রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আগে দফায় দফায় বৈঠক ও ফোনালাপ হলেও যুদ্ধ শুরুর পর প্রথম মুখোমুখি বৈঠক করলেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন ও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। গতকাল বৃহস্পতিবার দিল্লিতে জি-২০ সম্মেলনের ফাঁকে তাদের এ বৈঠক হয়।
বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া ইউক্রেনে অভিযান চালানোর পর এটাই যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সরাসরি বৈঠক। ব্লিঙ্কেন ও ল্যাভরভ সর্বশেষ গত বছরের জুলাইয়ে ইন্দোনেশিয়ার বালিতে জি-২০ সম্মেলনে এক কক্ষে উপস্থিত হয়েছিলেন। তবে ল্যাভরভ সেখান থেকে বেরিয়ে যান বলে পশ্চিমা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, ব্লিঙ্কেন ও ল্যাভরভ আনুমানিক ১০ মিনিট কথা বলেছেন। বৈঠকে ব্লিঙ্কেন ইউক্রেনকে রক্ষায় ওয়াশিংটনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের সমর্থন ফিকে হয়ে আসতে পারে বলে রুশদের মধ্যে যেন কোনো মাত্রায় ভাবনা না থাকেসেজন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিঙ্কেন এ কথা বলেছেন।
ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ব্লিঙ্কেন তিনটি বিষয় ল্যাভরভের কাছে তুলে ধরেছেন। প্রথমত, যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের পাশে থাকবে। দ্বিতীয়ত, রাশিয়ায় বন্দি যুক্তরাষ্ট্রের পল হোয়েলানকে ছেড়ে দেওয়া। এবং তৃতীয়ত পারমাণবিক চুক্তিসংক্রান্ত বিষয়টি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত থেকে রাশিয়ার সরে আসা।
অবশ্য এএফপি বলছে, রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা ব্লিঙ্কেনের সঙ্গে ল্যাভরভের এ বৈঠককে খুব একটা গুরুত্ব দেননি। রাশিয়ার বার্তা সংস্থা আরআইএ নভোস্তিকে তিনি বলেছেন, ব্লিঙ্কেনই এই বৈঠকের উদ্যোগ নিয়েছিলেন এবং এটা স্থায়ী কিছু নয়। গুরুত্বপূর্ণ কোনো আলোচনা বা প্রকৃত অর্থে কোনো বৈঠক হয়নি।