রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। ১৭ মার্চ তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত আইসিসি। তবে এই পরোয়ানা দীর্ঘ এক প্রক্রিয়ার প্রাথমিক ধাপ মাত্র। লিখেছেন- নাসরিন শওকত
বৈশি^ক রাজনীতির প্রধান ইস্যু এখন ইউক্রেন যুদ্ধ। যে যুদ্ধের মূল দুই প্রতিপক্ষ পূর্ব ইউরোপের প্রতিবেশী দেশ রাশিয়া ও ইউক্রেন। দুপক্ষের ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির মধ্যেই এই যুদ্ধকে ঘিরে ভাগ হয়ে পড়েছে বৈশি^ক সম্প্রদায়। ইউক্রেনের পক্ষে থেকে অস্ত্র ও কৌশলগত সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা জোট ন্যাটোর প্রভাবশালী দেশগুলো। অন্যদিকে রাশিয়ার কৌশলগত অংশীদার হয়েছে চীন, ইরান, উত্তর কোরিয়া ও সিরিয়ার মতো দেশগুলো।
২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালায় রাশিয়া। এই হামলা চালানোর পর থেকে মস্কোর বিরুদ্ধে একের পর এক যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ উঠছে। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বিপর্যয়কর এই যুদ্ধের এক বছর পূর্ণ হয়েছে। এরই মধ্যে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের বিরুদ্ধে প্রথমবারের মতো যুদ্ধাপরাধের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত।
কিয়েভের অন্যতম সহযোগী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, ইউক্রেনের যুদ্ধাপরাধে রুশ নেতা পুতিনকে অভিযুক্ত করার মতো যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে। কিন্তু এ ধরনের একটি প্রভাবশালী মামলার ক্ষেত্রে বাস্তব ও যৌক্তিক সমস্যার অন্ত নেই। প্রেসিডেন্ট পুতিনকে এই বিচারের আওতায় আনার প্রক্রিয়াটি কেমন হতে পারে, তা নিয়ে সংবাদ মাধ্যম বিবিসি এক বিশ্লেষণ হাজির করেছে। যেখানে বলা হচ্ছে, রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের বিরুদ্ধে হেগের অপরাধ আদালতের এই পরোয়ানা জারি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়ার প্রাথমিক ধাপ ছাড়া আর কিছুই নয়।
যুদ্ধাপরাধ কী
যুদ্ধাপরাধের আন্তর্জাতিক কমিটি রেডক্রস বলছে, ‘সব সময় এমন নাও হতে পারে, তবে যুদ্ধের নিজস্ব কিছু নিয়ম আছে।’ এই নীতিমালা হলো যুদ্ধ সংক্রান্ত ওই সমস্ত আন্তর্জাতিক আইন ও চুক্তি যা জেনেভা কনভেনশন নামে পরিচিত। এই কনভেশনের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো যুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক নাগরিকের ওপর সামরিক বাহিনীর আক্রমণ না করা। এমনকি তাদের বেঁচে থাকার অবলম্বন স্কুল বা হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক স্থাপনার ওপর হামলা না চালানো। এই কনভেশনে যুদ্ধে বন্দি আহত বা অসুস্থ সেনাদের যত্ন নেওয়ার কথা যেমন বলা আছে, তেমনি নির্যাতন ও শিশুদের সৈন্য হিসেবে ব্যবহারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই নিয়মের আওতায় স্থলমাইন, জীবাণু বা রাসায়নিকের মতো গণবিধ্বংসী কিছু অস্ত্রের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আরও মোটা দাগে খুন, ধর্ষণ বা গণনিপীড়নের মতো গুরুতর অপরাধ ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ বা ‘গণহত্যা’ হিসেবে বিবেচিত। যুদ্ধকালীন এই নীতিমালার লঙ্ঘনই যুদ্ধাপরাধের শামিল।
যুদ্ধাপরাধের যত অভিযোগ
প্রেসিডেন্ট পুতিনকে ইউক্রেনে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত করেছে আইসিসি। ১৭ মার্চ তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির ঘোষণা দিয়ে হেগের এই আদালত বলেছে, ‘তিনি যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই ইউক্রেনের অধিকৃত অঞ্চল থেকে বেআইনিভাবে শিশুদের জোর করে রাশিয়ায় সরিয়ে নিয়েছেন। এ বিষয়ে তাদের হাতে যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ রয়েছে।’ আদালত বলছে, মস্কো গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে অভিযান শুরুর পর থেকেই এই অপরাধ ঘটে চলেছে। একই অভিযোগে রুশ প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের শিশু অধিকার বিষয়ক কমিশনার মারিয়া এলভোভা-বেলোভারের বিরুদ্ধেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আইসিসি।
এদিকে কিয়েভ অভিযোগ করে বলেছে, গত ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে অভিযান শুরুর পর থেকে রাশিয়া কমপক্ষে দশ হাজারের মতো সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ করেছে। তাদের প্রধান অভিযোগ, রাশিয়ার জোর করে দখল করা অঞ্চল থেকে শিশুদের মস্কোয় নিয়ে আটকে রাখছে।
এর আগে ইউক্রেনে নিযুক্ত জাতিসংঘের তদন্ত কমিশন বলেছিল, তাদের হাতে কয়েকশ’ ইউক্রেনীয় শিশুকে অবৈধভাবে রাশিয়াতে নেওয়ার প্রমাণ রয়েছে। কমিশনের এক প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, রাশিয়া এমন কিছু নীতি গ্রহণ করেছে, যার বলে ওই শিশুদের জোর করে রাশিয়ার নাগরিকত্ব নিতে বাধ্য করা হচ্ছে। এমনকি এরইমধ্যে তাদের দত্তক দেওয়ার ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে, যাতে তারা পাকাপাকিভাবে রাশিয়ায় থেকে যেতে পারে।
জাতিসংঘের তদন্তকারীরা আরও বলছেন, এই স্থানান্তর একটি সাময়িক ব্যবস্থা হওয়ার কথা থাকলেও ‘বেশিরভাগই দীর্ঘ সময়ের জন্য আটকা পড়ছে।’ ফলে এই পরিবারগুলোর পিতামাতা ও সন্তান পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে গিয়ে বড় ধরনের বাধা সম্মুখীন হচ্ছেন। এদিকে ইউক্রেন সরকারের পরিসংখ্যান বলছে, এমন জোর করে নিয়ে যাওয়া শিশুর সংখ্যা ১৬ হাজার ২২১ জন। তবে জাতিসংঘের প্রতিবেদনের পরিশেষে বলা হয়েছে, এই ধরনের জোরপূর্বক স্থানান্তর বা নির্বাসন ‘আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের লঙ্ঘন, যা যুদ্ধাপরাধের শামিল।’
পুতিনকে কি গ্রেপ্তার করা যাবে?
লৌহমানব খ্যাত পুতিন তার জন্মভূমি রাশিয়াতে অপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্ষমতাশালী এক নেতা। তাই ক্রেমলিনের পক্ষে আইসিসির কাছে তাকে হস্তান্তর করার আপাতত কোনো সম্ভাবনাই দেখা যাচ্ছে না। যতক্ষণ পর্যন্ত পুতিন তার নিজ দেশে অবস্থান করছেন, গ্রেপ্তারের কোনো ঝুঁকি নেই। তবে যদি তিনি দেশত্যাগ করেন, তখনই শুধুমাত্র তার গ্রেপ্তার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু যেহেতু নানা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞায় আগে থেকেই তার চলাফেরা সীমিত হয়ে গিয়েছে, তাই তিনি এমন কোন দেশে যাবেন, যে দেশ তাকে যুদ্ধাপরাধ বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করাবে, এমন সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের পর থেকে প্রেসিডেন্ট পুতিন শুধুমাত্র আটটি দেশ সফর করেছেন। এর মধ্যে সাতটি দেশকে রাশিয়া তার নিকটতম প্রতিবেশী বা ‘কাছের দেশ’ হিসেবে বিবেচনা করে থাকে। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার আগে এই সাত দেশ রাশিয়া ফেডারেশনের অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই ক্যাটাগরির মধ্যে না পড়া দেশের একটি হলো ইরান। গত জুলাইয়ে দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির সঙ্গে দেখা করতে তেহরান সফর করেন পুতিন। এদিকে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে ড্রোন ও অন্য সামরিক সরঞ্জাম দিয়ে সহায়তা করছে ইরান। তাই তেহরানে যে কোনো নতুন সফর পুতিনের জন্য সম্ভাব্য বিপদ ডেকে আনতে পারে।
বিচারের মুখোমুখির সম্ভাব্যতা
বর্তমানে ইউক্রেনে সন্দেহভাজন যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ তদন্ত করছে নেদারল্যান্ডসের রাজধানী হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত। ঘটনাচক্রে, এই যুদ্ধের মূল দুই প্রতিপক্ষের (রাশিয়া বা ইউক্রেন) কেউই আইসিসির সদস্য নয়। তবে কিয়েভ এই আদালতের এখতিয়ার স্বীকার করলেও, মস্কো একেবারেই তা মানে না। তাই হেগের আদালতে পুতিনের বিচারের মুখোমুখি হওয়ার ক্ষেত্রে কমপক্ষে বড় দুটি বাধা রয়েছে। প্রথমত, আইসিসির বিচার করার আইনগত অধিকারের স্বীকৃতি দেয় না রাশিয়া। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গঠিত হয় ২০০২ সালে, যার মূল ভিত্তি হলো রোম সংবিধি নামের একটি চুক্তি। ফৌজদারি এই আদালতটির গঠনতন্ত্রে বলা হয়েছে, প্রতিটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব তাদের নিজ দেশের আন্তর্জাতিক অপরাধীদের বিচারকাজ পরিচালনা করা। আইসিসি শুধুমাত্র তখনই হস্তক্ষেপ করে যখন একটি রাষ্ট্র এমন অপরাধীর বিরুদ্ধে তদন্তে অস্বীকৃতি জানায় বা অসমর্থ হয়।
বিশে^র মোট ১২৩টি রাষ্ট্র আইসিসির সদস্য। যাদের সবাই এই আইন মেনে চলতে অঙ্গীকারাবদ্ধ। ব্যতিক্রমের উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ইউক্রেনসহ কয়েকটি দেশ এই চুক্তি সই করলেও শেষ পর্যন্ত আইসিসির অনুমোদন দেয়নি। এদিকে রাশিয়া আইসিসির সদস্য না হওয়ায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে হেগের আদালতে প্রেসিডেন্ট ভøাদিমিরি পুতিনের বিচারের আইনি বৈধতা নাজুক হয়ে পড়েছে।
এবং দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত শুধুমাত্র তার সদস্য দেশগুলোরই বিচারকাজ পরিচালনা করে থাকে। হেগের আদালতের কাঠগড়ায় অভিযুক্তের উপস্থিতি ছাড়া শুনানির কোনো নজির নেই। কারণ অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের ক্ষমতা নেই এই আদালতের। এমন নিয়মের কোনো বিকল্পও নেই। এ কারণেই অভিযুক্তের উপস্থিতি ছাড়া কোনো বিচারকাজ পরিচালনা করে না আইসিসি। সেখানে পুতিনকে বিচারের মুখোমুখি করার ক্ষেত্রে এটাও আরেকটি বাধা।
এ পর্যন্ত বিচারের সম্মুখীন যারা
মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বিচার করার নজির আইসিসির অস্তিত্বের সঙ্গে জুড়ে আছে। দ্বিতীয় বিশ^যুদ্ধ পরবর্তী সময়ের কথা। ১৯৪৫ সালের নুরেমবার্গ ট্রায়ালের মধ্য দিয়ে এর যাত্রা শুরু। তখন হলোকাস্ট ও অন্যসব নৃশংসতার দায়ে অভিযুক্ত নাৎসি জার্মানির শীর্ষ পর্যায়ের সদস্যদের শাস্তি দেওয়ার জন্য এই বিচার অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এই শাস্তি পাওয়াদের মধ্যে ছিলেন নাৎসি নেতা অ্যাডলফ হিটলারের ডেপুটি রুডলফ হেস, যাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় তখন। কিন্তু ১৯৮৭ সালে আত্মঘাতী হন রুডলফ।
তবে এটা নিশ্চিত যে, রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী কোনো অভিযোগ আনা হয়নি। যদিও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস তার (পুতিনের) বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আনা উচিত বলে যুক্তি দিয়েছেন। যদি পুতিনের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আনা হতো, তবে তা আরেকটি আইনি ডিলেইমার (উভয় সংকট) সৃষ্টি করত। এ প্রসঙ্গে জাতিসংঘের বক্তব্যকে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা যায়। জাতিসংঘ বলেছে, ‘যদিও গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধের বিপরীতে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধগুলোকে এখনো আন্তর্জাতিক আইনে একটি কার্যকরী চুক্তি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, তবে তা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
এক্ষেত্রে অন্য মানবাধিকার সংস্থাগুলো, যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্তদের দোষী সাব্যস্ত করা নিয়ে কাজ করছে। এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল সাবেক যুগোশ্লাভিয়ার জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। জাতিসংঘের এই ট্রাইব্যুনালটি, দুই যুগের মধ্যে ৯০ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে এবং সাজাও দেয়। তবে এদের মধ্যে সবচেয়ে কুখ্যাত ছিলেন সাবেক যুগোশ্লাভ প্রেসিডেন্ট স্লোবোদান মিলোসেভিচ। তাকে ক্রোয়েশিয়া, বসনিয়া ও কসোভোতে যুদ্ধাপরাধের জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২০০৬ সালে তিনি বন্দি অবস্থায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান।
আইসিসির নিজস্ব পরিসংখ্যান মতে, ফৌজদারি এই আদালতটি পুতিন ছাড়াও এ পর্যন্ত ৪০ জনকে অভিযুক্ত করেছে, যাদের সবাই আফ্রিকা মহাদেশের। এর মধ্যে ১৭ জনকে হেগে আটক করা হয়েছিল। বাকি ১০ জনকে অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে এবং চারজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
এই পরোয়ানার প্রভাব
তবে পুতিনের বিরুদ্ধে এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানাকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে দেওয়া সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাদের অভিমত হলো, ইউক্রেনে যা হচ্ছে তা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।
পুতিনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির বিষয়টি প্রকাশ্যে আনা নিয়ে আইসিসি বলেছে, শুরুতে তারা এটি গোপন রাখতে চেয়েছিল। কিন্তু অপরাধটি চলমান থাকায় আর যাতে এরকম অপরাধ না ঘটে, সেজন্য তারা বিষয়টি প্রকাশ করেছে। তবে পুতিনের বিরুদ্ধে হেগের আদালতের এই পরোয়ানাকে প্রত্যাশামাফিক স্বাগত জানিয়েছে রাশিয়ার প্রতিপক্ষ ইউক্রেন।
এদিকে ক্রেমলিনের শীর্ষ কর্মকর্তারা এক জবাবে আইসিসির পরোয়ানা জারিকে অর্থহীন বলে খারিজ করে দেয়। ইউক্রেনে রুশ বাহিনী নৃশংসতা চালিয়েছে হেগের আদালতটির এমন দাবিও অস্বীকার করে তারা। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ হেগের আদালতটির এই সিদ্ধান্তকে ‘আপত্তিজনক’ ও ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেন।
ওই দিনই রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেন, ‘রাশিয়া এই আদালতের বিচারের আওতায় পড়ে না। তাই তারা কী বলল, তা নিয়ে আমাদের কোনো মাথাব্যথা নেই।’ এর আগে মস্কো দাবি করে, তার দেশ আইসিসির সদস্য নয়। তাই তাদের কাছে এই পরোয়ানার কোনো গুরুত্বই নেই। রাশিয়ার এমন বেপরোয়া ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে ধারণা করা যায়, আইসিসির পক্ষ থেকে নেওয়া এই পদক্ষেপগুলো ইউক্রেন যুদ্ধে মস্কোর ওপর তেমন কোনো প্রভাবই ফেলবে না। ফলে অদম্য পুতিন নির্দয়ভাবে ইউক্রেনে তার ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ চালিয়েই যেতে থাকবেন।