‘ফ্রাইডে’তে নতুন ছবির জন্ম

কিছুদিন আগেই বাংলাদেশের একটি ওটিটি প্ল্যাটফরমে মুক্তি পেয়েছে এ সময়ের ব্যস্ত নির্মাতা রায়হান রাফীর চলচ্চিত্র ‘ফ্রাইডে’। পুরো কাজটি নিয়েই বেশ সুনাম দর্শক মহলে। তবে সব প্রশংসাকে ছাপিয়ে গিয়েছেন অভিনেত্রী ফারজানা ছবি। এমন নয় যে ছবি সব সময় শুধু প্রেমিকা কিংবা ঘরের বউয়ের চরিত্রই করেছেন। তার লম্বা অভিনয় ক্যারিয়ারে অসংখ্য নাটকে তিনি কাজ করেছেন অসংখ্য চরিত্রে। বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তার আলাদা সুনামও রয়েছে। তবে তার অভিনীত সেই চরিত্রগুলোর মূল্যবোধের জায়গা ছিল সাদা অথবা কালো। কিন্তু ‘ফ্রাইডে’র রাহেলা ধূসর প্রকৃতির। যেমন আমাদের চারপাশের মানুষ। প্রতিটি মানুষেরই এমন একটি অধ্যায় থাকে, এমন কিছু কার্যক্রম থাকে, যা হয়তো সচরাচর সমাজের কাছে প্রকাশিত হয় না। কিন্তু মানুষ সেই অন্ধকার অধ্যায় একাই বয়ে নিয়ে বেড়ায়। রাহেলা ঠিক তাই, তবে সেই গ্রে শেড রায়হান রাফী চমৎকার করে তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে রাহেলা একজন মমতাময়ী মা, তবে তিনি নিঃস্বার্থ নন। তার কাছেও সংসার টিকিয়ে রাখার খিদে, ভবিষ্যৎকে যতটা পারা যায় ততটাই নিশ্চিত করার আকাক্সক্ষা। এর জন্য তাকে এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হয় যা আপাতদৃষ্টিতে মনে ঘৃণার জন্ম দেবে।

ফ্রাইডে নিয়ে ফারজানা ছবি দেশ রূপান্তরকে বলেন, “পরিচালক রায়হান রাফীর সঙ্গে আমার প্রথম তার ‘টান’ চলচ্চিত্রে, এরপর ‘নিঃশ্বাস’ চলচ্চিত্রেও কাজ করি। এক দিন রাফী আমাকে বললেন, নতুন আরেকটি ছবি করব, আপনার জন্য একটি চরিত্র আছে। একটু বসা দরকার। আমরা মিটিং করলাম, তিনি আমাকে গল্প শোনালেন। এক কথায় মুগ্ধ হলাম। কিন্তু আমার চরিত্র নিয়ে একটু দ্বিধায় ছিলাম। কারণ এখানে আমি প্রাপ্তবয়স্ক দুটি মেয়ের মায়ের চরিত্র করেছি। কিন্তু রাফী আমাকে বললেন, আপনার ওপর আমার আস্থা আছে। আপনি অসাধারণ করবেন এই বিশ্বাস আছে বলেই এমন একটি জটিল চরিত্রে আপনাকে চাইছি। এখানে আপনি শুধু মা নন, আপনার চরিত্রের তিনটি বয়স দেখানো হচ্ছে। একেবারেই তরুণ বয়স থেকে মধ্য বয়স্ক পর্যন্ত দেখানো হবে। মূলত আপনার চরিত্রটি একটি এক্সপেরিমেন্টাল ক্যারেক্টার। তাই এই চ্যালেঞ্জটা আপনি নেবেন কি না আমাকে সিদ্ধান্তটা জানান। আমি অবশ্য সিদ্ধান্ত নিতে একটু সময় নিয়েছি। পরে ভেবে দেখলাম এই গল্পের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং চরিত্রটিই হচ্ছে আমার। তখন মনে হলো, আমার অভিনয়জীবনে আমি অসংখ্য চরিত্রের জন্য চ্যালেঞ্জ নিয়েছি। এই চ্যালেঞ্জটিও আমি নিয়ে দেখতে চাই। কারণ আমি নির্দিষ্ট গণ্ডিতে আটকে থাকতে চাই না। বিভিন্ন মানুষের মধ্যে নিজেকে খুঁজে পেতে চাই অভিনয়ের মাধ্যমে। এরপরই আমি রাহেলা চরিত্রের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত হই। সেই চ্যালেঞ্জে কতটা সফল তা এখন আমার দর্শক বলছেন। শুধু তা-ই নয়, পত্র-পত্রিকা, সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন গ্রুপে আমাকে নিয়ে যেসব কথাবার্তা লেখা হয়েছে সেটি সত্যিই আমার জন্য অসম্ভব অনুপ্রেরণাদায়ক। প্রত্যেকের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।”

রাহেলা চরিত্রটি নির্মাণ প্রসঙ্গে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি সব সময় যে চরিত্রটি করছি তার স্বতন্ত্রভাবে বিবেচনা করি। এটা ভাবিনি যে চরিত্রটির বয়স হতো, কতখানি গ্ল্যামার আছে, দৈর্ঘ্য কতখানি। আমি বরং চরিত্রটির যাপিত জীবন, চড়াই-উতরাই, কতখানি ডাইমেনশন আছে সেই বিষয়গুলোই আমাকে সব সময় আকৃষ্ট করে। সে ক্ষেত্রে ফ্রাইডে ছবিতে আমার চরিত্রটি নিঃসন্দেহে যেকোনো পারফরমারকে আকৃষ্ট করার মতো অসাধারণ চরিত্র। রাহেলা দীর্ঘদিন ধরে একজনের রক্ষিতা। এমন একটি চরিত্রটিকে বিশ্বাসযোগ্য করার জন্য পর্দায় খুবই নান্দনিকভাবে হলেও একটি দৃশ্য দেখানো হয়েছে। সে দৃশ্য করার জন্য অবশ্যই সাহস লাগে। সেই সাহসটি আমি পেয়েছি আমার পরিবার থেকে। কারণ তারা একজন অভিনেতা ফারজানা ছবিকে অসম্ভব সম্মান করে। সেই সাপোর্টের কারণেই আমি মন খুলে নিজেকে মেলে ধরতে পারি। এরপর কৃতজ্ঞতা জানাই আমার দর্শকের প্রতি। তারা এমন একটি আরইউজুয়াল চরিত্রকে সাদরে গ্রহণ করেছেন। আর সবচেয়ে বড় কৃতজ্ঞতা পরিচালক রায়হান রাফীর প্রতি। তিনি আমাকে এমন একটি চরিত্র করার সুযোগ করে দিয়েছেন।’