ক্ষেপণাস্ত্র ছাড়িয়ে আলোচনায় ১০ বছরের মেয়ে

উত্তর কোরিয়া সফল ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালালে তা নিয়ে আলোচনার ঝড় ওঠে। তবে সম্প্রতি দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নয়, সর্বোচ্চ নেতা কিম জং-উনের মেয়েকে নিয়ে বিশ্লেষকরা নানা ধরনের আলোচনায় মশগুল। লিখেছেন তৃষা বড়ুয়া

বাবার পাশে ছোট্ট মেয়ে

কিম ইল-সাং। উত্তর কোরিয়ার প্রতিষ্ঠাতা। তার নেতৃত্বে ১৯৩২ সালের ২৫ এপ্রিল গড়ে তোলা হয় জাপানবিরোধী গেরিলা বাহিনী কোরিয়ান পিপলস রেভল্যুশনারি আর্মি। পরে ১৯৪৮ সালে ওই আর্মি নিয়মিত সেনাবাহিনীতে রূপান্তরিত হয়। নতুন সেনাবাহিনীর নাম দেওয়া হয় কোরিয়ান পিপলস আর্মি। ৮ ফেব্রুয়ারি ছিল কোরিয়ান পিপলস আর্মির ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ উপলক্ষে রাজধানী পিয়ংইয়ং-য়ের কিম ইল-সাং স্কয়ারে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করে কোরিয়ান পিপলস আর্মি। কুচকাওয়াজে অংশ নেয় ৩০ হাজারের বেশি সেনা। কিম ইল-সাং স্কয়ারে আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ট্যাংক, অস্ত্র ও গোলাবারুদ প্রদর্শন করে উত্তর কোরিয়া তার সামরিক শক্তি বিশ্বকে ফের জানান দেয়। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর একাধিক ছবি প্রকাশ করে। সেসব ছবিতে একজনকে দেখে অনেকে বিস্মিত হন। তিনি আর কেউ নন, উত্তর কোরিয়ার শাসক কিম জং-উনের ১০ বছর বয়সী মেয়ে কিম জু-এ। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, ‘ওয়ার্কার্স পার্টি অব কোরিয়ার সাধারণ সম্পাদক ও ডেমোক্রেটিক পিপলস রিপাবলিক অব কোরিয়ার স্টেট অ্যাফেয়ার্সের প্রেসিডেন্ট কিম জং-উন তার প্রাণপ্রিয় মেয়ে কিম জু-এ ও স্ত্রী রি সল জুকে নিয়ে কিম ইল-সাং স্কয়ারে উপস্থিত হন।’ সেদিন কিম জু-এর পরনে ছিল সোনার বোতাম লাগানো কালো পশমের কোট, হাতে চামড়ার দস্তানা আর মাথায় কালো টুপি। এ নিয়ে কয়েক মাসের মধ্যে জনসম্মুখে বাবার সঙ্গে পাঁচবার হাজির হয় কিম জু-এ। ৮ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আগের দিন এক সেনানিবাসে মা-বাবার সঙ্গে জমকালো ভোজে অংশ নেয় সে। উত্তর কোরিয়ার সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভোজের ছবিতে দেখা যায়, কিম জু-একে ঘিরে আছেন দেশটির উচ্চপর্যায়ের সামরিক কর্মকর্তারা।

কিমের উত্তরসূরি?

কোরিয়ান পিপলস আর্মির ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন কিম জং-উনের মেয়ের উপস্থিতি স্বভাবতই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নজর কাড়ে। বিশেষ করে ওইদিন উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কিমের মেয়ে সম্পর্কে বলার সময় যেসব শব্দ ব্যবহার করে, তা নিয়ে রীতিমতো ব্যবচ্ছেদ শুরু হয়ে যায়। একজন রাষ্ট্রনায়কের সন্তানকে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কীভাবে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে, কোন শব্দ ব্যবহার করছে, তা হয়তো অন্য দেশের শাসকের সন্তানের ক্ষেত্রে সেভাবে কেউ খেয়াল করতেন না। কিন্তু উত্তর কোরিয়ার শাসক কিম আলাদা। তার পরিবার নিয়ে কেউ খুব বেশি কিছু জানেন না। বলা ভালো, জানতে দেওয়া হয় না। উত্তর কোরিয়ার সংবাদমাধ্যম কিমের ছেলেমেয়ে নিয়ে দীর্ঘদিন মুখ খোলেনি। এমনকি কিমের ১৩, ১০ ও ৬ বছর বয়সী তিনটি ছেলেমেয়ে আছে বলে দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা গত বছর দাবি করলেও চুপ করেছিল উত্তর কোরিয়া। এর আগে কিমের সন্তানসন্ততির অস্তিত্ব সম্পর্কে মানুষ প্রথম জানতে পারে ২০১৩ সালে। ওই বছর যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পেশাদার বাস্কেটবল খেলোয়াড় ডেনিস রডম্যান উত্তর কোরিয়া গিয়েছিলেন। তিনি সে সময় দাবি করেছিলেন, কিমের মেয়ে কিম জু-একে দেখেছেন তিনি। উত্তর কোরিয়া সফর শেষে ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ানকে রডম্যান বলেছিলেন, কিমের পরিবারের সঙ্গে সাগরের ধারে অবসর সময় কাটিয়েছেন তিনি। কিমের ছোট্ট শিশুকন্যা কিম জু-একে কোলে নেওয়ার সৌভাগ্য হয় তার।

দক্ষিণ কোরিয়া বা ডেনিস রডম্যান কিমের সন্তানদের নিয়ে কথা বললেও তাদের নিয়ে উত্তর কোরিয়ার সংবাদমাধ্যম মৌনব্রত ভাঙেনি। এ কারণে দেশটির সর্বোচ্চ নেতার ছেলেমেয়ে সম্পর্কে সবাই কম-বেশি অন্ধকারে আছেন। ধারণা করা হয়, কিম জু-এ তার দ্বিতীয় সন্তান। ২০১৩ সালে তার জন্ম। কিম জু-এর দুই ভাইবোন আছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন কিম জু-এর ছবি প্রকাশ করে তাকে কিমের ‘সবচেয়ে প্রাণপ্রিয়’ও ‘মূল্যবান সন্তান’ হিসেবে উল্লেখ করে উত্তর কোরিয়ার সংবাদমাধ্যম। এসব শব্দ চয়নের মধ্য দিয়ে ১০ বছর বয়সী কিম জু-এর প্রতি বিশেষ সম্মান প্রদর্শন করা হয়। একই সঙ্গে শব্দগুলো রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাবতে বাধ্য করছে কিমের দ্বিতীয় সন্তানই কি হতে যাচ্ছে তার উত্তরসূরি?

উত্তর কোরিয়ার গবেষক ও পর্যবেক্ষকদের কাছে উত্তরাধিকার বিষয়টি বরাবরই বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এ নিয়ে তাদের জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। তিন মাস আগে কিম জং-উনের মেয়ে কিম জু-এর ছবি প্রথম প্রকাশ করে দেশটির সংবাদমাধ্যম। উত্তর কোরিয়ায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নেই। এ কারণে দেশটির গবেষক ও পর্যবেক্ষকরা সতর্কতা অবলম্বন করছেন। নয়তো তারা হয়তো এরই মধ্যে সরাসরি বলেই ফেলতেন, কিম জু-এর প্রকাশ্যে আসার অর্থ, সে-ই হচ্ছে তার বাবার উত্তরাধিকারী। কিম জং-উনের সময় কী ঘটেছিল, তা এ ক্ষেত্রে উল্লেখ করা যেতে পারে। ২০১১ সালে কিম জং-উনের বাবা উত্তর কোরিয়ার সাবেক সর্বোচ্চ নেতা কিম জং-ইল ৭০ বছর বয়সে মারা যান। তিনি ছিলেন উত্তর কোরিয়ার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা। ১৯৯৪ থেকে ২০১১ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দেশকে নেতৃত্ব দেন কিম জং-ইল। তার মৃত্যুর মাত্র এক বছর আগে সবাই জানতে পারেন, তার সাত ছেলেমেয়ের মধ্যে কিম জং-উনই হচ্ছেন তার উত্তরাধিকার। উত্তর কোরিয়ার গবেষকরা বিশ্বাস করেন, কিম জং-উনের বয়স যখন মাত্র আট, তখনই তাকে উত্তরাধিকার করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে ফেলেন তার বাবা এবং এটি সে সময় শুধু দেশটির সেনাবাহিনীর শীর্ষ নেতারাই জানতেন। কিম জং-উনের দ্বিতীয় সন্তান কিম জু-এ আগামীতে দেশের নেতৃত্ব দেবে, এ নিয়ে গবেষকদের বড় অংশ পরোক্ষ ইঙ্গিত দিলেও কেউ কেউ অবশ্য এও মনে করছেন, কিম জং-উনের উত্তরাধিকার নিয়ে আলোচনা বা জল্পনা-কল্পনা করার সময় এখনো আসেনি, যেখানে বর্তমান শাসকের বয়স মাত্র ৩৯।

নারী নেতৃত্ব

উত্তর কোরিয়ার সমাজ মূলত পিতৃতান্ত্রিক। দেশটির রাজনীতিতে নারী প্রতিনিধিত্বের হারের দিকে তাকালে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়। তবে উত্তর কোরিয়ার উচ্চপর্যায়ের নেতৃত্বে কয়েকজন নারী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। এদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ব্যক্তি হলেন কিম জং-উনের ৩৫ বছর বয়সী বোন কিম ইয়ো-জং। তিনি একসঙ্গে দেশটির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন। উত্তর কোরিয়ার প্রভাবশালী কূটনীতিক ছাড়াও তিনি ওয়ার্কার্স পার্টি অব কোরিয়ার পাবলিসিটি অ্যান্ড ইনফরমেশন ডিপার্টমেন্টের ডেপুটি ডিপার্টমেন্ট ডিরেক্টর। পাশাপাশি কিম ইয়ো-জং দেশটির শক্তিশালী স্টেট অ্যাফেয়ার্স কমিশনের একমাত্র নারী সদস্য। উত্তর কোরিয়ার বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করেন, শাসনকাঠামোয় নারীদের উপস্থিতি সেভাবে দেখা না গেলেও দেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতায় একজন নারীকে কল্পনা করা ভবিষ্যতে খুব কষ্টকর নাও হতে পারে। উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতা ও কিম জং-উনের পরিবার অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত। সেই হিসেবে ওই পরিবারের মেয়ে কিম জু-এ এরই মধ্যে একধাপে এগিয়ে আছে। তাকে অল্প বয়সে জনসম্মুখে হাজির করার সম্ভাব্য কারণ হতে পারে, সেনাবাহিনী ও জনগণের মধ্যে তাকে ঘিরে এক ধরনের গ্রহণযোগ্যতার বাতাবরণ সৃষ্টি করা, যাতে করে ভবিষ্যতে যখন কিম জং-উনের উত্তরাধিকার নিয়ে আলোচনা উঠবে, তখন উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ পদে কিম জু-একে বসানো অসম্ভব হয়ে না পড়ে। অবশ্য এ বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেন টোকিওর ওয়াসেদা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও কিম রাজবংশ নিয়ে বইয়ের লেখক তোশিমিতসু শিগেমুরা। তিনি বলেন, ‘কিম জু-এ বাবার উত্তরসূরি হবে, এটা আমার পক্ষে বিশ্বাস করা কঠিন কারণ সে মেয়ে। উত্তর কোরিয়ার সমাজ অত্যন্ত রক্ষণশীল। কিম জু-এর পক্ষে বাবার উত্তরাধিকার হওয়া প্রায় অসম্ভব। আমি মনে করি, যখন সময় আসবে, কিম জং-উন দেশশাসনের দায়িত্ব ছেলেকেই দেবেন। তিনি চান, তার পরিবারের কেউ দেশের নেতা হবেন, অন্য কেউ নন। এই পদ যাতে হাতছাড়া না হয়, তার জন্য তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।’এ বিষয়ে বিবিসির সিওল প্রতিনিধি জিন ম্যাকেঞ্জি বলেন, ‘কিম জং-উনের মেয়ের প্রকাশ্যে আসার ঘটনা উত্তর কোরিয়ার রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মনোযোগ কেড়েছে, এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তাদের অনেকের কাছে ৮ ফেব্রুয়ারির ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রকে আঘাত করতে সক্ষম উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষার চেয়েও বেশি কিছু ছিল। কোরিয়ান পিপলস আর্মির ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন কিম জু-এর উপস্থিতি আমাদের কয়েকটি প্রশ্নের মুখোমুখি করেছে। প্রথমত, কিমের এই মেয়েই কি তার উত্তরাধিকার হতে যাচ্ছে? এটি হওয়া অসম্ভব নয়। কিমের পারিবারিক ঐতিহ্য তাই বলে। কিম তার পরিবারের তৃতীয় প্রজন্মের সদস্য। এই পরিবার ৭০ বছরের বেশি সময় উত্তর কোরিয়া শাসন করছে। কিম চাইবেনই তার সন্তানদের একজন দেশের সর্বোচ্চ নেতা হোক। দ্বিতীয়ত, কিম জু-এর বয়স মাত্র ১০। কেন এখন তাকে সামনে আনা হচ্ছে? কিম যদি এত অল্প বয়সী মেয়েকে এখনই দেশের নেতা হওয়ার জন্য প্রস্তুত করা শুরু করেন, এর অর্থ কি ৩৯ বছর বয়সী এই শাসক জটিল শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন? কিম অসুস্থ, এমনটা শোনা যাচ্ছে। এ কারণে কি তিনি মেয়েকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নিয়ে যাচ্ছেন? তাকে পরিবেশের সঙ্গে অভ্যস্ত করাচ্ছেন? তৃতীয়ত, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি ও কিমের মেয়ের উপস্থিতির মধ্যে কোনো ধরনের যোগাযোগ আছে কি? আমি মনে করি, সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ দিবসে কিমের মেয়েকে হাজির করার মধ্য দিয়ে এই ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, ভবিষ্যতে দেশ পরিচালনার ক্ষমতা পাওয়ার পর কিম জু-এ পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি আরও উন্নত করতে ভূমিকা রাখবে। সম্প্রতি কিম জং-উন বলেছেন, কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি থেকে তিনি সরে আসবেন না। সশস্ত্র বাহিনীর অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে সেনানিবাসে আয়োজিত ভোজে মেয়েকে নিয়ে গিয়ে তিনি হয়তো বিশ্বনেতাদের এই বার্তাই দিতে চেয়েছেন, পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি তার উত্তরসূরি বন্ধ তো করবেই না, বরং আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।’

দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনৈতিক বিশ্লেষক চিয়ং সিয়ং-চ্যাং বলেন, ‘কিম যদি মনে করেন, তার ছেলের মধ্যে নেতৃত্বের ক্ষমতা নেই, তাহলে তিনি তাকে উত্তরসূরি করবেন না। পরিবারের চতুর্থ প্রজন্মের প্রতিনিধি কিম জু-একে শাসনভার দিলে উত্তর কোরিয়ার সমাজ এ নিয়ে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। হয়তো এ কারণে কিম জং-উন তার মেয়েকে সেসব বিশেষ অনুষ্ঠানে নিয়ে যাচ্ছেন, যেখানে গেলে মানুষ শুধু তার প্রতিই আনুগত্য দেখাবে না, কিম জং-এর প্রতিও অনুগত থাকবে, বর্তমানে এবং ভবিষ্যতেও। একজন রাজার যখন একাধিক সন্তান থাকে, তখন তিনি তার সবচেয়ে আদরের সন্তানকে উত্তরাধিকার করবেন, এটাই স্বাভাবিক। ধারণা করা হচ্ছে, এখন থেকে কিম জু-একে মাঝেমধ্যেই তার বাবার পাশে দেখা যাবে এবং এর মধ্য দিয়ে তাকে যোগ্য উত্তরাধিকার হিসেবে গড়ে তোলা হবে।’