রাজধানীতে মশা নিয়ন্ত্রণে গত ২৭ বছরে সিটি করপোরেশন ১ হাজার ২৭৫ কোটি টাকা খরচ করেছে। এতে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বরং দিনে দিনে মশা বেড়েছে। মশাবাহিত ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মতো রোগ নগরবাসীর আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঢাকা মহানগরে মশা নিয়ন্ত্রণ কেন সম্ভব হয়নি, সেই প্রশ্নের উত্তর জানা গেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলামের কাছ থেকেই। গত জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম দেখে তিনি বলেছিলেন, ঢাকা শহরে মশা নিধনে যে প্রক্রিয়ায় কাজ করা হয় তা ভুল।
মেয়রের এই স্বীকারোক্তি ধরে নিলে এত দিন যে ভুল পদ্ধতিতে মশা নিধনের কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে, তাতে এর পেছনে যে খরচ হয়েছে তা পুরোটাই গচ্চা গেছে।
কীটতত্ত্ববিদদেরও অভিমত, জনগণের রাজস্বের বিপুল পরিমাণ এই অর্থ গচ্চা যাওয়ার কারণ সিটি করপোরেশনের মশা নিধনে অবৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া।
তাদের মতে, সিটি করপোরেশন মশা নিয়ন্ত্রণকাজ কখনো বিজ্ঞানভিত্তিক প্রক্রিয়ায় পরিচালনা করেনি। কীটতত্ত্ববিদৎরা বিজ্ঞানভিত্তিক উপায়ে মশা নিয়ন্ত্রণের কাজ পরিচালনার পরামর্শ দিলেও সিটি করপোরেশন সেসব শোনেনি।
মশা নিধনে ২৭ বছরে খরচ : ১৯৯৬-৯৭ থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছর পর্যন্ত ২৭ অর্থবছরে ঢাকা সিটি করপোরেশনের বাজেট পর্যালোচনা করে মশা নিয়ন্ত্রণকাজে বিপুল পরিমাণ অর্থ অপচয়ের ভয়াবহ চিত্র বেরিয়ে এসেছে। এ সময় মশার ওষুধ কেনা, ওষুধ ছিটানো, ওষুধ দিয়ে ধোঁয়া দেওয়া, মালামাল পরিবহন, যন্ত্রপাতি কেনায় খরচ হয়েছে ৭৬৯ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। এ সময় মশা নিয়ন্ত্রণকাজের সঙ্গে যুক্ত থাকা কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দেওয়া হয়েছে ৫০৬ কোটি ২৭ লাখ ১০ হাজার টাকা। অর্থাৎ, এই দুই খাতে মশা মারার নামে সিটি করপোরেশন খরচ করেছে ১ হাজার ২৭৫ কোটি ৬১ লাখ ১০ হাজার টাকা।
১৯৯৬-৯৭ থেকে ২০১১-১২ অর্থবছর বা ১৬ বছর সময়কাল অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশন (ডিসিসি) ছিল। এ সময় ওষুধ কেনা ও ওষুধ প্রয়োগে খরচ হয়েছে ২১৪ কোটি ৮ লাখ টাকা। ওই সময় মশার যন্ত্রপাতি ক্রয়ে খরচ হয়েছে ১৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ খরচ করেছে ৯২ কোটি ১৬ লাখ টাকা। ২০১২-১৩ অর্থবছর থেকে ডিসিসি ভাগ হয়ে ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নামে পরিচালিত হচ্ছে। চলতি (২০২২-২৩) অর্থবছর পর্যন্ত ১১ বছরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ওষুধ কেনা এবং ওষুধ প্রয়োগে খরচ করেছে ১৭৯ কোটি ৮১ লাখ টাকা। যন্ত্রপাতি কেনায় খরচ করেছে ২৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। মশক বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধে খরচ করেছে ২৮৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। আর একই সময়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ওষুধ কেনা ও প্রয়োগে খরচ করেছে ৩২২ কোটি ২ লাখ টাকা। আর যন্ত্রপাতি ক্রয়ে খরচ করেছে ৩৯ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতায় খরচ হয়েছে ২২৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।
ডিসিসির বাজেট বই পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ১৯৯৬-৯৭ অর্থবছরে ওষুধ কেনা ও ওষুধ ছিটাতে খরচ করা হয়েছে ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। আর যন্ত্রপাতি কেনায় খরচ হয়েছে ৫ লাখ টাকা। ভাগ হওয়ার সময় ২০১১-১২ অর্থবছরে ওষুধ কেনা ও প্রয়োগে খরচ হয়েছে ৭ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। ওই বছরে যন্ত্রপাতি কেনায় খরচ হয়েছে ২ কোটি টাকা।
ডিএসসিসির বাজেট পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০১২-১৩ অর্থবছরের ওষুধ কেনা ও ছিটানোয় খরচ হয়েছে ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। আর যন্ত্রপাতি কেনায় খরচ ২ কোটি টাকা। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরে ওষুধ কেনা ও প্রয়োগে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২৫ কোটি টাকা। যন্ত্রপাতি কেনায় বরাদ্দ ২ কোটি টাকা।
ডিএনসিসির বাজেট পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ওষুধ কেনা ও ছিটানোয় খরচ করা হয়েছে ৫ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। আর যন্ত্রপাতি কেনায় খরচ ৬৫ লাখ টাকা। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরে ওষুধ কেনা ও প্রয়োগে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৭৬ কোটি টাকা। আর যন্ত্রপাতি কেনায় বরাদ্দ ২৫ কোটি টাকা।
বেতন-ভাতায় খরচ : ১৯৯৬-৯৭ থেকে ২০১১-১২ অর্থবছর পর্যন্ত ১৬ বছরে ডিসিসির মশক নিধন বিভাগের জনবল ছিল ১৬০ জন। এরা স্থায়ী বা নির্ধারিত বেতনভুক্ত ছিলেন। এদের মাসিক গড় বেতন ছিল ৩০ হাজার টাকা। ডিসিসি তাদের মাসিক বেতন ৪৮ লাখ টাকা করে পরিশোধ করেছে। এই হিসাবে ডিসিসির সময়কালে ৯২ কোটি ১৬ লাখ টাকা বেতন-ভাতায় খরচ হয়েছে।
ডিএসসিসির মশক নিধন বিভাগের বর্তমান স্থায়ী জনবল ৩৭৫ জন। এরা সবাই সরকারি বেতন কাঠামোতে বেতন-ভাতা পেয়ে থাকেন। এদের মাসিক গড় বেতন ন্যূনতম ৫০ হাজার টাকা। সেই হিসাবে ডিএসসিসি স্থায়ী জনবলের মাসে বেতন-ভাতা দিচ্ছে ১ কোটি ৮৭ লাখ ৫০ হাজার। গত ১১ বছরে বেতন-ভাতায় খরচ ২৪৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এর বাইরে ডিএসসিসির মশক নিধন বিভাগে তিন বছর ধরে অস্থায়ীভাবে কাজ করছে ৭১০ জন। এদের দৈনিক গড় বেতন ৫৫০ টাকা। সেই হিসাবে দৈনিক বেতন খাতে খরচ ৩ লাখ ৯০ হাজার ৫০০ টাকা। আর প্রতি মাসে ১ কোটি ১৭ লাখ ১৫ হাজার টাকা। এই হিসাব ৩ বছর তাদের বেতন দেওয়া হয়েছে ৪২ কোটি ১৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
ডিএনসিসির স্থায়ী জনবল রয়েছে ৩০০ জন। এদের মাসিক গড় বেতন-ভাতা ৫০ হাজার টাকা। এই হিসাবে মাসিক বেতন ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। গত ১১ বছরে তাদের বেতন-ভাতা বাবদ ১৯৮ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। আর অস্থায়ী জনবল রয়েছে ৬১২ জন। দৈনিক ৬০০ টাকা হারে মজুরি দেওয়া হচ্ছে। সে হিসাবে দৈনিক মজুরি দাঁড়ায় ৩ লাখ ৬৭ হাজার ২০০ টাকা। আর মাসে ১ কোটি ১০ লাখ ১৬ হাজার টাকা। গত দুই বছর এসব কর্মীর বেতন-ভাতা বাবদ দেওয়া হয়েছে ২৬ কোটি ৪৩ লাখ ৮৪ হাজার টাকা।
মশক নিয়ন্ত্রণে গলদ : ঢাকার বয়স ৪০০ বছর বা তারও বেশি। আবহাওয়া ও জলবায়ুগত কারণে এ অঞ্চলে শুরু থেকেই মশার কম-বেশি উপদ্রব ছিল। নগর সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে মশার উপদ্রবও বেড়েছে।
ডিএনসিসির ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক সুবিধার কথা বিবেচনা করে ১৮৬৪ সালের ১ আগস্ট ঢাকা পৌরসভা গঠিত হয়। সে সময় পৌরসভার মাধ্যমে মশক নিয়ন্ত্রণ বা পরিচ্ছন্নতার কাজ পরিচালনা করা হয়েছে। ১৯৭৭ সালের পৌরসভা অধ্যাদেশ জারি হওয়ার পর থেকেই চেয়ারম্যানের সঙ্গে সঙ্গে ওয়ার্ড কমিশনার নির্বাচিত হওয়ার পদ্ধতি চালু হয়। ওই অধ্যাদেশ বলে ১৯৭৮ সালে ঢাকা পৌরসভা ঢাকা সিটি করপোরেশনে পরিবর্তিত হয়। নাগরিক সেবা সহজীকরণের লক্ষ্যে সরকার ২০১১ সালে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ নামে দুই সিটি ভাগ করে। ঢাকা নগর সংস্থার ১৫৯ বছরের মশক নিধনের সফলতার গল্প নেই বললেই চলে। শুধু চল্লিশের দশকে তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাবীবুল্লাহ বাহার ঢাকার মশা নিয়ন্ত্রণ করে সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন। তার কাজের সফলতার বিশ্লেষণে মশক নিয়ন্ত্রণের সফলতা বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়। এরপর আর কোনো স্বাস্থ্যমন্ত্রী, পৌর মেয়র, প্রশাসক বা সিটি মেয়র ঢাকার মশা নিয়ন্ত্রণে সফলতা দেখাতে পারেননি।
মশার লার্ভা নিধনে লার্বিসাইডিং এবং উড়ন্ত মশক নিধনে ফগিং কার্যক্রম সেই ২০০০ সাল থেকে চলে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিকল্প পদ্ধতি হিসেবে রাজধানীর জলাশয়ে হাঁস, ব্যাঙ ও গাপ্পি মাছ ছেড়ে লার্ভা নিধনের চেষ্টা চালাতে দেখা গেছে। আর কদমগাছ রোপণ করে সেখানে ফিঙে পাখির আগমন ঘটিয়ে উড়ন্ত মশা নিধনের চেষ্টাও চালানো হয়েছে। এ ছাড়া ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে দুর্গম জলাশয়ে ওষুধ ছিটিয়ে মশার উপদ্রব কমানোর তৎপরতাও চোখে পড়েছে নগরবাসীর। এত কিছুর পরও মশার উপদ্রব একটুও কমেছে বলে মনে করেন না ভুক্তভোগী ঢাকাবাসী।
কিউলেক্স মশার পাশাপাশি ২০০০ সাল থেকে ডেঙ্গু ভাইরাস বহনকারী এডিসের প্রাদুর্ভাব শুরু হয়েছে। গত দুই দশকের বেশি সময় ধরে ঢাকাবাসী এডিস, কিউলেক্স মশার উপদ্রব সমানতালে সহ্য করছে।
এর মধ্যে এডিসবাহিত ডেঙ্গু জ¦র বড় আতঙ্কেও কারণ হয়ে উঠেছে। ২০০০ সালে যেখানে ৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, সেখানে গত বছর রেকর্ড ২৮১ জন মারা গেছে এ রোগে। এর আগে ২০১৯ সালে মারা গেছে ১৭৯ জন। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি ও বেসরকারি জলাশয় পরিষ্কার না রাখা, পতিত জমিতে আবর্জনার ভাগাড় ও সেখানে জমে থাকা পানি, ঢাকনাযুক্ত ড্রেন এবং দুই ভবনের মাঝখানের ফেলে রাখা আবর্জনা মশা প্রজননের বড় উৎস। কর্তৃপক্ষ বিষয়গুলো পরিষ্কারভাবে জানলেও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারছে না। এর সমাধান বের করার বিষয়েও তাদের কোনো আগ্রহ নেই।
বিশেষজ্ঞ অভিমত : কীটতত্ত্ববিদ ড. মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, সিটি করপোরেশন অবৈজ্ঞানিক বা ভুল পদ্ধতিতে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তাদের সঠিক পরামর্শ দিলেও কখনো সে পরামর্শমতো কাজ করেনি। এজন্য মশা মারার নামে বছরে বিপুল অর্থ খরচ করলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।
তিনি বলেন, ‘জনগণের এই অর্থ অপচয় করেছে সিটি করপোরেশন। সংশ্লিষ্ট দুর্নীতিবাজরা লুটপাটও করেছে। মশার কমা বা বাড়া মূলত আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে। মশক নিধনে কার্যকর সুবিধা পেতে হলে সিটি করপোরেশনকে বিজ্ঞানভিত্তিক উপায়ে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।’
জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি মেম্বার কীটতত্ত্ববিদ ড. জি এম সাইফুর রহমান বলেন, কখনো সিটি করপোরেশন সঠিক নিয়মে মশা নিয়ন্ত্রণকাজ করেনি। অনেক দিন পর হলেও মেয়র আতিকুল ইসলাম সেটা স্বীকার করেছেন। এখন তাদের উচিত সঠিক নিয়মে কাজ করা। ভুল স্বীকার করে বসে থাকলে চলবে না।
কর্তৃপক্ষের অভিমত : ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. জোবায়দুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম ঢেলে সাজানোর কাজ এরই মধ্যে শুরু করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে। আর নিজস্ব ল্যাব স্থাপনের চিন্তা করা হচ্ছে। ল্যাব থাকলে তখন নিজস্ব উপায়ে মশার প্রজনন স্পট চিহ্নিত করে ত্বরিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবে। কর্মীদেরও প্রশিক্ষণের আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
ডিএসসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ফজলে সামছুল কবির দেশ রূপান্তরকে বলেন, ডিএসসিসির মশক নিয়ন্ত্রণকাজে কিছুটা দুর্বলতা রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম নিজস্ব ল্যাব না থাকা। এসব দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে ডিএসসিসি সচেষ্ট রয়েছে। তবে ডিএসসিসির বর্তমান মেয়রের নেতৃত্বে সংস্থার মশক নিয়ন্ত্রণকাজের সক্ষমতা অনেক গুণ বেড়েছে। যেকোনো মশক নিয়ন্ত্রণে নতুন প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানভিত্তিক পরামর্শ গ্রহণে আগ্রহী তারা।