লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে বাণিজ্য বাড়াতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে লাতিন আমেরিকা-বাংলাদেশ চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এলএবিসিসিআই)। এ চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ল্যাটিন আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন দ্বার উন্মোচিত হলো।
গতকাল বুধবার সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিডা’র নির্বাহী চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন মিয়া বলেন, ‘বিডা এবং এলএবিসিসিআইয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও লাতিন আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নতুন দ্বার উন্মোচিত হলো। এর মাধ্যামে বাংলাদেশের সঙ্গে লাতিন আমেরিকাভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিমাণ দিন দিন বাড়বে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মার্কেটিং অ্যান্ড কমিউনিকেশন নির্বাহী সদস্য (অতিরিক্ত সচিব), মো. মতিউর রহমান, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এলএবিসিসিআই সভাপতি মো. আনোয়ার শওকাত আফসার ও ব্রাজিল অ্যাম্বাসি বাংলাদেশের কমার্শিয়াল স্পেশালিস্ট নাহিদ ফেরদৌসী।
এলএবিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. আনোয়ার শওকাত আফসার বলেন, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন যুগের সূচনা হয়েছে। এলএবিসিসিআই এখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, বিডা থেকে অধিভুক্তি পেয়েছে। এখন লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর ব্যবসায়ী সমাজ এলএবিসিসিআইয়ের সহযোগিতায় বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্যে আরও আত্মবিশ্বাসী হবে।
এ সময় তিনি আগামী ৬-১৭ মে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট বিটুবি (বিজনেস টু বিজনেস) ইভেন্ট ইন লাতিন আমেরিকা-২০২৩’ পরিকল্পনার কথা বলেন। এটি যৌথভাবে বিডা, ডিবিসিসিআই এবং এলএবিসিসিআই নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ, আর্জেন্টিনা এবং ব্রাজিলে আয়োজন করবে। এই মেগা ইভেন্টে অংশ নেবেন বাংলাদেশি ও ইউরোপিয়ান বিশিষ্ট ব্যবসায়ীরা। নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ, আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলে প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।
প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের সম্ভাব্য খাতে এফডিআই আকর্ষণ, ল্যাটিন আমেরিকায় বাংলাদেশি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ, কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, টেক্সটাইল, সয়াবিন, সূর্যমুখী, লৌহ আকরিক, পেট্রোলিয়াম তেল, সার, আরএমজি, কাঠের লগ, পাট, চামড়া ও ওষুধ রপ্তানি ইত্যাদির মতো সেক্টরগুলোর ওপর বিটুবি নেটওয়ার্কিং ও সেমিনার আয়োজন করবে।
লোকমান হোসেন মিয়া বলেন, বাংলাদেশ শুধু ১৭ কোটি মানুষের বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজারই নয়, বরং যথাযথ বিনিয়োগ করলে এখান থেকেই ভারত, চীনসহ দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় ৩০০ কোটির কনজ্যুমার মার্কেটে প্রবেশ করা যাবে। সেই সঙ্গে আমাদের রয়েছে দক্ষ তরুণ জনগোষ্ঠী যা বিনিয়োগকারীদের সহজেই আকর্ষণ করতে পারে। ১০০টি ইকোনমিক জোন, ২৮টি হাইটেক পার্ক, এবং বিশ্বের ২য় শীর্ষ ফ্রিল্যান্সার দেশ বাংলাদেশ, তাই বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ নিরাপদ বিনিয়োগের গন্তব্য।