লাফার্জের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি মুনাফা ও লভ্যাংশ

কাঁচামাল, জাহাজ ভাড়া ও জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং বিনিময় হারে বড় লোকসানের কারণে যখন সব ধরনের শিল্প অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে, ঠিক সে সময় সিমেন্ট উৎপাদনকারী কোম্পানি লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ তাদের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি মুনাফা করেছে। কাঁচামালের নিজস্ব খনি থাকায় উচ্চমূল্যের আঁচ গায়ে লাগেনি কোম্পানিটির। বরং নিজের চাহিদা মিটিয়ে অন্য কোম্পানির কাছে কাঁচামাল বিক্রি করে মুনাফা আরও বাড়িয়ে নিতে পেরেছে।

২০২২ সালের হিসাব বছরে দেশের শীর্ষস্থানীয় সিমেন্ট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের নিট মুনাফা হয়েছে ৪৪৫ কোটি টাকা, যা কোম্পানিটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ২০২১ সালে কোম্পানিটির নিট মুনাফা হয়েছিল ৩৮৮ কোটি টাকা। সে হিসেবে ২০২২ সালে লাফার্জহোলসিমের নিট মুনাফা বেড়েছে প্রায় ১৫ শতাংশ।

সর্বোচ্চ মুনাফা বছরে কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের জন্যও ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

গতকাল লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের পরিচালনা পর্ষদ ২০২২ সালের জন্য প্রতিটি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ারের বিপরীতে ১৫ শতাংশ হারে চূড়ান্ত লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর আগে কোম্পানিটি ৩৩ শতাংশ অন্তর্বর্তীকালীন লভ্যাংশ দিয়েছিল। ফলে অন্তর্বর্তীকালীন লভ্যাংশসহ কোম্পানিটি ২০২২ সালে ৪৮ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করল, যা কোম্পানিটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

অথচ কাঁচামাল আমদানিতে উচ্চব্যয় ও বিনিময় হারের কারণে দেশের অপর বহুজাতিক সিমেন্ট উৎপাদনকারী কোম্পানি হাইডেলবার্গসিমেন্ট বাংলাদেশ বড় ধরনের লোকসানে পড়েছে। ২০২২ সালের ৯ মাসে কোম্পানিটির নিট লোকসান দাঁড়িয়েছে ২৪ কোটি টাকা। এ সময়টায় দেশীয় অন্যান্য সিমেন্ট উৎপাদনকারী কোম্পানিও মুনাফার চ্যালেঞ্জে রয়েছে।

গতকাল লভ্যাংশ নির্ধারণী পর্ষদ সভা শেষে লাফার্জহোলসিম কর্র্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০২২ সালে নেট বিক্রি ১৫ শতাংশ বেড়েছে। এ সময় পন্য বিক্রি থেকে আয় হয়েছে ২ হাজার ৩৫৯ কোটি টাকা হয়েছে, যা ২০২১ সালে ছিল ২ হাজার ৫৩ কোটি টাকা। সিমেন্ট শিল্পের জন্য কঠিনতর বছরেও আয়কর পূর্ববর্তী পরিচালন মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৫৯৭ কোটি টাকা, যা আগের বছরের চেয়ে ২৩ শতাংশ বেশি। আর কর পরিশোধের পর লাফার্জহোলসিমের নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৪৪৫ কোটি টাকা, যা আগের বছরের চেয়ে ১৪ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। নতুন পণ্য, উদ্ভাবনী সমাধান এবং ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট মুনাফা বাড়াতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে বলে জানিয়েছে লাফার্জ। ২০২২ সালে লাফার্জের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ৩ টাকা ৮৩ পয়সা, যা আগের বছরে ছিল ৩ টাকা ৩৪ পয়সা। ২০২২ সালেও কোম্পানিটির ব্যয় সংকোচন নীতি অব্যাহত ছিল, যা দারুণ আর্থিক ফলাফল অর্জনে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে।

আর্থিক ফলাফল প্রসঙ্গে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী ইকবাল চৌধুরী বলেন, “২০২২ লাফার্জহোলসিমের জন্য একটি দারুণ বছর ছিল এবং আমরা মুনাফা এবং তারল্য সংগ্রহ উভয় ক্ষেত্রেই রেকর্ড ফলাফল অর্জনে সক্ষম হয়েছি। আমরা ‘সুপারক্রিট প্লাস’ নামে নতুন টেকসই সিমেন্ট ব্র্যান্ড বাজারে এনেছি, অ্যাগ্রিগেটস ব্যবসার প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করেছি, ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট এবং নতুন চ্যানেলগুলো সম্প্রসারিত করেছি। ২০৫০ সালের মধ্যে একটি কার্বন নিউট্রাল কোম্পানি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে আমাদের টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি ‘জিওসাইকেল’ অগ্রণী ভূমিকা রেখে চলেছে। আমরা ২০২৩ সাল নিয়ে আশাবাদী এবং নতুন নতুন উদ্ভাবনী ও টেকসই পণ্য বাংলাদেশের বাজারে আনা অব্যাহত থাকবে, যা বাজারে অন্যদের চেয়ে আমাদের আলাদা করবে।”