শর্তসাপেক্ষে এক সপ্তাহের জন্য কর্মবিরতি স্থগিত করেছেন খুলনার চিকিৎসকরা। আগামী সাত দিনের মধ্যে চিকিৎসকের ওপর হামলাকারী পুলিশের এএসআই নাঈমুজ্জামান শেখকে গ্রেপ্তার ও বিচারের শর্ত দিয়ে চিকিৎসকরা এই কর্মসূচি স্থগিত করেন। গতকাল শনিবার দুপুর পৌনে ১২টায় নগরীর বিএমএ ভবনে সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেনের সঙ্গে বিএমএ নেতাদের বৈঠক শেষে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। এর আগে সকাল সোয়া ১০টা থেকে দুপুর পৌনে ১২টা পর্যন্ত দীর্ঘ দেড় ঘণ্টা বৈঠক চলে।
অন্যদিকে, চিকিৎসক ও রোগীর অভিভাবকের মধ্যকার দ্বন্দ্বের জের ধরে চিকিৎসকদের কর্মবিরতির কারণে সৃষ্ট রোগী ভোগান্তি নিরসনের দাবিতে গতকাল শনিবার বেলা ১টায় নগরীর শিববাড়ী মোড়ে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে খুলনা নাগরিক সমাজ।
চিকিৎসকদের কর্মবিরতির কারণে চার দিন ধরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, খুলনা শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রসহ মহানগরী ও জেলার সব সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হয়। হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা না পেয়ে খুলনা মহানগরীসহ দূর-দূরান্তের বহু রোগী ও তাদের স্বজনরা ফিরে যেতে বাধ্য হন। হাসপাতালে বিনা চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগও ওঠে। এ অবস্থায় গতকাল সকাল সোয়া ১০টায় নগরীর বিএমএ ভবনে সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেনের সঙ্গে বিএমএ নেতাদের বৈঠক হয়। পৌনে ১২টায় বৈঠক শেষে বিএমএ নেতারা ৭ দিনের জন্য চিকিৎসকদের কর্মবিরতি স্থগিতের ঘোষণা দেন।
বৈঠক শেষে বিএমএ খুলনার সভাপতি ডা. শেখ বাহারুল আলম বলেন, ‘৭ দিন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি স্থগিত থাকবে। এখন থেকে চিকিৎসকরা কাজে যোগদান করছেন। কিন্তু এই ৭ দিনের মধ্যে যদি অপরাধী পুলিশের এএসআই নাঈমুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে বিচারের সম্মুখীন না করা হয়, তাহলে আমরা আবার কর্মবিরতিতে ফিরে যাব। এর মাঝে আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেব। আমরা পুলিশ প্রশাসনকে মুখোমুখি করতে চাইনি। তবে দায়ী পুলিশ সদস্যকে যেন শাস্তি দেওয়া হয়।’
খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, ‘চিকিৎসকরা ৭ দিনের জন্য কর্মবিরতি স্থগিত করবে। আমরা অনুরোধ করব এখন থেকেই তারা যেন কর্মস্থলে যোগদান করেন। সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টির জন্য যার যে দায়িত্ব, সেই দায়িত্ব পালন করতে হবে।’
এদিকে, গতকাল নগরীর শিববাড়ী মোড়ে মানববন্ধন ও সমাবেশ করে খুলনা নাগরিক সমাজ। সমাবেশে বক্তারা বলেন, চিকিৎসক ও রোগীর অভিভাবকের মধ্যকার দ্বন্দ্ব, হামলার অভিযোগ, পাল্টাপাল্টি মামলা অনভিপ্রেত। উভয় পক্ষের অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে বিচার প্রক্রিয়াকে সহায়তা করে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
উল্লেখ্য, ভুল চিকিৎসার অভিযোগ এনে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে নগরীর শেখপাড়া এলাকার হক নার্সিং হোমের অপারেশন থিয়েটারে ঢুকে সাতক্ষীরায় কর্মরত পুলিশের সহকারী পরিদর্শক (এএসআই) নাঈমুজ্জামান শেখ ও তার সঙ্গীরা খুলনা আবু নাসের বিশেয়ায়িত হাসপাতালের প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডা. শেখ নিশাত আব্দুল্লাহকে মারধর করে। এ ছাড়া অপারেশন থিয়েটার ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ করেন চিকিৎসকরা। ওই ঘটনার প্রতিবাদে এবং নাঈমুজ্জামানকে গ্রেপ্তার ও বিচারে সোপর্দ করার দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ঘোষণা করে খুলনা বিএমএ। দুই পক্ষই পাল্টাপাল্টি মামলা করেছে।