কার্ডে বিদেশি মুদ্রা লেনদেনে চারগুণের বেশি প্রবৃদ্ধি

বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারীর আঘাত ও ২০২২ সালের প্রথম দিকে দেশের ডলার সংকটের কারণে কার্ডের মাধ্যমে বিদেশি মুদ্রার লেনদেন বেড়েছে ব্যাপক হারে। বিশেষ করে, ২০২১ সালের জানুয়ারিতে নীতিমালা সহজ করায় কার্ডে বিদেশি মুদ্রার লেনদেন বেড়েছে। গত দুই বছরে মানুষ কার্ডে বিদেশি মুদ্রার লেনদেন বাড়িয়েছে ৩৩৯ শতাংশ। একই সঙ্গে কার্ডে দেশি মুদ্রার লেনদেনও বেড়েছে প্রায় ৯০ শতাংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২১ সালের জানুয়ারিতে কার্ডের মাধ্যমে বিদেশি মুদ্রার লেনদেন হয়েছিল ১৪১ কোটি ৪০ লাখ টাকা। চলতি বছরের জানুয়ারিতে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২০ কোটি ৩০ লাখ টাকা। অর্থাৎ দুই বছরে কার্ডে বিদেশি মুদ্রার লেনদেন বেড়েছে ৩৩৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ। শুধু বিদেশি মুদ্রাই নয়, কার্ডের মাধ্যমে দেশি মুদ্রারও লেনদেন বেড়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে দেশি মুদ্রার লেনদেন হয়েছে ৩৯ হাজার ১৩৭ কোটি টাকা, যা ২০২১ সালের একই সময়ে ছিল ২০ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে কার্ডে দেশি মুদ্রার লেনদেন বেড়েছে ৮৯ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলেছেন, ভ্রমণ, চিকিৎসা, শিক্ষা ও ব্যবসার কাজে অনেকেই বিদেশে কার্ডের মাধ্যমে ডলার নিয়ে যাচ্ছেন। সে কারণে কার্ডের মাধ্যমে ডলারের লেনদেন বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মানুযায়ী, কার্ডে বছরে খরচ করা যাবে সর্বোচ্চ ১২ হাজার ডলার। গ্রাহকদের কাছে নগদ ও কার্ডে দুভাবেই ডলার বিক্রি করে ব্যাংক। দেশে অনেক আগেই ক্রেডিট কার্ডে বিদেশি মুদ্রা লেনদেনের অনুমোদন দেওয়া হয়। আর ২০২০ সালের জুনে ব্যাংকগুলোকে গ্রাহকদের হিসাবের বিপরীতে আন্তর্জাতিক ডেবিট কার্ড ইস্যুর অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আর ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ডলার আয় করলে তা কার্ডে নিতে ঘোষণা দেওয়ার বিধান রহিত করে। এর আগে কার্ডে ডলার নেওয়ার ক্ষেত্রে পাসপোর্টে ঘোষণা বা এনডোর্সমেন্ট করতে হতো।

প্রায় এক বছর ধরে দেশে ডলারের সংকট চলছে। বর্তমানে আন্তঃব্যাংক লেনদেনে প্রতি ডলারের সর্বোচ্চ দর ১০৭ টাকা। আর সর্বনিম্ন দর ছিল ১০৬ টাকা ৬৫ পয়সা। এক বছর আগে এই ডলারের দর ছিল ৮৫ টাকা ৭০ পয়সা। খোলাবাজার বা কার্ব মার্কেটে ডলারের দর বেড়ে ১২০ টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এখন ১১২ টাকা ২০ পয়সা বিক্রি হচ্ছে।

এ বিষয়ে বেসরকারি মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এবং ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ মাহবুবুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘করোনা-পরবর্তী সময়ে এখন আগের মতোই মানুষজন ভ্রমণ, চিকিৎসাসহ বিভিন্ন কারণে বিদেশে যাচ্ছেন। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার ব্যবহার বাড়ছে। আর এ ব্যবহার নগদের বদলে কার্ডে বেশি হচ্ছে। এ ছাড়া বাইরের দেশে এখন অনেকেই নগদ মুদ্রা ব্যবহার করতে চান না। ফলে আগের চেয়ে কার্ডের মাধ্যমে মুদ্রার লেনদেন বেড়ে গেছে।’

এদিকে, কার্ডের মাধ্যমে বিদেশি মুদ্রা লেনদেনে বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন সুবিধা দিলেও গ্রাহকদের বিদেশি কোম্পানি থেকে পণ্য কিনতে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়, আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ড দিয়ে আমদানি নিষিদ্ধ পণ্য ও সেবা ছাড়া বৈধ যেকোনো পণ্য ও সেবা ক্রয়ে অনুমোদিত লেনদেন হিসেবে বিবেচিত হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য মতে, বাংলাদেশি একজন নাগরিক ভ্রমণের জন্য বছরে ১২ হাজার ডলার সঙ্গে নিতে পারবে। চিকিৎসার জন্য অনুমতি ছাড়া ১০ হাজার ডলার এবং শিক্ষার জন্য গ্রেড-১২-এর নিচে বাইরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যত লাগবে তত নিতে পারবে।