নাইকো দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার বিচার শুরু

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ নয়জনের বিরুদ্ধে নাইকো দুর্নীতি মামলার বিচারকাজ শুরুর আদেশ এসেছে আদালত থেকে। আগামী ২৩ মে এ মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেছে আদালত। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯-এর বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান গতকাল রবিবার আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে সাক্ষ্য গ্রহণের এ আদেশ দেন।

মামলাটির বিচারকাজ চলছে কেরানীগঞ্জে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে অস্থায়ী এজলাসে। ২০০৭ সালে জরুরি সরকারের সময় দায়ের হওয়া আলোচিত এ মামলার বিচারকাজ ১৫ বছরের বেশি সময় পর শুরু হচ্ছে।

এর আগে ২০১৮ সালে দুটি দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে খালেদা জিয়া জেলে যান। করোনার প্রকোপ বাড়ার পর নির্বাহী আদেশে সাজা স্থগিত করে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

গতকাল আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে তার আইনজীবীরা হাজিরা দেন। মামলার অন্য আসামি জ¦ালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সিএম ইউছুফ হোসাইন ও ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন অভিযোগ গঠনের সময় নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। আর মামলার অন্য আসামি ঢাকা ক্লাবের সাবেক সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া পলাতক থাকায় তার জামিন বাতিল করে তাকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি করে আদালত।

আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল।

অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন সম্পূর্ণ নির্দোষ। এ মামলার ঘটনার অভিযোগের সঙ্গে তার কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা নেই। মামলাটি যে ভুয়া তা আমরা সাক্ষীদের জেরার মাধ্যমে প্রমাণের চেষ্টা করব।’

অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, ‘এর আগে তার (খালেদা জিয়া) বিরুদ্ধে বিচারিক আদালতে দুটি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এ মামলা দীর্ঘদিন বিচারের অপেক্ষায় ছিল। সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে এ মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হবে।’

সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানান, বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, পেট্রলবোমা ছুড়ে আগুন দেওয়ার ঘটনায় হুকুমদাতা, মানহানির মতো অভিযোগে অন্তত ৩৬টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে দুটি মামলায় ১৭ বছরের কারাদ- পাওয়া খালেদা জিয়া ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাবন্দি ছিলেন। ২০২০ সালের ২৫ মার্চ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা অনুযায়ী সরকার নির্বাহী আদেশে তার সাজা স্থগিত করলে কারাবাস থেকে মুক্তি পান তিনি। এরপর তার মুক্তির মেয়াদ কয়েক দফায় বাড়ানো হয়। এ ছাড়া অন্যসব মামলায় জামিনে রয়েছেন তিনি।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় ১০ বছরের সাজার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে এবং জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিচারিক আদালতে হওয়া সাত বছরের সাজার বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার আপিল হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। অন্য মামলাগুলোর মধ্যে গ্যাটকো মামলা, বড় পুকুরিয়া কয়লা খনি মামলাসহ বেশ কিছু মামলা রয়েছে অভিযোগ গঠনের পর্যায়ে।

২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর রাজধানীর তেজগাঁও থানায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় কানাডার প্রতিষ্ঠান নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতি ও দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয় খালেদা জিয়া ও অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে। ২০০৮ সালের ৫ মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় দুদক। এতে আসামিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়। এ মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেনকে আসামি করা হলেও তারা মৃত্যুবরণ করায় তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়।