চুয়াডাঙ্গার ভুট্টাক্ষেতে দেখা দিয়েছে ছত্রাকজনিত ফিউজারিয়াম স্টক রট নামে এক ভাইরাস। এ ভাইরাসের আক্রমণে মাঠের পর মাঠ ভুট্টাগাছ বিবর্ণ হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে। পচে যাচ্ছে শিকড়, গোড়া ও কান্ড। প্রতিকার না পেয়ে নিরুপায় হয়ে পড়েছেন ভুট্টাচাষিরা। কৃষকদের অভিযোগ, মাঠে ভুট্টার এত বড় ক্ষতি হলেও কৃষি কর্মকর্তাদের দেখা পাননি তারা।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, আর কদিন পরই শুরু হতো ক্ষেত থেকে ভুট্টা তোলার কাজ। সেভাবে সব প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন চাষিরা। কিন্তু ছত্রাকজনিত এ ভাইরাস ম্লান করে দিয়েছে তাদের সেই আশা। ফলন ঘরে ওঠার আগেই মাঠে শুকিয়ে নষ্ট হচ্ছে ভুট্টা। কীটনাশক ও ওষুধ স্প্রে করেও কোনো প্রতিকার হয়নি। বিভিন্ন এনজিও থেকে লোন নিয়ে মাঠে ভুট্টা লাগিয়ে অনেক কৃষকের এখন মাথায় হাত।
চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, জেলায় এবার ৪৯ হাজার ৪২০ হেক্টর জমিতে ভুট্টার চাষ হয়েছে। কিন্তু ভাইরাসের আক্রমণে সেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার হিজলগাড়ি গ্রামের কৃষক আবদুর রহমান বলেন, ‘আমি এবার ৫ বিঘা জমিতে ভুট্টা লাগিয়েছি। তবে ভাইরাসের কারণে পুরো ক্ষেতের ভুট্টা পুড়ে শেষ হয়ে গেছে। মাঠে একে একে সব ভুট্টা নষ্ট হয়ে যাওয়া চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করতে পারিনি।’
একই গ্রামের চুন্নু মিয়া অভিযোগ করে বলেন, ‘এনজিও থেকে বড় অঙ্কের টাকা লোন করে জমি লিজ নিয়ে ভুট্টা লাগিয়েছি। ভুট্টায় ভাইরাস লাগার পর চুয়াডাঙ্গা কৃষি অফিসারের কাছে গেলেও এক দিনও কোনো কৃষি কর্মকর্তা আমার মাঠ দেখতে আসেননি। যখন ৩ বিঘা মাঠের ভুট্টা সব ভাইরাসে পুড়ে শেষ হয়ে গেছে, তখন কর্মকর্তা বাবুরা আমাকে সান্ত¡না দিতে এসেছিলেন।’
চুয়ডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিভাস চন্দ্র সাহা বলেন, ‘হঠাৎ এই ভাইরাস নিয়ে আমরাও চিন্তিত।’