বড়াইগ্রামের খাকসা উত্তরপাড়া গ্রামে আগুনে নিজ ঘরে পুড়ে দুই সন্তানসহ মায়ের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন সুমা বেগম (৩২) ও তার মেয়ে অমিয়া আফরিন মাহী (১০) ও ছেলে ওমর ফারুক (৪)। আগুনে ওই গৃহবধূর স্বামী মোহাম্মদ আলী ওরফে ওলি (৩৮) ও তার বন্ধু আনোয়ার হোসেন (৩৭) দগ্ধ হয়েছেন। দগ্ধ আনোয়ার হোসেনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাতেই ঢাকা শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া মোহাম্মদ আলীকে নাটোর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে গতকাল বুধবার সকালে বাড়িতে নেওয়া হয়েছে।
গৃহকর্তা মোহাম্মদ আলী ন্যাশনাল পরিবহনের বাসচালক। আর মেয়ে অমিয়া খাকসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ, ইউএনও মোসা. মারিয়াম খাতুন, ওসি আবু সিদ্দিক ও বড়াইগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান মমিন আলী রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ সময় জেলা প্রশাসক মৃতদেহ দাফনের জন্য স্বজনদের হাতে ২০ হাজার টাকা দেন এবং ঘর তৈরিসহ অন্যান্য সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।
দগ্ধ মোহাম্মদ আলী জানান, রাত সোয়া ৯টার দিকে বন্ধু আনোয়ার হোসেনকে নিয়ে তিনি বাড়িতে এলে সুমা তাদের খাবার দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় আকস্মিক বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে ঘরে আগুন ধরে। আগুন দেখে তিনি স্ত্রীর হাত ধরে টেনে বাইরে বেরিয়ে আসেন। কিন্তু তার স্ত্রী ঘুমিয়ে থাকা দুই সন্তানকে আনতে দৌড়ে ঘরে চলে যান। এ সময় ঘরে থাকা গ্যাস সিলিন্ডারের বিস্ফোরণে তারা কেউই আর বের হতে পারেননি। পরে স্ত্রী-সন্তানকে উদ্ধারে এগিয়ে গিয়ে বন্ধুসহ তিনি দগ্ধ হন। অগ্নিকাণ্ডে ঘরে থাকা একটি মোটরসাইকেল, ফ্রিজসহ টিনশেডের তিনটি কক্ষের যাবতীয় মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
বনপাড়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আকরামুল হাসান জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই তারা তিনজন আগুনে পুড়ে মারা যান। পরে আমরা সেখানে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নেভাই।