আর্থ্রাইটিস সারভাইক্যাল স্পন্ডালাইসিসের চিকিৎসা

ঘাড়ে ব্যথা কারও অল্প সময়ের জন্য হয়, কারও দীর্ঘ সময় থাকে। কেউ অল্প সময় বিশ্রাম নিলে ব্যথা কমে যায়। কিন্তু যখন ঘাড়ের ব্যথার জন্য মাথা চারদিকে নড়াচড়া করতে সমস্যা হয়, তখন তাকে আমরা ঘাড়ে ব্যথা বলে চিহ্নিত করি।

মেডিকেলের ভাষায়, স্কালের নিচ থেকে মেরুদ-ের ওপরের সাতটি হাড়ের সমন্বয়ে গঠিত অংশকে সারভাইক্যাল রিজন বলে থাকে। এই সারভাইক্যাল রিজনকে ঈ১ ঈ২ ঈ৩ ঈ৪ ঈ৫ ঈ৬ ঈ৭ দ্বারা চিহ্নিত করে থাকে। তার সঙ্গে কিছু লিগামেন্ট, মাসল থাকে, যা ঘাড় এবং মাথাকে সংযুক্ত করে। ঘাড়ের যে কোনো ইনজুরির কারণে অথবা মাংসপেশির অতিরিক্ত টানের কারণে অথবা ঘাড়ের হাড়ের ক্ষয়জনিত কারণে ব্যথা বেশি অনুভূত হয়।

কারণ

১. ঘাড় অথবা কাঁধের মাংসপেশি দুর্বল হয়ে যাওয়া। ২. ভুল পজিশনের কারণে অথবা দীর্ঘক্ষণ একই পজিশনে বসে থাকার জন্য। ৩. লিগামেন্ট ইনজুরির কারণে। ৪. ইন্টারভার্টিব্রাল ডিস্কের সমস্যার কারণে। ৫. মাথা বা কাঁধে অতিরিক্ত ভারী কিছু বহন করার জন্য। ৬. দীর্ঘদিন একই পজিশনে কম্পিউটার ও মোবাইল ব্যবহার করার জন্য। ৭. ভ্রমণ করার সময় পেছন থেকে ধাক্কা লাগলে। ৮. উচ্চ বা নিম্ন রক্তচাপের কারণে হতে পারে। ৯. হাড়ের ক্ষয়জনিত কারণে হতে পারে, যেমন- রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস সারভাইক্যাল স্পন্ডালাইসিস পোলিওমাইলাইটিস সারভাইক্যাল ডিস্ক প্রলাপ্স ইত্যাদি।

চিকিৎসা

ঘাড়ে কুসুম গরম পানির সেঁক নিলে উপকার পাওয়া যায়। যাদের কাজের প্রয়োজনে সামনের দিকে ঝুঁকতে হয় তারা ঘাড়ের সাপোর্ট হিসেবে সারভাইক্যাল কলার ব্যবহার করতে পারেন।  ব্যথার ধরন অনুযায়ী কিছু ফিজিক্যাল এবং রেডিওলজিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে চিকিৎসা করা যেতে পারে। ব্যথার ধরন অনুযায়ী রোগীকে কিছু সময়ের জন্য বিশ্রামে থাকতে হতে পারে এবং সাপোর্ট হিসেবে সারভাইক্যাল কলার, সারভাইক্যাল পিলো জাতীয় এক্সেসরিজ ব্যবহার করা লাগতে পারে। যদি ইনজুরির কারণে ব্যথা খুব জটিল পর্যায়ে চলে যায়, তাহলে সার্জারিরও প্রয়োজন হয়।