শুধু কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নয়, এখন থেকে জ¦ালানি তেলসহ সবধরনের বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কোম্পানি ইচ্ছেমতো ঋণ নিতে পারবেন। বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে একক গ্রাহক হিসেবে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপকে বেঁধে দেওয়া ঋণসীমা তুলে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
এর ফলে জ¦ালানি তেল আমদানিনির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সুবিধা পাবে। গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে এমন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আগে গত নভেম্বর মাসে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে ৫ বছরের জন্য এ সুবিধা দেওয়া হয়েছিল।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রয়োজনীয় অর্থ সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখিবার লক্ষ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কোনো একক ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপকে কোনো ব্যাংক কর্তৃক ঋণ প্রদানে বাংলাদেশ ব্যাংক হইতে অনুমোদন প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১ এর ২৬খ(১) ধারার শর্তাংশে বর্ণিত নিষেধাজ্ঞা আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর হবে না। বিদ্যুৎ খাতে জ্বালানি তেলসহ অন্যান্য কাঁচামাল আমদানি খাতে এ অর্থ ব্যয় করা যাবে। ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী ২৫ শতাংশের পরিবর্তে ঊর্ধ্বসীমা কত হবে তা বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারণ করবে।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, একক গ্রাহক হিসেবে কোনো ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপকে কোনো ব্যাংক মূলধনের ২৫ শতাংশের (ফান্ডেড ও নন-ফান্ডেড মিলিয়ে) বেশি ঋণ দিতে পারে না। ২০২২ সালের জানুয়ারিতে এ হার নির্ধারণ করা হয়, যা এর আগে ৩৫ শতাংশ ছিল। অপরদিকে ফান্ডেড ঋণের বেলায় তা মূলধনের সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ হবে। শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে ২৫ শতাংশের পুরোটাই ফান্ডেড ঋণ দেওয়া যাবে।
এর আগে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি বেসরকারি বিদ্যুৎ খাতের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিআইপিপিএ নেতারা গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদারকে জানান, ডলার সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মূল উপাদান জ্বালানি তেল আমদানির জন্য এলসি খুলতে গিয়েও সমস্যায় পড়ছেন। এমন অবস্থা চলতে থাকলে আগামী মার্চে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো।