অক্সিজেন প্ল্যান্টে দ্বিতীয় দিনের উদ্ধারকাজ শুরু

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের কদমরসুল এলাকার সীমা অক্সিজেন প্ল্যান্টে বিস্ফোরণের ঘটনায় দ্বিতীয় দিনের উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

রোববার (৫ মার্চ) সকাল ৭টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের কুমিরা স্টেশনের সদস্যরা উদ্ধারকাজ শুরু করেন।

ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রাম অঞ্চলের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল মালেক বলেন, শনিবার রাতে উদ্ধার কাজ স্থগিতের পরও সারারাত ঘটনাস্থলে আমাদের টহল দল ছিল। রোববার সকাল ৭টার দিকে আমাদের উদ্ধার কাজ আবার শুরু হয়েছে ৷ আমরা সেখানে সার্চ করছি এখন।

শনিবার (৪ মার্চ) বিকেল চারটার দিকে চট্টগ্রামে সীতাকুণ্ডের কদম রসুল এলাকায় সীমা অক্সিজেন প্ল্যান্টে বিকট শব্দে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের পরপরই প্ল্যান্ট ও পাশের তিন তলা অফিস ভবনে আগুন লেগে যায়। ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিট প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, বিশাল প্ল্যান্টটিতে অক্সিজেন সিলিন্ডারগুলো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। আর পুরো প্ল্যান্টের ওপরের ছাউনি উড়ে গেছে। স্থাপনার লোহার রডগুলো বেঁকে রয়েছে।

শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্ল্যান্টের মধ্যে একটি বড় সিলিন্ডার রয়েছে যেখানে অক্সিজেন উৎপাদিত হয়ে জমা হয়। পাইপের মাধ্যমে একটি স্পটে আসে। সেই স্পট থেকে ছোট আকারের অক্সিজেন সিলিন্ডারগুলোতে অক্সিজেন রিফিল করা হয়। পুরো প্ল্যান্টে অক্সিজেন রিফিল করার দুটো স্পট রয়েছে। প্রতিটি স্পটে ৬ জন করে দুই স্পটে ১২ জন ডিউটিরত ছিলেন। বিস্ফোরণের পরপরই ওপরের ছাউনিগুলো উড়ে যায় এবং পাশের অক্সিজেন সিলিন্ডারগুলোর নিচে চাপা পড়ে ওখানে কর্মরত শ্রমিকরা।

এ ঘটনায় নিহত হয়েছেন পাঁচজন। তারা হলেন শামসুল ইসলাম (৪০), ফরিদ (৩৬), রতন লকরেট (৪৫), আবদুল কাদের (৫০) ও সালাহউদ্দিন (৩৫)। বাকি একজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

এছাড়া ২২ জন আহত হলেও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মো. নূর হোসেন ( ৩০), মো. আরাফাত (২২), মোতালেব (৫২), ফেনসি (৩০), মো. জসিম উদ্দিন (৪৫), নারায়ণ (৬০), মো. ফোরকান দাদা (৩৫), নাসিম শাহরিয়ার (২৬), মো. জাহিদ হাসান (২৬), মাকসুদুল আলম (৩০), মোহাম্মদ ওসমান (৪৫), মোহাম্মদ সোলায়মান (৪০), মোহাম্মদ রিপন (৪০) ও রোজী বেগম (২০)।

এদিকে বিস্ফোরণে অক্সিজেন প্ল্যান্ট থেকে একটি লোহার খণ্ড প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে উড়ে গিয়ে শামসুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির মাথার ওপর পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এমনিভাবে আশপাশের বাড়িঘরের গ্লাসও বিস্ফোরণের শব্দে ভেঙে যায় এবং আশপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে লোহার খণ্ড।

এই ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের জন্য অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রাকিব হাসানকে প্রধান করে সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেবে। কমিটির অপর সদস্যরা হলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা, বিস্ফোরক অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদপ্তরের কর্মকর্তা ও সীতাকুন্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৪ জুন সীমা অক্সিজেন প্ল্যান্ট থেকে প্রায় ৬০০ মিটার উত্তরের বিএম কনটেইনার ডিপোতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল।