৮ মার্চ বিশ্ব নারী দিবস। কর্মজীবী নারীদের জন্য এই দিবস হলেও এখন পৃথিবীর সকল নারীই এই দিবস উদযাপন করে। সময়ের পরিক্রমায় নারীদের সাজপোশাকে এসেছে পরিবর্তন। দেশীয় ঐতিহ্যবাহী পোশাকের পাশাপাশি লেগেছে পাশ্চাত্যের হাওয়াও। এক সময় এদেশের নারীদের পোশাক বলতেই ছিল ফ্রক, শাড়ি ও সালোয়ার-কামিজ, ফ্রক। একালে নারীদের পোশাকে বেশ বৈচিত্র্য এসেছে। শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, ফতুয়া, কুর্তি, কটি, ওয়ান পিস, টি-শার্ট, জিন্স সবই পরছেন এসময়ের নারীরা। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে এক্সিকিউটিভ লেভেলের নারী এখন ওয়েস্টার্ন ও দেশীয় ঐতিহ্যবাহী পোশাক রাখছেন পছন্দের তালিকায়। দেশীয় ঐতিহ্যবাহী পোশাক হিসেবে সালোয়ার-কামিজের পরিবর্তে ওয়ান পিস, ফতুয়া, কুর্তি টাইপ পোশাক পরছেন। এখন নারীর পোশাকে স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। ব্লাউজের নকশাও চোখে পড়ার মতো। জিন্স এখনকার নারীদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে। তা ছাড়া পালাজ্জো, শর্ট সালোয়ার, সিগারেট প্যান্ট, হ্যারাম, চুড়িদার তো আছেই।
পোশাকের পাশাপাশি সাজসজ্জায় বেশ বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। কাজল ছিল কালো রঙের, কিন্তু এই সময় সাদা, সবুজ, নীলসহ নানা রং তাতে যোগ হয়েছে। প্রসাধনীতেও যেমন বিবর্তন এসেছে সেই সঙ্গে মেক-আপের ধরনেও পরিবর্তন এসেছে। গোলাকার মুখ আর লম্বাটে মুখের বেস মেক-আপ কখনো এক হয় না। কন্টুরিংয়ের সাহায্যে মুখের আকৃতির পরিবর্তন করা যায় খুব সহজে, হাইলাইটারের ব্যবহার তো দেখতে পাওয়া যায় খুব বেশি। আইশ্যাডো তে এসেছে রঙের ভিন্নতা। আগে লাইট কালার বেশি দেখতে পাওয়া যেত, কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নারীরা ডার্ক কালার বেশি ব্যবহার করছে। লিপস্টিকে এমন রং নেইযা নারীরা ব্যবহার করছেন না। হেয়ার স্টাইলেও এসেছে পরিবর্তন। রিবন্ডিং করা হাইলাইট লম্বা চুলকেই নারীর প্রথম পছন্দ। হেয়ার কালারে নীল, বেগুনি, সবুজ, গোলাপির মতো ফাঙ্কি কালার ব্যবহার হচ্ছে। সোনা, হীরা, রুপার গয়নার পাশাপাশি পিতল, কাঠ, কুড়ি ও মাটির গয়না বেশি পরছে এসময়ের নারীরা। গলার ভারী ঝোলানো মালা যেমন চলছে তেমনি পাথরের চোকারও পরছেন। কানে ভারী দুল থেকে টপ দুটোই চলছে। আবার কাঠ, পিতল, পুঁতি, মুক্তা, মিনা ও পাথরের আংটি পরতেও দেখা যায়।
ফ্যাশন হাউজের আয়োজন
নারী দিবসকে ঘিরে ফ্যাশন হাউজগুলোতে এসেছে বৈচিত্র্য। নারী দিবসের বেগুনি রংকে প্রাধান্য দিয়ে ফ্যাশন হাউজগুলো নানা ধরনের পোশাক নিয়ে এসেছে। এ বছর রঙ বাংলাদেশ দিবসটি উপলক্ষে ১ থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত ২০ শতাংশ বিশেষ মূল্যছাড় রেখেছে। এ আয়োজনে শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, ওড়না, সিঙ্গেল কামিজ, সিঙ্গেল ওড়না, ফতুয়া, কুর্তি, ব্লাউজ প্রভৃতি পোশাক রেখেছে। কে ক্র্যাফট সামাজিক চেতনার ভাবনা থেকে বরাবরের মতো এবারও নারী দিবসের আয়োজন সাজিয়েছে। ফ্লোরাল, ট্র্যাডিশনাল পেইসলে, জ্যামিতিক, মিক্সড মোটিফে তৈরি করা পোশাক সারিতে শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ ছাড়াও রয়েছে ট্র্যাডিশনাল ও ফিউশনধর্মী প্যাটার্নে লং কুর্তি, রেগুলার কুর্তি, টপস, টিউনিক, কাফতান। কটন, লিনেন, সিল্ক, হাফ সিল্ক কাপড়ে তৈরি পোশাকগুলোতে নকশা ফুটিয়ে তুলতে হাতের কাজ, এমব্রয়ডারি, স্ক্রিন ও ব্লক প্রিন্ট এবং টাই-ডাই মাধ্যম ব্যবহার করা হয়েছে। তবে শুধু পার্পল, ল্যাভেন্ডার, ভায়োলেট, অরেঞ্জ, অফ হোয়াইট শুধু নয়, নারী দিবসের মূল ভাবনার সঙ্গে মিলে যায় এমন আরও কিছু রঙের পছন্দের পোশাকও পাওয়া যাবে কে ক্র্যাফটে। ডিজাইনার আনিকা জেরিন বলেন, এই দিনের পোশাকে বেগুনি রঙের ঝলক থাকতেই পারে। বেগুনি রঙের শাড়ি বা কামিজ না থাকলে, ব্লাউজ ও ওড়নাও এ রঙের হতে পারে। আবার অনুষঙ্গের রংটিও বেগুনি হোক এমনভাবেও উদযাপন করতে পারেন। নারী দিবসের পোশাকে প্রকাশ পাক স্বাচ্ছন্দ্য আর আত্মবিশ্বাস।