মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় পানি সংকটের কারণে বিপাকে পড়েছেন কমলাচাষিরা। বর্তমানে কমলাগাছে ফুল আসার মৌসুম। কিন্তু পানির অভাবে কমলার ফুল এবং খুদে ফল ঝরে পড়ে যাচ্ছে। কমলা ছাড়াও আদা (জামির) লেবু, বাতাবি লেবু, জাড়া লেবু, সাতকড়া, করুন, কাঁটা, মাল্টাসহ বিভিন্ন জাতের লেবুজাতীয় ফসলের ক্ষেত্রেও একই সমস্যা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় কৃষি অফিসও সেচ দেওয়ার বিষয়ে নিজেদের অক্ষমতার কথা জানিয়েছেন। তারা কৃষকদের কৃত্রিম উপায়ে পানির ব্যবস্থা করার পরামর্শ দিয়েছেন।
জানা যায়, মৌলভীবাজারের সীমান্তবর্তী জুড়ী উপজেলায় সমতল ও উঁচুনিচু পাহাড়ে চাষ হয় সিলেটের বিখ্যাত সবুজ কমলা। নাগপুরি ও খাশি দুই জাতের সবুজ রসালো কমলার সুনাম রয়েছে দেশে-বিদেশে। কমলাসহ লেবুজাতীয় ফসলের আবাদ হয় উপজেলার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের লাঠিটিলা, লালছড়া, রূপাছড়া, জড়িছড়া, হায়াছড়া, শুকনাছড়া, ডোমাবাড়ী ও কচুরগুল এলাকায়। রয়েছে ছোটবড় প্রায় ৮৫টি কমলা বাগান। কিন্তু পানি সংকট ও বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে একটি দুটি করে গাছ মরে গিয়ে এগুলো এখন অনেকটা বিলুপ্তির পথে।
স্থানীয় কমলা চাষীরা জানান, দিন দিন কমছে কমলার উৎপাদন! কমলা চাষের মতো পেশায় সময় দিয়ে এখন আগের মতো জীবিকা চলে না। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে জীবিকা নির্বাহ করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে আরেকটি সমস্যা তীব্র খরা। এ বছর সময় মতো বৃষ্টি হয়নি। তীব্র খরার কারণে কমলার ফুল ঝরে যাচ্ছে। এতে কমলার উৎপাদন অনেক কম হওয়ার শঙ্কায় চাষীরা।
ডোমাবাড়ী এলাকার প্রবীণ কমলা চাষী সফিক উদ্দিন বলেন, ‘এই মৌসুমে বৃষ্টি না হলে মানুষের খাওয়ার পানিরই সংকট দেখা দেয়। আর লেবুজাতীয় ফসল টেকানো তো কঠিন! গভীর নলকূপ হলে পাম্প দিয়ে যদি সেচের কোনো ব্যবস্থা করা হয় তাহলে এমন খরায় হয়তো কমলা ফল টিকবে। আর না হয় লেবুজাতীয় ফল দিনদিন যেভাবে কমছে এক সময় শেষ হয়ে যাবে।’
এ বিষয়ে জুড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন বলেন, ‘সরকারিভাবে কমলা বাগানে সেচের জন্য কৃষি অধিদপ্তর থেকে কোনো সুযোগ-সুবিধা নেই। তবে ব্যক্তিগতভাবে পানির বোতল ছিদ্র করে গাছের গোড়ায় সন্ধ্যার সময় রাখলে কিছু পানির তৃপ্তি পূরণ হবে। কারণ কমলার ফুলের মৌসুমে এই এলাকায় পানির খুব সংকট হয়। এটি মোকাবিলা করার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধি অবলম্বন করতে হবে। এতে একেবারে ফুল ঝরে যাওয়ার চেয়ে কিছুটা রক্ষা হবে।’
লেবুজাতীয় ফসলের সম্প্রসারণ উৎপাদন ও কৃষক উদ্বুদ্ধকরণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ফারুক আহমেদ বলেন, ‘দেশে ভিটামিন-সির চাহিদা পূরণের জন্য লেবুজাতীয় ফসলের গুরুত্ব অপরিসীম। তবে জুড়ীর যে এলাকায় কমলার আবাদ হয় এই এলাকায় পানির তীব্র সংকট। আমরা চেষ্টা করছি কীভাবে কৃষকদের সেচের ব্যবস্থা করে দেওয়া যায়। সে বিষয়ে আমরা প্রদক্ষেপ নেব।’