পঞ্চগড়ে আহমদিয়া সম্প্রদায়ের জলসাকে কেন্দ্র করে সহিংসতার ঘটনায় বিএনপি-জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা জড়িত ছিল বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক এক সভা শেষে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন কথা বলেন।
এদিকে একই ধরনের কথা বলেছেন আরও দুই মন্ত্রী। তাদের মধ্যে তথ্যমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, পঞ্চগড়ের ঘটনা সারা দেশে বিএনপির বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারার অংশ। আর রেলপথ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, তৌহিদি জনতার ব্যানারে বিএনপি-জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা পঞ্চগড়ে আহমদিয়াদের গ্রামে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। গতকাল পঞ্চগড়ে আহমদিয়াদের ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর পরিদর্শনে গিয়ে এ কথা বলেন তিনি।
পঞ্চগড়ে আহমদিয়াদের ওপর হামলা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘আহমদনগর এলাকায় আহমদিয়া সম্প্রদায়ের কয়েক হাজার মানুষের বসবাস। প্রতিবারই তারা দুদিনব্যাপী একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান করে। এবারও সেই অনুষ্ঠান করতে যাওয়ায় জামায়াতে ইসলামীর অ্যাকটিভিস্ট ও বিএনপি নেতারা একসঙ্গে জড়িত হয়ে তাদের বাধা দেয়। একপর্যায়ে তাদের ঘরবাড়িতে আগুন ধরায়। যেখানে অনুষ্ঠান হচ্ছিল, সেখানেও আগুন ধরায়। এতে একজন কাদিয়ানি সদস্য মারা যায়। মারামারি করতে গিয়ে একজন জামায়াতের সদস্যও আহত হয়ে মারা যায়।’
এই সহিংসতার ঘটনায় সাতটি মামলা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এ ঘটনায় ৮১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে বিএনপি নেতা ফজলে রাব্বি আছেন। তিনি স্বীকারোক্তি দিয়েছেন যে সমাবেশটি বন্ধ করতে এসেছিলেন। ঘটনাগুলোর নেপথ্যে তিনিও নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। সেখানে র্যাবের এক সদস্যও আহত হয়েছেন। তার মাথায় বেশ কয়েকটি সেলাই দিতে হয়েছে। র্যাবের একটি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী বেশ ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে। সেখানকার পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক আছে। যারাই মামলা দিচ্ছে, মামলা নেওয়া হচ্ছে।’
পঞ্চগড়ের ঘটনা বিএনপির পাঁয়তারার অংশ বললেন তথ্যমন্ত্রী : তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘বিএনপি এবং তাদের মিত্ররা পুরো দেশে নানাভাবে বিশৃঙ্খলা তৈরির পাঁয়তারার মধ্যে আছে। সাম্প্রদায়িক যে উগ্র গোষ্ঠীকে নিয়ে বিএনপি রাজনীতি করে, তারা নানা ধরনের ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করে। পঞ্চগড়ের ঘটনাও বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়।’ গতকাল দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দেশে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করে তো বিএনপি। পঞ্চগড়ে যে ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে, সেখানে যারা কাদিয়ানিদের জলসাতে হামলা চালিয়েছে তারা কারা সেটা তো পুলিশের খাতায় আছে। তাদের বেশিরভাগই ছিল বিএনপির সমর্থক। তারাই সেখানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে, হামলা চালিয়েছে এবং সে হামলায় দুজন মৃত্যুবরণ করেছে। মির্জা ফখরুল সাহেব নিজেদের দায়টা এড়ানোর জন্য দুদিন পর রবিবার বক্তব্য রেখেছেন। আসলে এ ঘটনার জন্য বিএনপি-জামায়াতের সমর্থকরাই মূলত দায়ী।’
হামলা ছিল পরিকল্পিত দাবি রেলপথ মন্ত্রীর : রেলপথ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, ‘একটি গোষ্ঠী সব সময় ধর্মকে ব্যবহার করে আসছে। তারা ধর্মের দোহাই দিয়ে নানা ফৌজদারি অপরাধ ঘটাচ্ছে। পঞ্চগড়ে তৌহিদি জনতার ব্যানারে বিএনপি-জামায়াত যে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে তা একাত্তরের নৃশংসতাকেও হার মানায়। বিএনপি-জামায়াত নানা নামে-বেনামে গুপ্ত হামলা করে মানুষের মনে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে।’ গতকাল আহমদিয়া সম্প্রদায়ের মানুষজনকে খাদ্য ও মানবিক সহায়তাদান এবং আগুন ও হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘হামলাকারীরা পূর্বপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করেছে। তাদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপত্তা দেওয়ার দ্বায়িত্ব সরকারের। তবে এত বড় ঘটনা ঘটার আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কেন কোনো তথ্য পেল না? এখানে তাদের কোনো গাফিলতি আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
ধর্মীয় সম্প্রীতির এই দেশে ধর্মকে ব্যবহার করে একটি মহল রাজনীতি করার চেষ্টা করছে অভিযোগ করে নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, ‘তাদের এই অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। কোনো অশুভ শক্তি যেন ধর্মের নামে দেশকে অস্থিতিশীল করতে না পারে সে বিষয়ে ধর্মীয় ও সামাজিক নেতাদের দায়িত্বশীল ভুমিকা পালন করতে হবে।’