মো. সাহাবুদ্দিনকে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জারি করা প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে রিট করা হয়েছে। রিটে ওই প্রজ্ঞাপনের কার্যকারিতা স্থগিত চাওয়া হয়েছে।
গত মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম এ আজিজ খান এ রিট আবেদন করেন। আবেদনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর মো. সাহাবুদ্দিনকে যোগ্য এবং একক প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত করে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ইসির প্রজ্ঞাপন কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এ মর্মে রুলের আরজিসহ রুল বিচারাধীন থাকাবস্থায় ওই প্রজ্ঞাপনের কার্যক্রম স্থগিত চাওয়া হয়েছে।
আবেদনে নির্বাচন কমিশন ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে (সিইসি) বিবাদী করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একক প্রার্থী ছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি তাকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন দেয় ইসি। বর্তমান রাষ্ট্রপতির মেয়াদ আগামী ২৩ এপ্রিল শেষ হচ্ছে। শপথের পর মো. সাহাবুদ্দিনের ২৪ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার কথা রয়েছে।
রিট আবেদনের যুক্তিতে অ্যাডভোকেট এম এ আজিজ খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মো. সাহাবুদ্দিন দুদকের কর্মকর্তা ছিলেন। দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ৯ ধারা অনুযায়ী কর্মাবসানের পর কোনো কমিশনার প্রজাতন্ত্রের কোনো লাভজনক পদে নিয়োগ লাভের যোগ্য হবেন না। অন্যদিকে সংবিধানে বলা আছে, অন্য কোনো আইনে যদি বারিত থাকে তাহলে নির্বাচন করতে পারবেন না। সে হিসেবে দুদকের আইনে তিনি (মো. সাহাবুদ্দিন) বারিত আছেন। তাই রাষ্ট্রপতি নিয়ে ইসি যে প্রজ্ঞাপন দিয়েছে, তাতে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘দুদকের আইনের বিষয়ে সিইসি যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা ভুল এবং বিভ্রান্তিকর। তিনি (সিইসি) বলেছেন, এটা “নিয়োগ” নয়, “নির্বাচিন”। দুদকের আইন এখানে প্রযোজ্য হবে না। দুদকের আইনকে উনি ভালোভাবে ব্যাখ্যা দেননি। কেননা ‘নির্বাচিত’ ও ‘নিযুক্ত’ সমার্থক শব্দ। আমরা এখন সুপ্রিম কোর্ট থেকে ব্যাখ্যা চাই।’
আগামী সপ্তাহে সংশ্লিষ্ট একটি বেঞ্চে আবেদনটির ওপর শুনানি হতে পারে বলে জানান এই আইনজীবী।