সীতাকুণ্ডে তুলার গুদামের আগুন নেভেনি ১৫ ঘণ্টায়

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে এবার আগুনে পুড়েছে তুলার গুদাম। গতকাল শনিবার সকাল ১০টার দিকে ছোট কুমিরার গুদামটিতে আগুন লাগে। রাত ১টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তা পুরোপুরি নেভানো সম্ভব হয়নি।

আগুন নিয়ন্ত্রণে সেখানে কাজ করছিল ফায়ার সার্ভিসের নয়টি ইউনিট। রাত ১১টায় যোগ দেয় সেনাবাহিনীর বিশেষ অগ্নিনির্বাপক ইউনিট। এ ছাড়াও নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনীর দুটি দলও রাতে ঘটনাস্থলে যায়।

এদিকে এ অগ্নিকাণ্ডে ১০ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। কমিটিকে পাঁচ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সীতাকুণ্ড থানার কুমিরা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে ছোট কুমিরা ন্যামসান ডিপোর পশ্চিম পাশে ইউনিটেক্স লিমিটেডের তুলার গোডাউনে ওয়েল্ডিং করার সময় আগুনের সূত্রপাত হয়। গোডাউনটির পাশেই বৈদ্যুতিক খুঁটির অবস্থান। গোডাউনে কয়েকজন শ্রমিক কাজ করার সময় আগুন মুহূর্তেই চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সীতাকুণ্ড ও কুমিরা থেকে চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে। গোডাউনটি এসএল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা মো. লোকমানের কাছ থেকে ভাড়ায় নিয়েছে সীতাকুণ্ডের শিল্পপ্রতিষ্ঠান ইউনিটেক্স লিমিটেড। এ গোডাউনটি সুতা তৈরির কাজে ব্যবহৃত তুলার গোডাউন হিসেবে ব্যবহার হচ্ছিল।

সীতাকুণ্ড ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার নুরুল আলম দুলাল জানান, আগুন লাগার খবর পেয়ে প্রথমে সীতাকুণ্ড এবং কুমিরা ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে কাজ শুরু করে। পরে তাদের সঙ্গে আগ্রাবাদ ও বায়েজিদ ফায়ার সার্ভিসের আরও চারটি ইউনিট যোগ দেয়।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক আবদুল হামিদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তুলার আগুন, তাই চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। এ কারণে নিয়ন্ত্রণে আসতে সময় লাগবে। ঠিক কত সময়ের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে তা বলা যাচ্ছে না।’

আগুন নেভাতে পানির তীব্র সংকটের কথা উল্লেখ করে এ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘শুকনো মৌসুম হওয়াতে পার্শ্ববর্তী খাল শুকিয়ে গেছে এবং পাশে পুকুর বা অন্য কোনো পানির উৎস না থাকায় দূরবর্তী স্থান থেকে আমাদের পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। যার ফলে কাজ করতে আমাদের একটু বেগ পেতে হচ্ছে।’