সারা দেশে থানাপর্যায়ে আজ আবার মাঠে নামছে বিএনপি। নিরপেক্ষ সরকারের দাবিসহ ১০ দফা দাবিতে বিএনপি পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করবে। অন্যদিকে রাজধানীতে থানাপর্যায়ে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাস-নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে শান্তি সমাবেশ করবে আওয়ামী লীগ।
ইউনিয়ন, জেলা ও বিভাগের পর আজ শনিবার সারা দেশের থানায় থানায় পদযাত্রা কর্মসূচিতে বিএনপির সঙ্গে থাকছে সরকারবিরোধী সমমনা রাজনৈতিক জোট ও দলগুলো। সরকারের পদত্যাগ, সংসদ বাতিল, ‘নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক’ সরকারের অধীনে নির্বাচনসহ ১০ দফা এবং নিত্যপণ্যের মূল্য কমানোর দাবিতে জোট ও দলগুলোর এটি অষ্টম কর্মসূচি। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণে এ কর্মসূচি পালনে বড় ধরনের শোডাউনের প্রস্তুতি নিয়েছে বিএনপি।
বিএনপির সহদপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজকের পদযাত্রা কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি আদায় ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত জনগণ। নির্দলীয় সরকার ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না, জনগণ হতে দেবে না।’
প্রতিটি থানায় কেন্দ্রীয় নেতাদের সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দুপুরের পর একযোগে রাজধানীর ৫০টি থানায় এ পদযাত্রা শুরু করবেন নেতা-কর্মীরা। ঢাকা মহানগরের পদযাত্রায় উত্তরা পূর্ব থানায় নেতৃত্ব দেবেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, পল্লবীতে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, গুলশানে ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমদ, কাফরুলে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, দক্ষিণখান থানায় জয়নুল আবদিন ফারুক।
দক্ষিণের যাত্রাবাড়ীতে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, শাহবাগে মির্জা আব্বাস, বংশালে গয়েশ^র চন্দ্র রায়, শাহজাহানপুরে এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, ড. ফরহাদ হালিম ডোনার চকবাজারের পদযাত্রায় নেতৃত্ব দেবেন। এ ছাড়া মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের অন্যান্য থানায়ও কেন্দ্রীয় নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির উদ্যোগে প্রতিটি থানায় বেলা ২টা থেকে এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে বিকেল ৩টা থেকে এ পদযাত্রা শুরু হবে। কর্মসূচি সফল করতে কয়েক দিন ধরে ঢাকা মহানগর ছাড়াও দলটির বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা নিজেদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি সভা করে নানা দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। নেওয়া হয়েছে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, থানা থেকে প্রত্যেক স্তরে ব্যাপক প্রস্তুতি।
অন্যান্য জোট, দল ও সংগঠন : গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২-দলীয় জোট এবং জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট আলাদা আলাদাভাবে রাজধানী ঢাকায় পদযাত্রা করবে। বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গণতন্ত্র মঞ্চ সমাবেশ করে কাকরাইলের নাইটিঙ্গেল রেস্তোরাঁ পর্যন্ত পদযাত্রা করবে। বিকেল ৩টায় রাজধানীর এফডিসি-সংলগ্ন দলীয় কার্যালয়সহ রাজধানীর আরও ৩টি স্থানে পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)। ঢাকা মহানগর উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম এলডিপির নেতৃত্বে পদযাত্রা হবে।
১২-দলীয় জোট বেলা ১১টায় বিজয়নগর পানির ট্যাংকের কাছে সমাবেশ করে পল্টন মোড়, দৈনিক বাংলা মোড়, কালভার্ট সড়ক হয়ে বিজয়নগরে পানি ট্যাংক পর্যন্ত পদযাত্রা করবে। জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের নেতা-কর্মীরা বেলা ১১টায় বিজয়নগরে আল-রাজী কমপ্লেক্সের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে পল্টন মোড়, জাতীয় প্রেস ক্লাব ঘুরে কাকরাইল মোড় পর্যন্ত পদযাত্রা করবে। এ ছাড়া সমমনা পেশাজীবী গণতান্ত্রিক জোট বেলা ১১টায় পুরানা পল্টন মোড় থেকে দৈনিক বাংলা মোড় পর্যন্ত পদযাত্রা করবে।
এদিকে আজ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ প্রতিটি থানায় শান্তি সমাবেশ করবে। সমাবেশে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকছেন। শ্যামপুর কদমতলীতে থাকবেন কেন্দ্রীয় সদস্য সানজিদা খানম, যাত্রাবাড়ীর ডেমরায় দলের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক মো. দেলোয়ার হোসেন, ওয়ারী, গেন্ডারিয়া ও সূত্রাপুরে থাকবেন সভাপতিম-লীর সদস্য কামরুল ইসলাম। লালবাগ, চকবাজার, কোতোয়ালি ও বংশালের সমাবেশে সভাপতিম-লীর আরেক সদস্য মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন উপস্থিত থাকবেন। মতিঝিল, পল্টন, শাহবাগ ও শাহজাহানপুরে সভাপতিমন্ডলীল সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক ও কেন্দ্রীয় সদস্য মো. সাঈদ খোকন। মুগদা, সবুজবাগ, খিলগাঁওয়ে আইনবিষয়ক সম্পাদক নজিবুল্লাহ হিরু, কলাবাগান, হাজারীবাগ, নিউমার্কেট ও ধানমন্ডিতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস উপস্থিত থাকবেন।