নীলফামারীর জলঢাকায় বিয়ের অনুষ্ঠানে বরযাত্রীদের খাবার পরিবেশনের সময় মাংস কম দেওয়াকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষে বরের বাবার মৃত্যু হয়। গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে জলঢাকা পৌরসভা এলাকার বগুলাগাড়ির আমরুলবাড়ি ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় কনের বাবা ভ্যানচালক মো. আনোয়াররুল্লাহ্ ও প্রতিবেশী বাবুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
স্থানীয়রা জানান, নীলফামারীর জলঢাকা পৌরসভা এলাকার ভ্যানচালকের মেয়ে মাদ্রাসাপড়ুয়া ছাত্রী জান্নাতী আক্তারের সঙ্গে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাতে রংপুর জেলার হাজিরহাট মেট্রোপলিটন থানার উত্তম বাওয়াই পাড়ার গ্রামের বাসিন্দা নুর মোহম্মদের ছেলে জোনাব আলীর (২২) বিয়ে হয়। সেখানে ঠিক হয় ৩ মার্চ রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে মেয়ে বিদায় অনুষ্ঠান করা হবে কনের বাড়িতে। সেখানে বরসহ ১০০ জন বরযাত্রী আসবে।
স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বরপক্ষের আমন্ত্রিত ১০০ জনের চেয়ে দুই শতাধিক লোকজন চলে আসে। এতে খাবার কম পড়ে। প্রথম একদলের খাওয়ার পর দ্বিতীয় দলের খাওয়ার সময় তরকারি কম দেওয়া নিয়ে বর ও কনেপক্ষের লোকজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে হাতাহাতি, ধাক্কাধাক্কি শুরু হলে বহিরাগত কিছু যুবক এসে সংঘর্ষে জড়ায়। এ সময় বরের বাবা নূর মোহাম্মদ মাটিতে ঢলে পড়েন। তাকে জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
জলঢাকা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. ফজলুল হক বলেন, বরযাত্রীদের বসার ও খাবারের ব্যবস্থা করা হয় বাড়ির বাইরের প্যান্ডেলে। বরযাত্রীকে তরকারি কম দেওয়ার কারণে বচসার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বহিরাগত কিছু যুবক এসে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
নূর মোহাম্মদের মামাতো ভাই বরযাত্রী হামিজ উদ্দিন (৫০) বলেন, প্রথমে গেট ধরা নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে ১ হাজার ১০০ টাকা দিয়ে ফয়সালা হয়। এরপর ৫০ জনের মতো লোককে খাওয়াতে বসানো হয়। বরযাত্রীর পাতে মাংস দিতে বললে কনেপক্ষের লোকজন উত্তেজিত হয়ে বচসায় জড়ায়। এরপর বাইরের কিছু যুবক এসে বর ও বরের ভগ্নিপতিকে মারধর করে। বরের বাবা তাদের রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাকে পেছন দিক থেকে প্লাস্টিকের চেয়ার দিয়ে আঘাত করা হয়। এ অবস্থায় বরের বাবা জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে পড়ে যান। হাসপাতালে নিলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন। পরে নুর মোহাম্মদের ছেলে বর জোনাব আলী মামলা করেছেন। এতে কনে নিয়ে আসা হয়নি আর।
জলঢাকা থানার ওসি মো. ফিরোজ কবির বলেন, এ ঘটনায় নিহত নূর মোহাম্মদের ছেলে বর মো. জোনাব আলী বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মেয়ের বাবাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর জানা যাবে এটি পিটিয়ে হত্যা না হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু হয়েছে।