চালককে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাই, গ্রেপ্তার ৩

নারায়ণগঞ্জে ইউসুফ হোসেন (৩০) নামের এক চালককে হত্যার পর অটোরিকশা নিয়ে পালানোর সময় তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রোববার (১২ মার্চ) ভোর রাত সাড়ে ৩টায় ফতুল্লার চর কাশিপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মাহবুব (২৪), কাউছার (২২) ও আমিন (২৩)।

নিহত ইউসুফ নোয়াখালী জেলার কমলনগর থানার কালকিনি গ্রামের মৃত আলী হোসেনের ছেলে। তিনি ফতুল্লার পশ্চিম দেওভোগ এলাকায় সুমন মাহজনের ইজিবাইক ভাড়ায় চালাতেন। দেওভোগ রাজ্জাক শাহের খানকা গলির মান্নান মিয়ার বাড়িতে তিন কন্যা সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন ইউসুফ হোসেন। কয়েক মাস আগে তার স্ত্রী মারা যায়।

নিহতের ছোট মেয়ে ইয়াসমিন (৭) জানায়, তার বাবা বিকেল পাঁচটার দিকে বাসা থেকে বের হয়ে গ্যারেজে যায়। ভোর রাতে জানতে পারেন তার বাবাকে হত্যা করা হয়েছে।

ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মহসীন জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা সকলেই ইজিবাইক চালক এবং তারা সবাই মাদকাসক্ত। তারা একই গ্যারেজের একই মহাজনের গাড়ি চালাতো। পূর্ব পরিকল্পিতভাবে শনিবার মাগরিব নামাজের পরপর গ্রেপ্তারকৃতরা তাদের গাড়ি গ্যারেজ মালিকের নিকট বুজিয়ে দিয়ে আসে। রাত ১১টার দিকে তারা পরিকল্পনানুযায়ী ইউসুফের মিশুক গাড়ি ভাড়া করে চর কাশিপুর যাওয়ার জন্য। চর কাশিপুর নাজিমুদ্দিনের বাড়ির সামনের ফাঁকা রাস্তার সামনে গিয়ে তারা ইউসুফকে গাড়ি থেকে নামিয়ে গলার মধ্যে রড ডুকিয়ে দেয়। একই জায়গায় পাঁচ পাঁচবার রড ডুকিয়ে দিয়ে আঘাতের মাধ্যমে মৃত্যু নিশ্চিত করে লাশ ফেলে রেখে মিশুক গাড়িটি নিয়ে চলে আসে।

তিনি আরও জানান, তারা কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন ঘাতক কাউছারের বাড়ির সামনে আসে। এবং মিশুক গাড়িতে থাকা ব্যাটারিগুলো কাউছারের বাড়ির খাটের নিচে লুকিয়ে রাখে। রাত দেড়টার দিকে মিশুক গাড়িটি রাস্তা দিয়ে ধাক্কা দিয়ে টেনে হিঁচড়ে নিতে থাকলে রাতের নিয়মিত ডিউটি করা কালীন সময়ে থানার উপপরিদর্শক আনোয়ার হোসেন মোল্লার সন্দেহ হয়। তখন তাদের আটক করে পরিচয় এবং গাড়ির সমস্যা জানতে চায়। এতে তারা সন্দেহজনক কথাবার্তা বলায় তাদের মহাজনকে ডাকতে বলেন। পরক্ষণে মিশুক গাড়িটির মালিক সুমন এসে জানান, আটক ৩ জন তার অন্য গাড়ির চালক তবে এ গাড়ির নয়। তখন তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা জানান চালক ইউসুফকে হত্যা করে চর কাশিপুর সড়কের নাজিমুদ্দিনের বাড়ির সামনের ফাঁকা রাস্তায় লাশ ফেলে রেখে এসেছেন। রাত চারটার দিকে তাদের দেখানো স্থান থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নিহতের গলায় রড দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। শরীরের অন্য কোথাও আঘাতের চিহ্ন নেই। এ ঘটনায় হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে তিনি জানান।