একদিকে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে বাড়ছে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা, অন্যদিকে সাগর নিংড়ে সম্পদ আহরণ করায় হুমকিতে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য। বাণিজ্যিক স্বার্থের কারণে সাগর-মহাসাগর বাঁচাতে দীর্ঘদিন বৈশ্বিক ঐকমত্যেও পৌঁছানো যাচ্ছিল না। ১০ বছরের বেশি আলোচনা-দরকষাকষির পর অবশেষে সমুদ্র রক্ষায় এক ঐতিহাসিক চুক্তিতে পৌঁছাল বিশ্ব। এ চুক্তির নাম হাই সিস ট্রিটি। এ চুক্তিতে সমুদ্রের পরিবেশ রক্ষা ও পুনরুদ্ধারে সাগর-মহাসাগরের ৩০ শতাংশকে ২০৩০ সালের মধ্যে সংরক্ষিত এলাকায় পরিণত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দেশগুলো।
টানা ৩৮ ঘণ্টা আলোচনার পর গত শনিবার সন্ধ্যায় নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে চুক্তিটির ব্যাপারে সবাই সম্মতি জানিয়েছে বলে খবর প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। জাতিসংঘের মহাসাগরবিষয়ক দূত রেনা লি সদর দপ্তরে বিশ্ব প্রতিনিধিদের সামনে দীর্ঘ করতালির মধ্যে উচ্চৈঃস্বরে ঘোষণা করেন ‘আমাদের প্রচেষ্টা অবশেষে লক্ষ্যে পৌঁছেছে’।
নতুন এ চুক্তিতে সমুদ্রের যেসব এলাকা সংরক্ষিত হিসেবে বিবেচিত হবে সেখানে মাছ ধরা, নৌযান চলাচলের রুট এবং খনন কাজের সীমা, ভূপৃষ্ঠ থেকে ২০০ মিটার বা তার নিচের সমুদ্র তলদেশ থেকে কখন খনিজ পদার্থ নেওয়া যাবে, তা ঠিক করে দেওয়া হবে। সমুদ্রে খননকাজ সেখানকার প্রাণীদের প্রজননে ব্যাঘাত, শব্দদূষণ সৃষ্টি এবং সামুদ্রিক জীবনকে বিষিয়ে তুলতে পারে জানিয়ে পরিবেশবাদী গোষ্ঠীগুলো দীর্ঘদিন ধরেই সমুদ্রে খনন প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছিল।
ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার (আইইউসিএন) বলছে, জলবায়ু পরিবর্তন, অতিরিক্ত মাছ ধরা ও জাহাজ চলাচলের কারণে সংরক্ষিত এলাকার বাইরে থাকা সামুদ্রিক উদ্ভিদ ও প্রাণিকূল ভয়াবহ ঝুঁকির মধ্যে আছে। এর মধ্যে প্রায় ১০ শতাংশ বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার মুখে রয়েছে বলে বৈশ্বিক সামুদ্রিক প্রজাতি নিয়ে হওয়া সর্বশেষ পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে।
সমুদ্র রক্ষায় সর্বশেষ যে আন্তর্জাতিক চুক্তি হয়েছিল, সেই ইউএন কনভেনশন অন দ্য ল অব দ্য সি স্বাক্ষরিত হয়েছিল ৪০ বছর আগে, ১৯৮২ সালে। ওই চুক্তি হাই-সি ধারণাকে প্রতিষ্ঠিত করলেও, এর মাত্র ১ দশমিক ২ শতাংশ সুরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। হাই-সি হচ্ছে আন্তর্জাতিক জলসীমা, যেখানে সব দেশের জাহাজ চালানো ও গবেষণার অধিকার রয়েছে।