্তরঙ্গ অবস্থায় ধরা পড়ে চাকরিচ্যুত হন। বাবার অভাবের সংসার কাজ কর্ম না থাকায় বিউটি পার্লার দেওয়ার কথা বলে বাদল চন্দ্রের কাছে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা ধার নেন। পরবর্তীতে ধারের টাকা চাইলে নানান টালবাহানা শুরু করেন।
এমনকি নিজেকে বাদল চন্দ্রের স্ত্রী হিসেবে দাবি করে মেসেঞ্জারে কাবিন নামা, ধর্মান্তরিত হওয়ার কাগজ পত্র পাঠিয়ে দিয়ে তাকে হুমকি ও জিম্মি করে। এতে বাদল চন্দ্র রায় কর্মরত এলাকা নাগেশ্বরীতে যাওয়া বন্ধ করে দেয়। বর্তমানে নিজের জীবন জীবিকার পথ বন্ধ হওয়াসহ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বাদল চন্দ্র।
কোনো উপায়ন্তর না পেয়ে অবশেষে পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ফেরদৌসীর প্রতারণার আরও ভয়ংকর তথ্য। বিউটিশিয়ানের কাজের আড়ালে ১৩টি সিম কার্ড ব্যবহার করে একাধিক পুরুষের সাথে গড়ে তুলেছেন অনৈতিক সম্পর্ক। বাদল চন্দ্রকে মোবাইল মেসেঞ্জারে রংপুরের মিঠাপুকুর জনৈক কাজির কাছ থেকে নিয়ে বিয়ের কাবিননামার কপি দিয়েছেন অনুসন্ধানে দেখা গেছে ওই নামে কোনো কাজি নেই।
ভুক্তভোগী বাদল চন্দ্র রায় বলেন, আমি এমন একটা পরিস্থিতি পরেছি যা বলার ভাষা নাই। বাড়িতে প্রচুর অশান্তি চলছে। বের হতে পারছি না। কর্মস্থলেও যেতে পারছি না। একদিকে কোম্পানি, অন্য দিকে ওই মেয়ের যন্ত্রণা সইতে পারছি না। ওই মেয়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছি দেখা যাক কী হয়।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ফেরদৌসী আক্তারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের কুড়িগ্রাম জেলা শাখার দপ্তর সম্পাদক অপু সরকার বলেন, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার আল আসাদ মো. মাহফুজুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।