টানা কয়েক সপ্তাহ বিপর্যয়ের পর একটু একটু করে ঘুরে দাঁড়াচ্ছেন ভারতীয় ধনকুবের গৌতম আদানি। বিতর্কের মুখে মাত্র এক মাসে ১৩ হাজার কোটি ডলারের বেশি সম্পদ হারানোর পর ফের বাড়তে শুরু করেছে আদানি গ্রুপের শেয়ারের দর। পাচ্ছে বিদেশি বিনিয়োগও। আদানি গ্রুপে ১৮৭ কোটি ডলার বা প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জিকিউজি পার্টনারস। সংস্থাটি আদানি গ্রুপের চারটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার কিনেছে বলে জানানো হয়েছে বিবিসি ও রয়টার্সের খবরে।
গতকাল শুক্রবার বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা হিনডেনবার্গ রিসার্চের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকে এই প্রথম বড় কোনো বিনিয়োগপ্রাপ্তির ঘোষণা দিল আদানি গ্রুপ। বিনিয়োগকারীদের আদানি শিল্পগোষ্ঠী বলেছে, জিকিউজি পার্টনারসের এই বিনিয়োগ আদানি এন্টারপ্রাইজসহ চারটি কোম্পানিতে ভাগ হবে।
রয়টার্সের খবর অনুসারে, আদানি গ্রুপের মূল কোম্পানি আদানি এন্টারপ্রাইজেস লিমিটেডের ৩ দশমিক ৪ শতাংশ শেয়ার কিনেছে জিকিউজি। এতে খরচ হয়েছে প্রায় ৬৬ কোটি ২০ লাখ ডলার। এ ছাড়া ৬৪ কোটি ডলারে আদানি পোর্টস অ্যান্ড স্পেশাল ইকোনমিক জোন লিমিটেডের ৪ দশমিক ১ শতাংশ শেয়ার, ২৩ কোটি ডলারে আদানি ট্রান্সমিশন লিমিটেডের ২ দশমিক ৫ শতাংশ শেয়ার এবং ৩৪ কোটি ডলারে আদানি গ্রিন এনার্জি লিমিটেডের ৩ দশমিক ৫ শতাংশ শেয়ার কিনেছে যুক্তরাষ্ট্রের সংস্থাটি।
নতুন এই বিনিয়োগ নিয়ে আদানি গ্রুপের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা জুগেসিন্দার সিং জিকিউজির এই বিনিয়োগ আদানি শিল্পগোষ্ঠীর ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জিকিউজিকে আমরা আমাদের অবকাঠামো, টেকসই জ্বালানি, জ্বালানির রূপান্তর ও সরবরাহ খাতের কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে মূল্যায়ন করছি।
অন্যদিকে জিকিউজির চেয়ারম্যান ও প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা রাজীব জৈন বলেন, তারা বিশ্বাস করেন দীর্ঘ মেয়াদে কোম্পানিগুলোর ভালো প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে। গৌতম আদানিকে নিজের প্রজন্মের সেরা উদ্যোক্তা হিসেবে বিবেচনা করে মন্তব্য করেন রাজীব জৈন।
আদানি গ্রুপ ১৮৭ কোটি ডলারের বিনিয়োগ পাওয়া নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেও এর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের এক নিয়ন্ত্রক সংস্থা। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদানি গ্রুপের বিনিয়োগ পাওয়ার খবরটি গুজব বলে মনে করছে সংস্থাটি।
এক মাস আগে হিনডেনবার্গের প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই আদানির বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারদর হু হু করে কমছে। এখন পর্যন্ত শেয়ারবাজার তালিকাভুক্ত আদানির সাত কোম্পানির বাজার মূলধন ১৩৫ বিলিয়ন বা সাড়ে ১৩ হাজার কোটি ডলার কমে গেছে। তাতে বিশ্বের শীর্ষ ধনীর তালিকায়ও ৩৬ ধাপ নিচে নেমে গেছেন গৌতম আদানি। তবে শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে নানা উদ্যোগ নিচ্ছে আদানি গোষ্ঠী। এরই মধ্যে বড় অঙ্কের বেশ কিছু ঋণও আগেভাগে শোধ করেছে তারা।