পুলিশে নারী সদস্যরা নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন : আইজিপি

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেছেন, বাংলাদেশ পুলিশের নারী সদস্যরা তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে চমৎকারভাবে পালন করে মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন। গতকাল দুপুরে রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে বিশ্ব নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় সম্মাননা স্মারক প্রদান, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। 

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও এসবির প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মনিরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা সেন্টার ফর জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের পরিচালক প্রফেসর ড. তানিয়া হক। স্বাগত বক্তব্য রাখেন অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ডিএমপির পুলিশ কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি ফাতেমা বেগম, সাবেক ডিআইজি মিলি বিশ্বাস, এসবির ডিআইজি ও বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্কের (বিপিডব্লিউএন) সভাপতি আমেনা বেগম প্রমুখ।

পুলিশে নারীদের অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশে চারজন নারী ডিআইজি, ২৪ জন নারী অতিরিক্ত ডিআইজি ও ৬৪ জন নারী পুলিশ সুপার রয়েছেন। বাংলাদেশ পুলিশে নারী পুলিশের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে।

আইজিপি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ পুলিশে নারী পুলিশের সংখ্যা দুই ভাগ থেকে বেড়ে বর্তমানে আট ভাগে উন্নীত হয়েছে। পুলিশে নারী সদস্য সংযোজনের ফলে আমাদের সক্ষমতার মাত্রা অনেক বেড়েছে। পুলিশে নারীর পদচারণা এক সময় এতটা মসৃণ ছিল না। তখন তাদেরকে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে। পুলিশে নারীদের অবস্থান আজ সুদৃঢ় হয়েছে পূর্বসূরিদের দেখানো পথ ধরে। আজকে নারী পুলিশ সদস্যরা দক্ষতার সঙ্গে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, নারীরা যত চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করবে তারা তত এগিয়ে যাবে। করোনার সময় যখন মানবিকতার চরম বিপর্যয় ঘটেছে তখন পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্ক ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে বিভিন্নভাবে নারী পুলিশ সদস্যদের সাহায্য সহযোগিতা করেছে, যা সত্যিই প্রশংসনীয়। নারী পুলিশ নারী ভিকটিমদের সহায়তা দিচ্ছেন। এতে নারীদের কাছে পুলিশের গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে।

ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, পুলিশে নারী সদস্যরা দেশ ও দেশের বাইরে মেধা ও যোগ্যতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে তাদের সক্ষমতার প্রমাণ রাখছেন। ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার ও উইমেন সাপোর্ট সেন্টারে শুধুমাত্র নারী পুলিশ সদস্যরা কাজ করছেন। নির্যাতিত নারীদেরকে মানসিক ও আইনগত সেবাসহ বিভিন্নভাবে সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছেন নারী পুলিশ সদস্যরা।

ড. তানিয়া হক তার সুপারিশে বলেন, অনলাইনে নিরাপদ বিচরণের জন্য জাতীয় থেকে তৃণমূলপর্যায় পর্যন্ত আইনের যথাযথ প্রচার, প্রসার এবং প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। এর সঙ্গে নারীদেরকেও নিজের আইনি অধিকারের ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। পাশাপাশি আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে যাতে শিক্ষার্থীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেই সব মানুষের সমান অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল মানসিকতা নিয়ে বেরিয়ে আসতে পারে। নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের মাধ্যমে এক্ষেত্রে সমতা আনতে হবে।

এসবি প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, ইন্টারনেটে সাইবার প্ল্যাটফর্মে নারীরা নিরাপদ নয়। ফলে তারা নানাভাবে হয়রানি, বুলিংয়ের শিকার হয়। এমনকি আত্মহত্যার ঘটনা পর্যন্ত ঘটছে। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে নারীদের সহায়তার জন্য সাইবার স্পেসে প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি সাইবার কেন্দ্রিক আমাদের অন্যান্য ইউনিটও রয়েছে। আমরা যদি সাইবার স্পেসে সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি নিশ্চিত করতে পারি তাহলে নারীদের ক্ষেত্রে বড় বাধা কেটে যাবে। আমাদের ওপর সে দায়িত্ব বর্তায়।