যুবদল সম্পাদক মুন্না, সহসভাপতি জাহাঙ্গীর গ্রেপ্তার

জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোনায়েম মুন্নাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সহসভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে মোনায়েম মুন্নাকে গতকাল বুধবার বিকেলে রাজধানীর শাহজাহানপুরে নিজ বাসার সামনে থেকে এবং মগবাজারের হলি ফ্যামিলি হাসপাতালের সামনে থেকে জাহাঙ্গীর হোসেনকে আটক করা হয় বলে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এদিকে যুবদলের দুই শীর্ষ নেতাকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নানাভাবে, নানা কায়দায় হেনস্তা করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বর্তমান শাসকগোষ্ঠী। মুন্না এবং জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার সেটিরই নির্লজ্জ ধারাবাহিকতা। তারা দুজনই সরকারের চরম রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার।’

মুন্নাকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে যুবদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু গতকাল সন্ধ্যায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিকেলে কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে দলের কর্মসূচি পালন শেষে মুন্নাসহ আমি বের হই। মুন্না শাহজাহানপুরে পৌঁছালে পুলিশ তাকে আটক করে বলে আমি জানতে পেরেছি।’

মুন্নাকে গ্রেপ্তারের কারণ জানতে চাইলে যুবদল সভাপতি বলেন, ‘এখনো জানতে পারিনি। তবে মুন্নার নামে নতুন কোনো মামলা নেই। আগের মামলাগুলোতে জামিন নেওয়া আছে।’

টুকু আরও বলেন, ‘মুন্নাকে গ্রেপ্তারের পর মগবাজার হলি ফ্যামিলি হাসপাতালের সামনে থেকে যুবদল সহসভাপতি ও ঢাকা-১৮ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জাহাঙ্গীরের গাড়ির ড্রাইভার মো. সোহেল আমাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।’ 

যুবদল সাধারণ সম্পাদককে গ্রেপ্তারের কারণ জানতে চাইলে শাহজাহানপুর থানার ওসি মনির হোসেন গতকাল সন্ধ্যায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যুবদল সম্পাদক মুন্নাকে একটি রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে এখনই মামলার বিষয়ে বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না।’

তবে যুবদল সহসভাপতি জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে কিছু জানাতে পারেনি পুলিশ। সংশ্লিষ্ট রমনা থানার ওসি আবুল হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের এলাকায় কোনো রাজনৈতিক নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে আমরা অবগত নই।’

দুই নেতাকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ : যুবদল সাধারণ সম্পাদক ও সহসভাপতিকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে গতকাল সন্ধ্যায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল করেছেন যুবদলের নেতাকর্মীরা। এতে নেতৃত্ব দেন যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু ও সহসভাপতি নুরুল ইসলাম নয়ন। ছাত্রদল নেতাকর্মীরাও একই ইস্যুতে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মৎস্য ভবন থেকে শুরু করে মিছিলটি নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। মিছিলে নেতৃত্ব দেন বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল, ছাত্রদল সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ ও সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল।