দুই দশকে তীব্র অপুষ্টিতে শিশুমৃত্যু কমেছে ২৭ শতাংশ

দেশে গত দুই দশকে তীব্র অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যুহার ২৭ শতাংশ কমেছে বলে জানিয়েছে জাতীয় পুষ্টিসেবা। প্রতিষ্ঠানের তথ্য মতে, দুই দশক আগে তীব্র অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যুহার ছিল ৩০ শতাংশ। কিন্তু দেশের ৪৩৬ হাসপাতালে মৃত্যুরোধে নেওয়া কার্যক্রমের কারণে বর্তমানে মৃত্যুহার এসে দাঁড়িয়েছে ৩ শতাংশের নিচে।

গতকাল সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে জাতীয় পুষ্টিসেবা আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সব তথ্য জানানো হয়। দেশে মারাত্মক তীব্র অপুষ্টি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত সেবাকেন্দ্রগুলোর চতুর্থবার মূল্যায়ন উপলক্ষে জাতীয় পর্যায়ের প্রচারণামূলক অনুষ্ঠান উপলক্ষে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশিদ আলম।

অনুষ্ঠানে লিখিত প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় পুষ্টিসেবার ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. এটিএম রিয়াজ উদ্দিন। তিনি জানান, পাঁচ বছরের কমবয়সী শিশুদের অসুস্থতা ও মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ মারাত্মক তীব্র অপুষ্টি। প্রতি বছর বিশ্বে পাঁচ বছরের কমবয়সী প্রায় দুই কোটি শিশু মারাত্মক তীব্র অপুষ্টিতে আক্রান্ত হয় এবং প্রায় ১০ লাখ (৪৫ শতাংশ) শিশু মারা যায়। এই শিশুদের অধিকাংশ দক্ষিণ এশিয়া ও সাব-সাহারা আফ্রিকা অঞ্চলে বাস করে। গত দুই দশকে, বাংলাদেশ অপুষ্টির হার কমানোর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উন্নতি করেছে।

অনুষ্ঠানে একটি সমীক্ষা তুলে ধরে এই কর্মকর্তা বলেন, অপুষ্টিতে আক্রান্ত একটি শিশুর উপার্জনের সক্ষমতা প্রায় ১০ শতাংশ কমে যায়। অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশু খুব সহজেই অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হতে পারে। একজন অপুষ্ট মা সঠিক যতœ ও সেবার অভাবে একটি অপুষ্ট শিশুর জন্ম দেয় এবং ওই শিশুটি ধীরে ধীরে অপুষ্ট শিশু হয়ে বেড়ে ওঠে। শিশুটি যদি মেয়েশিশু হয় তবে সেই মেয়েশিশুটি পরে আবার আরেকটি অপুষ্ট শিশুর জন্ম দেবে। এভাবেই সে অপুষ্ট চক্রের মধ্যে ঘুরতে থাকবে। এ কারণে অপুষ্ট শিশু শনাক্তকরণ চিকিৎসা খুবই জরুরি।

এ সময় জাতীয় পুষ্টিসেবার লাইন ডিরেক্টর ডা. মো. আবদুল মান্নান বলেন, অপুষ্টির কারণে একটি শিশুর মানসিক ও শারীরিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়, যা পরে তার লেখাপড়া, কর্মদক্ষতা, উপার্জন করার সক্ষমতা ইত্যাদির ওপর প্রভাব ফেলে। তবে স্যাম ট্রিটমেন্ট প্রোটোকল অনুযায়ী ব্যবস্থা নিলে দ্রুত অপুষ্ট শিশুটিকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব। ইতোমধ্যেই আমরা মৃত্যু ৩০ থেকে ৩ শতাংশের কমে নামিয়ে এনেছি। এ থেকেই বোঝা যায় হাসপাতালে তীব্র অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুদের সঠিক ব্যবস্থাপনা ও ফলোআপের মাধ্যমে অনেক শিশুর জীবন বাঁচানো এবং মৃত্যুর হার হ্রাস করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, তীব্র অপুষ্টিতে আক্রান্ত অনেক শিশু কোনো চিকিৎসা না পেয়ে বাড়িতেই মৃত্যুবরণ করে। আবার অনেকে হাসপাতালে ভর্তি হলেও মানসম্মত চিকিৎসা না পেয়ে জটিলতার সম্মুখীন হয়। অপুষ্টির চিকিৎসার ক্ষেত্রে এই মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অন্যান্য রোগে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা এবং অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় পার্থক্য রয়েছে। সাধারণভাবে অন্যান্য রোগে আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে অনেক চিকিৎসা বা ব্যবস্থাপনা সঠিক হলেও তীব্র অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে তা জটিলতার সৃষ্টি করে, এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। অন্যদিকে সঠিক ও মানসম্মত চিকিৎসা যদি নিশ্চিত করা যায়, তবে অপুষ্ট শিশুদের কোনো জটিলতা হবে না, মৃত্যুহারও কমবে।