আওয়ামী লীগের দুঃশাসনে সাধারণ মানুষের জীবন অতিষ্ঠ। অন্যদিকে সাম্প্রদায়িক শক্তি ও অরাজনৈতিক শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। এমন পরিস্থিতে দ্বিদলীয় বৃত্তের বাইরে বামপন্থিদের নিয়ে বিকল্প শক্তি গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি সিপিবি। গতকাল সোমবার দলটির ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর পুরানা পল্টনের সমাবেশ থেকে এ ঘোষণা দেয় দলটির শীর্ষ নেতারা।
সমাবেশে সিপিবির সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় সিপিবি সবচেয়ে আপসহীন ও মেহনতি মানুষের স্বার্থের রাজনৈতিক দল হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করেছে। আর এই শক্তি ও দৃঢ়তা অর্জন করেছে তার ৭৫ বছরের লড়াই-সংগ্রাম ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে।
তিনি বলেন, বেআইনি থাকার পরও পাকিস্তানের দীর্ঘ শাসন ও শোষণবিরোধী লড়াইয়ে কমিউনিস্ট পার্টির ভূমিকা ছিল কিংবদন্তিতুল্য। ওই সময় নানাভাবে কমিউনিস্টদের হত্যা করা হয়েছে। নানা সংকটের মধ্যেও আদর্শবাদী ও শ্রেণিভিত্তিক পার্টি হিসেবে সিপিবি তার আন্দোলন ও লড়াই সংগ্রামের ধারাকে অব্যাহত রেখেছে ৭৫ বছর ধরে। হাজার হাজার কমরেডের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজকে এ স্বাধীন স্বদেশ আমরা পেয়েছি। বিশ্বব্যাপী শোষণ ও বঞ্চনা এবং সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধবাজদের বিরুদ্ধেও সিপিবি বরাবরই সরব।
দলের সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দ্বিদলীয় লুটপাট ও ক্ষমতাকেন্দ্রিক ভাগবাটোয়ারা ধারার বিপরীতে সিপিবি আদর্শের ঝা-া নিয়ে অন্যান্য বামপন্থিদের নিয়ে লড়াই-সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। রাজনীতি যখন কেনাবেচা, আখের গোছানো, নোংরা খেলা, সেখানে নীতির প্রশ্নে আপসহীন কমিউনিস্ট পার্টি।
তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ লুটপাটের এক মহোৎসব সৃষ্টি করেছে। জনগণ দুঃশাসনে অতিষ্ঠ, ন্যূনতম ভোটের অধিকার হরণ করা হয়েছে। মানুষের প্রকৃত আয় কমলেও মূল্যবৃদ্ধি নিত্য ঘটনায় পরিণত হয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করলেও, ক্ষমতার ভাগবাটোয়ারা করে কিছু মানুষ বিদেশে লাখো কোটি টাকা পাচার করছে। তার কোনো বিচার নেই। তথাকথিত কাঠামোগত উন্নয়ন (যার ভেতরে ভরপুর দুর্নীতি) দিয়ে মানুষকে একটি কাল্পনিক উন্নত দেশের স্বপ্ন দেখাতে তারা পটু। অন্যদিকে বিএনপিসহ বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলো তাদের অসারত্ব আজও ঘোচাতে পারেনি। জামায়াতসহ সাম্প্রদায়িক দলগুলো বরাবরের মতোই দেশকে একটি সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র বানানোর স্বপ্নে বিভোর। এ সুযোগে বিরাজনীতিকরণের শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে।
তিনি বলেন, ‘সিপিবি একটি বিকল্প রাজনৈতিক বলয় গড়তে নীতিনিষ্ঠ জায়গা থেকে লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছে। এ সংগ্রামে সাধারণ মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। নীতিহীন শক্তিকে ‘না’ ও নীতিনিষ্ঠ শক্তিকে ‘হ্যাঁ’ বলতে হবে।
তিনি সরকারের পদত্যাগ, সংসদ ভেঙে দেওয়া, সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতি, নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কারসহ নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন, স্থানীয় সরকারের ক্ষমতায়নের দাবি জানান।
৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সিপিবি নেতারা দেশের সব নির্যাতিত ও মেহনতি মানুষকে লাল পতাকাতলে সমবেত হওয়ার আহ্বান জানান। তারা বছরব্যাপী সারা দেশে নানামুখী কর্মসূচির ঘোষণা দেন। সমাবেশ শেষে একটি বর্ণাঢ্য লাল পতাকা মিছিল পুরানো পল্টন, দৈনিক বাংলা, মতিঝিল, দিলকুশা, গুলিস্তান হয়ে পার্টি কার্যালয়ে এসে শেষ হয়।
সমাবেশের আগে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন যথাক্রমে সিপিবি সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম ও সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স। সে সময়ে জাতীয় সংগীত, কমিউনিস্ট ইন্টারন্যাশনাল পরিবেশন করা হয়। এর আগে গণসংগীত পরিবেশন করে উদীচীর শিল্পীরা।
৭৫তম প্রতিষ্ঠা দিবসে আজ ঢাকার বিভিন্ন থানাসহ সারা দেশের জেলা সদর ও উপজেলা, থানায় পার্টি কার্যালয়ের সামনে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় সমাবেশ-র্যালি অনুষ্ঠিত হয়।