কিডনি ভালো রাখতে এই ৫ অভ্যাস

শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ কিডনি। সুস্থ থাকতে কিডনিকে অবহেলা করলে চলবে না। নয়তো শরীরে নানা জটিলতা বাসা বাঁধতে পারে। বড় কোনো শারীরিক সমস্যার সম্মুখীন হওয়ার আগে তাই সতর্ক থাকা জরুরি। কোনো ক্রনিক অসুখ না থাকলে সাধারণত কিডনির যত্ন নেওয়া খুব কঠিন কাজ নয়। ছোটখাটো কিছু যত্নেই সুস্থ রাখা যায় কিডনিকে। কর্মব্যস্ততার কারণে অনেকেই আলাদা করে নিজের যত্ন নেওয়ার সুযোগ পান না। আর তাতেই বাড়ে বিপত্তি। অজান্তেই এমন কিছু দৈনিক অভ্যাসে আমরা অভ্যস্ত, যেগুলি বাড়িয়ে কিডনি বিকল হওয়ার সম্ভাবনা।

যে অভ্যাসগুলো থাকলে আপনার কিডনিও ভালো থাকবে, জেনে নিন সেগুলো।

১. পর্যাপ্ত পানি খান। সাধারণত যেকোনো সুস্থ মানুষের প্রতিদিন ৩-৪ লিটার পানি পানের প্রয়োজন হয়। তাই শরীরের প্রয়োজন কতটুকু, সে পরামর্শ নিয়ে রাখুন চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের কাছ থেকে। সেই অনুপাতে পানি খান। শরীরের যাবতীয় টক্সিন বাইরে বার করে দিতে পানিই প্রধানত সাহায্য করে। তাই পানির জোগান কিডনি যত পাবে, তার শারীরবৃত্তীয় কাজে তত সুবিধা হবে। অ্যালকোহল ছাড়ুন, অতিরিক্ত মদপানও কিডনির সমস্যার কারণ হতে পারে।

২. কিডনি সংক্রমণের অন্যতম কারণ প্রস্রাব চেপে রাখা। সাধারণত রাস্তাঘাটে বা অনেক সময় কাজের চাপে বাড়িতে থাকলেও অনেকেই প্রস্রাবের বেগ চেপে রাখেন। এ অভ্যাস দিনের পর দিন ঘটালে কিন্তু বিপদ। এর ফলে মূত্রনালিতে চাপ পড়ে, তাতেই ক্ষতিগ্রস্ত হয় কিডনি। বেশিক্ষণ প্রস্রাব ধরে রাখলে কিডনির শারীরবৃত্তীয় কাজে সমস্যা হয় ও দীর্ঘ সময় ধরে টক্সিন ধরে রাখায় শরীরে সংক্রমণ ঘটে।

৩. উচ্চমাত্রায় ডায়াবেটিস সরাসরি কিডনির ক্ষতি করে। তাই সব সময় চেষ্টা করুন ডায়াবেটিসকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে। রক্তে শর্করার পরিমাণ কোনো ভাবেই বাড়তে দেওয়া যাবে না। কিডনি ভালো রাখতে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ প্রয়োজন।

৪. প্রচুর পেইনকিলার বা ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়ার অভ্যাস থাকে অনেকেরই। অতিমাত্রায় এ ধরনের ওষুধ কিডনির নানা সমস্যা তৈরি করে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো অ্যান্টিবায়োটিক বা ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া উচিত নয়।

৫. অনেকেই প্রচুর লবণ খান। রান্নায় লবণ কম হলে পাতে কাঁচা লবণ না নিলেই নয়। এ অভ্যাস কিডনির জন্য মোটেই ভালো নয়। কিডনিকে ভালো রাখতে চাইলে সবার আগে এ অভ্যাসে বদলাতে হবে।