২০২১ সালে চলচ্চিত্রে বিশেষ অবদান রাখায় ২৭ ক্যাটাগরিতে ৩৪ জন শিল্পী-কলাকুশলীর হাতে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। করোনার কারণে গত দুবছর এই আয়োজনে সশরীরে উপস্থিত থাকতে না পারলেও এবার প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে বিজয়ীদের পুরস্কার তুলে দেন। শুধু তা-ই নয়, পুরস্কার বিতরণ শেষে দেশের শীর্ষস্থানীয় চলচ্চিত্র তারকাদের মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পুরোটা উপভোগ করেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের পাশাপাশি চলচ্চিত্রশিল্পের উন্নয়নের কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। শুধু তা-ই নয়, চলচ্চিত্রকে আরও উন্নত করতে কিছু বিষয়ে তিনি নতুনভাবে সিদ্ধান্তের কথা জানান।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই ধর্মীয় গ্রন্থ থেকে পাঠের পর বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন। তাদের আলোচনায় উঠে আসে সমাজ ও রাষ্ট্রীয় চরিত্র গঠনে চলচ্চিত্রের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ভূমিকা, বর্তমান চলচ্চিত্রের অবস্থা, চলচ্চিত্র উন্নয়নে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কৃতিত্বের কথা। এরপরই পুরস্কার দেওয়া শুরু হয়। প্রথমেই প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন ডলি জহুর। এবার যৌথভাবে আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন তিনি ও অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন। তবে ইলিয়াস কাঞ্চন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না।
এরপর পুরস্কার তুলে দেওয়া হয় কলাকুশলীদের হাতে। সেরা কাহিনিকার রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত (নোনাজলের কাব্য), সেরা চিত্রনাট্যকার নূরুল আলম আতিক (লাল মোরগের ঝুঁটি), সেরা সংলাপ রচয়িতা তৌকীর আহমেদ (স্ফুলিঙ্গ)। সেরা সম্পাদক সামির আহমেদ (লাল মোরগের ঝুঁটি), সেরা শিল্পনির্দেশক শিহাব নূরুননবী (নোনাজলের কাব্য), সেরা চিত্রগ্রাহক দলগত সৈয়দ কাশেফ শাহবাজি, সুমন কুমার সরকার, মাজহারুল ইসলাম রাজু (লাল মোরগের ঝুঁটি), সেরা শব্দগ্রাহক শৈব তালুকদার (রেহানা মরিয়ম নূর), সেরা পোশাক ও সাজসজ্জা ইদিলা কাছরিন ফরিদ (নোনাজলের কাব্য) এবং সেরা রূপসজ্জাকর দলগত মো. ফারুখ, মো. ফরহাদ রেজা মিলন (লাল মোরগের ঝুঁটি)। এ ছাড়া শ্রেষ্ঠ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ধড়’ (আকা রেজা গালিব), সেরা প্রামাণ্য চলচ্চিত্র ‘বধ্যভূমিতে একদিন’ (কাওসার চৌধুরী) পুরস্কার গ্রহণ করেন।
এরপর শুরু হয় শিল্পীদের হাতে পুরস্কার প্রদানের পালা। শিশুশিল্পী শাখায় বিশেষ পুরস্কার জান্নাতুল মাওয়া ঝিলিক (যা হারিয়ে যায়), রেহানা মরিয়ম নূর সিনেমায় অভিনয়ের জন্য সেরা শিশুশিল্পী আফিয়া জাইন জায়মা, সেরা সংগীত পরিচালক সুজেয় শ্যাম (যৈবতী কন্যার মন), সেরা গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ারের পক্ষে তার স্ত্রী (অন্তরে অন্তর জ্বালা, যৈবতী কন্যার মন), সেরা সুরকার সুজেয় শ্যাম (অন্তরে অন্তর জ্বালা, যৈবতী কন্যার মন), সেরা গায়ক হিসেবে ‘পদ্মাপুরাণ’ সিনেমার ‘শোনাতে এসেছি আজ’ গানের জন্য মুহিন খান ও একই সিনেমায় ‘দেখলে ছবি পাগল হবি’ গানটির জন্য সেরা গায়িকার পুরস্কার গ্রহণ করেন চন্দনা মজুমদার।
এবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার সেরা চলচ্চিত্র নির্বাচিত হয়েছে ‘লাল মোরগের ঝুঁটি’ ও ‘নোনা জলের কাব্য’। এই শাখায় পুরস্কার গ্রহণ করেন সিনেমা দুটির প্রযোজক মাতিয়া বানু শুকু ও রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত। সেরা সিনেমা পরিচালক হিসেবে ‘নোনাজলের কাব্য’ সিনেমার জন্য পুরস্কার গ্রহণ করেন তরুণ নির্মাতা রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে অন্যতম আগ্রহের ক্যাটাগরি সেরা অভিনয়শিল্পী। ‘নোনাজলের কাব্য’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য পার্শ্বচরিত্রে সেরা অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান ফজলুর রহমান বাবু। এটা তার চতুর্থ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। ক্যারিয়ারে প্রথমবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার গ্রহণ করেন শম্পা রেজা। তিনি পার্শ্বচরিত্রে ‘পদ্মাপুরাণ’ সিনেমার জন্য সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পান। অভিনেতা জয়রাজও ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো পুরস্কার পেয়েছেন। তিনি খলচরিত্রে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। তিনি ‘লাল মোরগের ঝুঁটি’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য এই পুরস্কার গ্রহণ করেন। অভিনেতা মিলন ভট্টাচার্য সেরা কৌতুক অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার গ্রহণ করেন। তিনি এই সম্মাননা পাচ্ছেন ‘মৃধা বনাম মৃধা’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য।
এবার যুগ্মভাবে সেরা অভিনেতার পুরস্কার পেয়েছেন মীর সাব্বির (রাতজাগা ফুল) ও সিয়াম আহমেদ (মৃধা বনাম মৃধা)। ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ সিনেমার জন্য আগে থেকেই আলোচনায় ছিলেন আজমেরী হক বাঁধন। ২০২১ সালে সিনেমায় অভিনয় করার জন্য যুগ্মভাবে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে গ্রহণ করেন আজমেরী হক বাঁধন ও তাসনোভা তামান্না ‘নোনাজলের কাব্য’।