ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী যখন নিকি হ্যালি

২০২৪-এর মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের একমাত্র নারী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দেন নিকি হ্যালি। এ ঘোষণার মধ্য দিয়ে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত কট্টর রক্ষণশীল এ নেতা। লিখেছেন নাসরিন শওকত

মনোনয়নের ঘোষণা

২০২৪ সালের ৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। এরই মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল ডেমোক্রেটিক পার্টি ও রিপাবলিকান পার্টির সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থীরা নির্বাচনী তৎপরতা শুরু করেছেন। রিপাবলিকান দলের পক্ষ থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল রাজনীতিবিদ নিকি হ্যালি। নির্বাচনের এখনো ২০ মাস বাকি। এরই মধ্যে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপ্রাপ্তির আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করেছেন নিকি। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি সাউথ ক্যারোলাইনার চার্লসটন থেকে টুইটারে নির্বাচনী প্রচারণার এক ভিডিও পোস্ট করেন।   সেখানে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার ঘোষণা দিয়ে নিকি বলেছেন, ‘আমি নিকি হ্যালি এবং আমি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রতিযোগিতায় নামছি। এখন পিছিয়ে থাকার সময় নয়। আর্থিক দায়িত্ব থেকে সীমান্তের নিরাপত্তা ও দেশকে আরও মজবুত করা, সেই সঙ্গে আমাদের গর্ব ও উপলক্ষকে নতুন করে আবিষ্কার করার এটাই সময়।’ এসময় সাবেক এ মার্কিন রাষ্ট্রদূত সরাসরি প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও তার সতীর্থদের সমালোচনা করলেও ট্রাম্পের বিষয়ে নিরব থাকেন।  তার দাবি, ‘আমাদের সেই নেতাদেরই প্রয়োজন যারা শত্রুর সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়ায় ও বন্ধুদের পাশে দাঁড়ায়।’

৫১ বছর বয়সী নিকি যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যের সাবেক গভর্নর। তিনি ট্রাম্পের প্রেসিডেন্টের মেয়াদে জাতিসংঘে মার্কিন দূতের দায়িত্বও পালন করেন। ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাকলিকান প্রার্থী নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলে, তখন ট্রাম্পবিরোধী শিবিরেই অবস্থান ছিল নিকির। রিপাবলিকান প্রার্থী মার্কো রুবিওর হয়ে নির্বাচনী মাঠে নামেন। তারপর নির্বাচনী হাওয়া পাল্টাতে থাকে। সেই হাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিকিও শিবির বদলে হয়ে ওঠেন ট্রাম্প অনুসারী। ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর গুঞ্জন ওঠে, নিকি হ্যালি পাররাষ্ট্রমন্ত্রী হতে চলেছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জাতিসংঘের মার্কিন রাষ্ট্রদূতের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয় তাকে। এক সময় নিকিকে ঘিরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক থাকারও জোরালো গুঞ্জন ওঠে। তবে জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি তখন গুঞ্জনকারীদের ‘লিঙ্গবৈষম্যবাদী’ (সেক্সিস্ট) বলে নিন্দা করে এ দাবি নাকচ করেন। ১৫ ফেব্রুয়ারি চার্লসটনের এক ভাষণে নিকি তার নির্বাচনী পরিকল্পনা প্রকাশের মধ্য দিয়ে প্রচারণা শুরু করেন। এর আগে প্রচারণার ভিডিও বার্তায় ২০২৪-এর একমাত্র ঘোষিত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে স্পষ্ট চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ভারতীয় বংশোদ্ভূত এ আমেরিকান নেতা বলেছেন, ‘এখন নতুন প্রজন্মের জন্য নেতৃত্বের সময় এসেছে।’ নির্বাচনে দাঁড়ানোর যুক্তি হিসেবে এ নেতা জানান, যুক্তরাষ্ট্রে শক্তি, জাতীয় গৌরব পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য তিনি প্রেসিডেন্ট পদে লড়ছেন।

এদিকে ২০২২-এর ১৬ নভেম্বর পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট পদের জন্য লড়ার এ ঘোষণায় ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘আমেরিকাকে আবার মহান ও সেরা করে তোলার জন্য আজ রাতে আমি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের একজন প্রার্থী হিসেবে নিজেকে ঘোষণা করছি।’ পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের নির্বাচনী ইশতেহারে সীমান্ত নিরাপত্তা, জ্বালানি স্বাধীনতার মতো বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে। রিপাবলিকানদের মাঠ প্রস্তুত হওয়ার আগেই এরই মধ্যে প্রার্থীদের নিয়ে নানা জরিপ শুরু হয়েছে।  নির্বাচনী জরিপ সংস্থা ট্রাফালগার গ্রুপের সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প ৪৩ শতাংশ সমর্থন নিয়ে প্রথম স্থানে রয়েছেন। আর নিকি ১২ শতাংশ সমর্থন পেয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছেন। এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে লড়তে হলে আগে দলের মধ্যে প্রতিযোগীতা মোকাবিলা করতে হবে নিকিকে।

শৈশবের দিনগুলো

নিকি হ্যালি ১৯৭২ সালের ২০ জানুয়ারি সাউথ ক্যারোলাইনার বামবার্গ কাউন্টিতে জন্ম নেন। পুরো নাম নিম্রতা নিকি রণধাওয়া হ্যালি। নিকির বাবা-মা ভারত থেকে অভিবাসী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। বাবা অজিত সিংহ রণধাওয়া ছিলেন পাঞ্জাব কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। মা রাজ কউর রণধাওয়া দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের ছাত্রী। দুজনেই পাঞ্জাবের অমৃতসরে থাকতেন। বাবা অজিত সিং কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট অর্জন করেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলাইনায় চলে আসেন এই দম্পতি। সেখানকার ভুরহিস কলেজে ২৯ বছর ধরে জীববিজ্ঞানের অধ্যাপনা করেন অজিত সিং এবং ১৯৯৮ সালে অবসর নেন। মা রাজ কউর সাউথ ক্যারোলাইনা থেকে শিক্ষায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন এবং স্থানীয় ব্যামবার্গ পাবলিক স্কুলে সাত বছর শিক্ষকতা করেন।

মা রাজ কউর ১৯৭৬ সালে বুটিকস চালু করেন। নিকির যখন বয়স ১২, তখন তিনি মাকে ব্যবসার কাজে সহযোগিতা শুরু করেন। ১৯৮৯ সালে নিকি অরেঞ্জবার্গ প্রিপ্রেইটরি স্কুল থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি সামাজিক উন্নয়মূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত হন। পরে ১৯৯৪ সালে ক্লেমসন বিশ^বিদ্যালয় থেকে অ্যাকাউন্টিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়া শেষ করে প্রধান হিসাবরক্ষক হিসেবে মায়ের ব্যবসায় দীর্ঘদিন সহযোগিতা করেন । নিজের অভিবাসী পরিচয় নিয়ে বরাবরই গর্ব বোধ করেন নিকি। মার্কিন এই প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী বলেছেন, ‘আমি অভিবাসী বাবা-মায়ের গর্বিত সন্তান। কৃষ্ণাঙ্গ ছিলাম না। আবার শ্বেতাঙ্গও বলা যাবে না। আমি ছিলাম নিজের মতো। একেবারে আলাদা। কিন্তু আমার মা এই পার্থক্যকে মেনে না নিতে শিখিয়েছিলেন আমাকে এবং বরাবর এ দেশের সঙ্গে আমার যেখানে মিল তাতে মনোনিবেশ করতে বলেছেন।’ নিকি ১৯৯৬ সালে মাইকেল হ্যালিকে বিয়ে করেন। এর পর থেকে সক্রিয়ভাবে নানা উন্নয়ন কর্মকা-ে জড়িয়ে পড়েন। 

রাজনীতির পথচলা

২০০৪ সাল। নিকি হ্যালি সাউথ ক্যারোলাইনার লেক্সিংটন কাউন্টির ৮৭তম আসন থেকে হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভস-এর সদস্য নির্বাচিত হন। অঙ্গরাজ্যটির আইনপ্রণেতা হিসেবে শ্রম, বাণিজ্য ও শিল্প কমিটির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ২০১০ সাল নিকি হ্যালি সাউথ ক্যারোলাইনার প্রথম নারী ও প্রথম এশিয়ান বংশোদ্ভূত আমেরিকান গভর্নর নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালেও তিনি নির্বাচনে পুনরায় জয়ী হন। এর আগের ছয় বছর সাউথ ক্যারোলাইনার আইনসভায় কাটে তার। ২০১৫ সাল কঠিন অগ্নিপরীক্ষা দিতে হয় তাকে। চার্লসটনের একটি গির্জায় উগ্রপন্থি এক শে^তাঙ্গের বন্দুক হামলায় যাজক পল্লীর ৯ জন কৃষ্ণাঙ্গ নিহত হয়। নিকি তখন গভর্নরের দায়িত্বে। ওই ঘটানার প্রতিবাদে তখন অঙ্গরাজ্যটির ব্যবসায়ী ও আইনসভার সদস্যদের নিয়ে সমাবেশের আয়োজন করেন। এরপরই রাজ্যের রাজধানী থেকে কনফেডারেট পতাকা অপসারণ করানোর জন্য একটি বিল সই করেন। এই কাজটি ভীষণ কঠিন ছিল। কারণ অঙ্গরাজ্যটির বেশির ভাগ শে^তাঙ্গ বাসিন্দাদের কাছে পতাকাটি ছিল গৃহযুদ্ধে লড়াই করা পূর্বপুরুষদের স্মৃতিসৌধ। অন্যদিকে সেখানকার অনেক কৃষ্ণাঙ্গ বাসিন্দা পতাকাটিকে দাসপ্রথা ও নিপীড়নের প্রতীক হিসেবে দেখত। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে গভর্নরের পদ থেকে ইস্তফা দেন।

মার্কিন জাতীয়তাবাদের রক্ষক

রিপাবলিকান পার্টিতে ভারতীয় অভিবাসী বাবা-মায়ের মেয়ে নিকির সমাদর একজন পাক্কা রক্ষণশীল হিসেবে। তবে তিনি গর্ভপাতবিরোধী মতাদর্শে বিশ^াসী। সেই সঙ্গে অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে সরকারি কঠোর দমন-পীড়নকে সমর্থন করতে পিছপা হন না। রূপান্তরকামীদের জন্য বাথরুমের ব্যবহার সংক্রান্ত আইনেরও ঘোর বিরোধী তিনি। ইসরায়েলের গোড়া সমর্থক নিকি। নিকি ২০১৭ থেকে ২০১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত জাতিসংঘে নিযুক্ত ২৯তম মার্কিন রাষ্ট্রদূত ছিলেন । বিদেশে মার্কিন স্বার্থের একজন বিশ্বাসযোগ্য রক্ষক হিসেবে নিজেকে তুলে ধরেন। তিনি যখন জাতিসংঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে যোগ দেন, সে সময় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পরমাণু চুক্তি থেকে নিজেকে সরিয়ে নেয়। এর পর থেকেই নিকি বেশ কিছু ইস্যুতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে নিজের দূরত্ব বাড়াতে থাকেন। ট্রাম্প প্রশাসনের সদস্যদের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে ২০১৮ সালে রাষ্ট্রদূতের পদ থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে সরে দাঁড়ান। নিকি তার রাষ্ট্রদূতের দুই বছরের মেয়াদে মোটা দাগের মার্কিন স্বার্থের বাস্তবায়ন ঘটান।  এসময় তিনি রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেন, যা তার হোয়াইট হাউজের সহকর্মীদের যন্ত্রণার মধ্যে ফেলে দেয়। ২০১৮ সালে তার ঘোষণাতেই যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল থেকে বেরিয়ে আসে। তবে ২০২০ সালে নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে নিকিকে দৃঢ়ভাবে দলের বিপক্ষেও অবস্থান নিতে দেখা যায়। সে সময় তিনি ফলাফলের ওপর ভিত্তিহীনভাবে সন্দেহ প্রকাশ করায় সহকর্মী রিপাবলিকানদের সমালোচনা করেন। ২০১৬ সালে তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে অবৈধ অভিবাসন বন্ধের দাবি তুলে প্রশংসা কুড়ান। ওই বছরই টাইম ম্যাগাজিনের ১০০ প্রভাবশালী নারীর তালিকায় স্থান পান নিকি হ্যালি।

নিকির ইউটার্ন

রিপাবলিকান রাজনীতিবিদ নিকি হ্যালি এক সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। কিন্তু বর্তমানে ট্রাম্পের কঠোর সমালোচকদের একজন তিনি। প্রতিযোগী ট্রাম্পের কাছে নিজেকে আরও বেশি লক্ষ্যবস্তু করে তুলে নিকি বলেন, ‘আমার সম্পর্কে আপনাদের জানা উচিত :  আমি কটূক্তি (বুলি) সহ্য করি না। এবং যখন আপনি তার জবাব দেন, যদি সে সময় আপনি হিল পরে (একজন নারী হিসেবে) থাকেন, তখন তা তাদের আরও বেশি আঘাত করে।’এর আগে ট্রাম্পের এই সাবেক অনুসারী বলেছিলেন, ট্রাম্প নির্বাচনে অংশ নিলে তিনি প্রেসিডেন্ট পদে লড়বেন না। ২০২০ সালেও ইউএসএ টুডেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিকি বলেন, হোয়াইট হাউজের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখন যথার্থ সময় নয়। কিন্তু দুই বছর না যেতেই ‘ব্যাপক পরিবর্তন’-এর প্রয়োজন উপলব্ধি করেন রিপাবলিকানদের প্রিয় মুখ নিকি। এর আগে ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি যখন মার্কিন পার্লামেন্টের ক্যাপিটল হলে হামলা হয়, তখনো নিকিকে ট্রাম্পের আচরণের সমালোচনা করতে দেখা যায়। তবে সব বাঁধাকে পেছনে ঢেলে ৫১ বছর বয়সী নিকি ৮০ বছরের বাইডেন ও ৭৬ বছরের ট্রাম্পের বিপরীতে নিজের তারুণ্যকে বাজি ধরেছেন এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বে ‘নতুন প্রজন্মের’ ডাক দিয়েছেন। এবারের নির্বাচনেও জাতীয়তাবাদের তুরুপের সেই তাস ব্যবহার করে হুঙ্কার দিয়েছেন, ক্ষমতায় এলে আমেরিকা-বিদ্বেষীদের সব রকম আর্থিক সহায়তা বন্ধ করে দেবেন তিনি, যে তালিকায় চীনের পাশাপাশি রয়েছে পাকিস্তানসহ আরও বেশ কয়েকটি দেশ। কিন্তু নিকির মনোনয়ন প্রার্থিতার ঘোষণাকে প্রত্যাখ্যান করেছে ট্রাম্প শিবির। সাবেক এ প্রেসিডেন্টের অনুসারী ও তার ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ গোষ্ঠীর প্রধান টেলর বুদোইচ নিকির প্রার্থিতাকে খারিজ করে বলেছেন, ‘নিকি হ্যালি আসলে অন্য ধারার রাজনীতিক।’

মনোনয়ন প্রার্থীরা

রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটিক  উভয় দল নিজেদের প্রার্থী চুড়ান্ত করতে প্রথমে প্রাইমারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত করবে। একজন মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থী দলীয় প্রাইমারি নির্বাচনে জয় পেলে তবেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পদপ্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন। এমন প্রেক্ষাপটে রিপাবলিকানদের প্রাইমারিতে প্রার্থিতার লড়াইয়ে নামার ঘোষণা করেছেন নিকি হ্যালি। একজন সম্ভাব্য রিপাবলিকান প্রার্থী হিসেবে নাম উঠে এসেছে ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিসেন্টিস। অন্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স, সাউথ ক্যারোলাইনার সিনেটর টিম স্কট, নিউ হ্যাম্পশায়ারের গভর্নর ক্রিস সুনুনু এবং আরকানসাসের সাবেক গভর্নর আসা হাচিনসন।

আশা করা হচ্ছে, ২০২৪ সালের প্রথম রিপাবলিকান মনোনীত প্রাইমারিগুলোর মধ্যে একটির আয়োজন করবে সাউথ ক্যারোলাইনা। এবং অঙ্গরাজ্যটি চূড়ান্ত প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। রিপাবলিকান দলের এক ডজনেরও বেশি নেতা ও কৌশলবিদদের মতে, অনেক রিপাবলিকান নেতাই অঙ্গরাজ্যটির জন্য ট্রাম্পের বিকল্প হিসেবে বেশ কয়েকজন প্রার্থী খুঁজছেন। কারণ সাবেক এই প্রেসিডেন্টের এবারে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। তবে বেশিরভাগ প্রাথমিক জরিপে দেখা যাচ্ছে, সাউথ ক্যারোলাইনায় ট্রাম্প এখনো জনপ্রিয়।